হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১,০২৫
ছবি: সংগৃহীত
দেশে হাম পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে একজন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৮৪ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং ৯৪১ জনকে সন্দেহজনক হাম রোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ এক দিনে হাম ও হামের উপসর্গ মিলিয়ে নতুন করে আক্রান্ত বা শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ২৫ জন।
বুধবার (১২ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে রাজশাহী বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা ও বরিশাল বিভাগে একজন করে এবং সিলেট বিভাগে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৮৫। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৯৯ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৭৮৬ জন। অর্থাৎ মোট মৃত্যুর প্রায় ৮৯ শতাংশই ঘটেছে সন্দেহজনক বা উপসর্গযুক্ত হাম রোগীদের মধ্যে। এ সংখ্যা দেশের চলমান হাম পরিস্থিতির ব্যাপকতা এবং বিশেষ করে শিশুদের জন্য এর ঝুঁকির মাত্রা নতুন করে সামনে এনেছে।
আরও পড়ুন: হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ শিশুর মৃত্যু
সংক্রমণের চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৪ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে এবং ৯৪১ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। সব মিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট ১ লাখ ৩৯ হাজার ১২৫ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৭ হাজার ৪৬৯ জনের দেহে নিশ্চিতভাবে হামের সংক্রমণ পাওয়া গেছে।
চিকিৎসা সেবার বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮৭৯ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং ৮৪৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১ লাখ ২১ হাজার ১৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ১ লাখ ১৬ হাজার ৮২৭ জন চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ, যা সঠিক সময়ে টিকাদানের মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ মাঠ পর্যায়ে নজরদারি বাড়িয়েছে। বিশেষ করে যেসব বিভাগে মৃত্যুর হার বেশি, সেখানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং দ্রুত রোগ শনাক্তকরণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করতেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দেশব্যাপী চলমান এই স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় অভিভাবকদের সচেতন হওয়া এবং শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কার্ড যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বাস্থ্য বিভাগ সার্বক্ষণিক তদারকি অব্যাহত রেখেছে এবং স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








