নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১২:২৭, ১৩ আগস্ট ২০২৬

৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন স্থগিতের রিট

৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন স্থগিতের রিট

ফাইল ছবি

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে চলমান ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. ইউনুছ আলী আকন্দ হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় জনস্বার্থে এই রিটটি দায়ের করেন। রিটে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কেন সংবিধানের মূল চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না এবং এই অনুচ্ছেদটি বহাল থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে। 

আগামী রবিবার (১৬ আগস্ট) হাইকোর্টের বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে রিটকারী আইনজীবী জানিয়েছেন।

রিট আবেদনে প্রধান বিবাদী হিসেবে আইনসচিব ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি যদি উক্ত দল থেকে পদত্যাগ করেন অথবা সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট প্রদান করেন, তবে তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয়ে যাবে। 

রিটকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ তার আবেদনে যুক্তি তুলে ধরেছেন যে, এই বিধানের কারণে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা তাদের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকারকে খর্ব করছে। 

আরও পড়ুন: নির্দিষ্ট মামলা না থাকলে শ্যোন অ্যারেস্ট নয়, হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত

আইনজীবীর দাবি, সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোটদানের অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনা করা যৌক্তিক নয়।

এদিকে, এই রিট আবেদনের মধ্যেই নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘোষিত ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। গত ২৪ জুলাই ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর ইসি নতুন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। 

ঘোষিত সময়সূচী অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ছিল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন পত্র দাখিলের শেষ দিন। এদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত নির্বাচনী কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের দপ্তরে মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার সুযোগ ছিল। 

প্রাপ্ত তথ্যমতে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য বিএনপি দুটি এবং ১১ দলীয় জোট একটি মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছে।

তফসিল অনুযায়ী, নির্বাচনের পরবর্তী ধাপ হিসেবে আগামী ১৬ আগস্ট জমা দেওয়া মনোনয়ন পত্রগুলো বাছাই করা হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট। সবশেষে ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনয়ন দাখিলের তোড়জোড় এবং অন্যদিকে সংবিধানে বর্ণিত সংসদ সদস্যদের ভোট প্রদানের বিধিনিষেধ নিয়ে আইনি লড়াই সামগ্রিকভাবে দেশের রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এখন উচ্চ আদালত এই রিট আবেদনের ওপর কী ধরনের আদেশ প্রদান করেন, তার ওপরই নির্ভর করছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভবিষ্যৎ প্রক্রিয়া।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়