নিজেদের এআই নিয়োগ ব্যবস্থাই এড়িয়ে চলার পরামর্শ গুগলের
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বের শীর্ষ কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে কর্মী নিয়োগে ব্যবহারের জন্য এআই টুল বিক্রি করে গুগল। অথচ খোদ গুগলের গবেষকরাই কর্মী নিয়োগে নিজেদের এআই সিস্টেমের ওপর পুরোপুরি ভরসা করতে পারছেন না। যোগ্য প্রার্থীর সিভি যেন এআইয়ের ভুল ফিল্টারিংয়ে বাদ না পড়ে, সে জন্য চাকরিপ্রার্থীদের একটি বিশেষ ফর্ম পূরণের পরামর্শ দিয়েছে গুগল ডিপমাইন্ডের এজিআই সেফটি টিম।
ব্লুমবার্গের হাতে আসা একটি গোপন নথিতে বলা হয়েছে, গুগলের এআই স্ক্রিনিং সিস্টেমে যোগ্য প্রার্থীর সিভি ভুলবশত বাদ পড়া কিংবা রিক্রুটারদের কাছে পৌঁছাতে দেরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ ঝুঁকি এড়াতে আবেদনকারীদের বিশেষ ওই ফর্ম পূরণের আহ্বান জানানো হয়েছে। এর মাধ্যমে আবেদনগুলো সরাসরি মানব রিক্রুটারের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হবে। তবে নথিতে ফর্মটির তথ্য ব্যাপকভাবে শেয়ার না করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
গুগলের এক মুখপাত্র অবশ্য দাবি করেছেন, তাদের এআই সিস্টেম কোনো প্রার্থীকে ভুলভাবে বাদ দেয় না। তাঁর মতে, রিক্রুটারদের প্রাথমিক বাছাই প্রক্রিয়া এড়িয়ে নির্দিষ্ট টিমের কাছে সরাসরি সিভি পৌঁছে দেওয়ার জন্যই মূলত ফর্মটি তৈরি করা হয়েছে।
বর্তমানে কর্মী নিয়োগে এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। গুগলের ওয়ার্কস্পেস টিমও এ ধরনের প্রযুক্তি বাজারজাত করছে। তবে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এআই ব্যবহারের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিতর্কও রয়েছে।
ব্লুমবার্গের এক তদন্তে চ্যাটজিপিটির বিরুদ্ধে নামের ভিত্তিতে বৈষম্যের প্রমাণ পাওয়ার দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া বর্ণ, বয়স ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতার ভিত্তিতে বৈষম্যের অভিযোগে ওয়ার্কডে ইনকরপোরেটেডের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
আরও পড়ুন: এআই ব্যবহার করে সাইবার হামলা করছে উত্তর কোরিয়া
অন্যদিকে, চাকরিপ্রার্থীরাও আবেদনপত্র ও কভার লেটার তৈরিতে এআইয়ের ব্যবহার বাড়িয়েছেন। এ বিষয়ে ডিপমাইন্ডের গবেষকেরা সতর্ক করে ফর্মে উল্লেখ করেছেন, আবেদনগুলো সত্যিকারের মানুষ পড়বেন। এআই দিয়ে তৈরি গৎবাঁধা উত্তর পড়তে পড়তে তারা বিরক্ত। তাই এআইয়ের সাহায্য ছাড়া নিজেদের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে লেখা আবেদনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি








