বাড়ছে ডেঙ্গুর দাপট, ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ২
ফাইল ছবি
চলমান বর্ষা মৌসুমের প্রভাবে সারাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির ক্রমাবনতি অব্যাহত রয়েছে। এডিস মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৩ জনে। একই সময়ে সারাদেশে নতুন করে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭২৩ জন রোগী।
বুধবার (১২ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া দুইজনের মধ্যে একজন খুলনা বিভাগের এবং অপরজন বরিশাল বিভাগের। এ বছরের আগস্ট মাসেই এখন পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য বিশারদদের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। বছরের শুরু থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত দেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ২১ হাজার ৫৫০ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে আশার কথা হলো, মোট আক্রান্তের মধ্যে ১৯ হাজার ৮৯৪ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সর্বমোট ১ হাজার ৫৯৩ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আরও পড়ুন: ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত ৭২৬, মোট ছাড়াল ২০ হাজার
আক্রান্তদের ভৌগোলিক বিস্তৃতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৩২০ জন রোগী নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১০১ জন এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১১২ জন চিকিৎসাধীন আছেন। এ দুই সিটির বাইরে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১০৭ জন। এছাড়া অন্যান্য বিভাগের মধ্যে খুলনা বিভাগে ৯৮ জন, বরিশাল বিভাগে ১০১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৮৩ জন, রাজশাহী বিভাগে ৬৩ জন, ময়মনসিংহে ৪৫ জন, রংপুরে ১২ জন এবং সিলেট বিভাগে একজন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আক্রান্ত ও মৃত্যুর পরিসংখ্যান গত কয়েক বছরের তুলনায় উদ্বেগজনক। উল্লেখ্য, এর আগে ২০০০ সাল থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর তথ্য সংরক্ষণের ইতিহাসে ২০২৩ সাল ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ, যখন মোট ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন আক্রান্ত হয়েছিল এবং রেকর্ড ১ হাজার ৭০৫ জন প্রাণ হারিয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চার শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এবং শনাক্তের সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ২ হাজার। বর্তমান পরিস্থিতির ধারা বজায় থাকলে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ডেঙ্গু পরিস্থিতির এই অবনতির প্রধান কারণ হিসেবে বর্ষাকালীন জমে থাকা স্বচ্ছ পানিকে চিহ্নিত করেছেন কীটতত্ত্ববিদরা। জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভা দ্রুত বংশবিস্তার করে, যা জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ডেঙ্গু সংক্রমণের মূল উৎস। এ বিষয়ে চিকিৎসকরা কঠোর সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন। বাসা-বাড়ির আঙ্গিনা, ফুলের টব, এসির পানি বা পরিত্যক্ত টায়ারে যেন পানি না জমে সেদিকে বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে মশারি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা এবং দিনের বেলায়ও মশার কামড় থেকে বাঁচতে শরীর ঢেকে রাখা পোশাক পরিধানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গু মোকাবিলায় সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








