৬১৯ কোটি টাকায় ফিরছে ৩ পাটকল
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত তিনটি পাটকল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পুনরায় সচল করতে বেসরকারি দুই শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে লিজ চুক্তি সম্পন্ন করেছে সরকার। এর ফলে প্রায় ৬১৯ কোটি টাকার নতুন বিনিয়োগের পথ সুগম হলো, যা দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের গতির সঞ্চার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বেসরকারি খাতের শক্তিশালী উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। চুক্তি অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলস লিমিটেড এবং খুলনার স্টার জুট মিলস লিমিটেড লিজ পেয়েছে শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ।
অপরদিকে, খুলনার প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলস লিমিটেড-এর পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে হ্যামকো গ্রুপ। বিজেএমসির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কবির উদ্দিন সিকদার নিজ সংস্থার পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পক্ষে কোম্পানি সচিব আমিনুর রহমান এবং হ্যামকো গ্রুপের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ টি এম মোস্তফা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের নথিতে স্বাক্ষর করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোই সরকারের মূল লক্ষ্য।
আরও পড়ুন: চার আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর ঘোষণা, রেজল্যুশন কার্যক্রম শুরু
তিনি জোর দিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষকে অভাবের মধ্যে রেখে রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করা সম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রীর মতে, প্রকৃত উদ্যোক্তাদের নীতি সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমেই একটি শক্তিশালী দেশ গড়া সম্ভব, যেখানে বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি নিজস্ব বিনিয়োগকারীরা সমান গুরুত্ব পাবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই নতুন বিনিয়োগ কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে।
এই প্রকল্পগুলোর বিস্তারিত বিশ্লেষণে দেখা যায়, তিনটি পাটকল সচল হলে কমপক্ষে ১১ হাজার ৬২৯ জনের কর্মসংস্থান হবে। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলস লিমিটেডে ১৫৭ কোটি টাকা বিনিয়োগে ৫ হাজার ২৩৮ জনের কর্মসংস্থান ও বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার টার্নওভারের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। খুলনার স্টার জুট মিলস লিমিটেডে ২৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে একই সংখ্যক কর্মসংস্থান এবং ৫০০ কোটি টাকার টার্নওভারের আশা করা হচ্ছে। এছাড়া খুলনার প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলস লিমিটেডে ২১২ কোটি টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে ১ হাজার ১৫৩ জনের কর্মসংস্থান ও ১৭৫ কোটি টাকার বার্ষিক টার্নওভার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
বিজেএমসির আওতাধীন উৎপাদন বন্ধ থাকা ২৫টি মিলের মধ্যে ২০টিকেই লিজের আওতায় বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় এখন পর্যন্ত ১৪টি মিলের লিজ সম্পন্ন হয়েছে এবং দখল হস্তান্তর করা হয়েছে।
ইতিবাচক দিক হলো, এর মধ্যে নয়টি মিলে ইতিমধ্যে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়েছে। বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, বস্ত্র ও পাট সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








