তথ্য-প্রযুক্তি ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৫:৩৫, ১২ আগস্ট ২০২৬

ওপেন সোর্স প্রযুক্তিতে মেটার নতুন এআই এজেন্ট ‘মিউজ গ্লিমার’

ওপেন সোর্স প্রযুক্তিতে মেটার নতুন এআই এজেন্ট ‘মিউজ গ্লিমার’

ছবি: সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বাজারে নিজস্ব অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে এবং ক্লাউড নির্ভরতার বিকল্প তৈরি করতে ৩০ বিলিয়ন প্যারামিটার বিশিষ্ট নতুন ওপেন-ওয়েট এআই মডেল মিউজ গ্লিমার (Muse Glimmer) উন্মোচন করেছে প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটা। মেটা সুপারইন্টেলিজেন্স ল্যাবস-এর তৈরি এই মডেলটি বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে ব্যবহারকারীরা ব্যক্তিগত কম্পিউটার বা ম্যাক ডিভাইসে বসেই সার্বক্ষণিক লোকাল এজেন্ট ওয়ার্কফ্লো এবং এআই এজেন্ট পরিচালনা করতে পারেন। সোমবার নিউজরুমে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় মেটা এই তথ্য জানায়।

মিউজ গ্লিমার মডেলটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যেন এটি ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াই অথবা সংযোগসহ স্থানীয় ডিভাইসে নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারে। ফলে ব্যবহারকারীদের ডেটা সুরক্ষার বিষয়টি যেমন নিশ্চিত হয়, তেমনি ডেটা সেন্টারে তথ্য পাঠানোর দীর্ঘসূত্রিতাও দূর হয়।

মেমোরি ও কোয়ান্টাইজেশন: ফুল প্রিসিশন মোডে বা পূর্ণ নির্ভুলতায় এই মডেলটি চালাতে ৫৫ গিগাবাইটের বেশি মেমোরির প্রয়োজন হয়। তবে মেটা ৪-বিট কোয়ান্টাইজেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে মডেলটির আকার ২০ গিগাবাইটের নিচে নামিয়ে এনেছে। এর ফলে ২৪ বা ৩২ গিগাবাইট মেমোরিযুক্ত কনজ্যুমার জিপিইউ সংবলিত পিসি বা ম্যাকেই এটি চালানো সম্ভব।

এজেন্টিক ও মাল্টিমোডাল ক্ষমতা: এটি কেবল সাধারণ চ্যাটবটের মতো প্রশ্নের উত্তরই দেয় না, বরং স্বয়ংক্রিয়ভাবে এজেন্টিক কাজ সম্পন্ন করা, বহু-ধাপযুক্ত যুক্তিনির্ভর কাজ (মাল্টি-স্টেপ রিজনিং), মাল্টিমোডাল ইনপুট ও বিশ্লেষণ, লোকাল ফাংশন কলিং, স্থানীয় কোডিং এবং এলএলএম-অ্যাজ-এ-জাজ মূল্যায়নের মতো জটিল কাজগুলো সফলভাবে পরিচালনা করতে পারে।

ভাষাগত বৈচিত্র্য: ১০০টিরও বেশি ভাষার বিশাল ডেটা ব্যবহার করে মডেলটিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

লাইসেন্স ও ডিস্ট্রিবিউশন: মডেলটির ওয়েট অ্যাপাচি ২.০ (Apache 2.0) লাইসেন্সের অধীনে হাগিং ফেসে (Hugging Face) উন্মুক্ত করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই অলামা (Ollama), এলএম স্টুডিও (LM Studio) এবং আনস্লথ (Unsloth)-এর মতো অ্যাপেও এটি পাওয়া যাবে। এছাড়া এএমডি, আর্ম, ডেল, ইন্টেল এবং এনভিডিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে বিভিন্ন ডিভাইসে এর কার্যকারিতা বাড়াতে কাজ করছে মেটা। llama.cpp, MLX এবং ExecuTorch-এর অপ্টিমাইজড ইন্টিগ্রেশনগুলোও দ্রুতই উন্মুক্ত হবে।

আরও পড়ুন: নিজেদের এআই নিয়োগ ব্যবস্থাই এড়িয়ে চলার পরামর্শ গুগলের

মেটার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গুগলের জেমা৪-৩১বি (Gemma 4-31B) এবং আলিবাবার কিউওয়েন ৩.৬-২৭বি (Qwen 3.6-27B) মডেলের সঙ্গে সরাসরি তুলনামূলক পরীক্ষায় ১২টি ক্যাটাগরির প্রতিটিতেই এগিয়ে রয়েছে মিউজ গ্লিমার। একই আকারের অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় মডেলের তুলনায় গুরুত্বপূর্ণ এজেন্টিক ব্যবহার এবং বেঞ্চমার্কে এটি অনেক বেশি কার্যকর ফল প্রদর্শন করেছে। মেটা জানিয়েছে, তারা খুব শীঘ্রই তাদের আরও উন্নত মডেল মিউজ স্পার্ক ১.২-এর ওজনও উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

মডেলটি উন্মোচনের পাশাপাশি মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মার্ক জাকারবার্গ যুক্তরাষ্ট্রের এআই নীতিমালায় পরিবর্তন আনা এবং উন্মুক্ত এআই মডেলের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ কলার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি তার ১৪ পৃষ্ঠার এক দীর্ঘ প্রবন্ধে উল্লেখ করেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিকে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের হাতে সীমাবদ্ধ না রেখে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া উচিত।

রয়টার্স জানিয়েছে, বর্তমানে এআই প্রযুক্তি ও ওপেন-ওয়েট মডেল তৈরির ক্ষেত্রে চীনের প্রতিষ্ঠানগুলো বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে। মুনশটের কিমি কে৩, আলিবাবার কিউওয়েন ৩.৮-ম্যাক্স এবং ডিপসিকের ভি৪-ফ্ল্যাশ মডেলগুলো যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় এআই ব্যবস্থাগুলোর সঙ্গে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এর বিপরীতে ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক এবং গুগলের প্রধান মডেলগুলো মূলত ক্লোজড বা নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর। জাকারবার্গ মনে করেন, মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বিশ্ববাজারে নেতৃত্ব দিতে হলে তথ্য ব্যবহারের অতিরিক্ত আইনি জটিলতা, কড়া নিয়মকানুন এবং ডিস্টিলেশন পদ্ধতির ওপর থেকে কঠোর বিধিনিষেধ কমাতে হবে। একই সঙ্গে বিদেশি উন্মুক্ত এআই মডেলের প্রবেশাধিকার সীমিত করা কোনো কার্যকর সমাধান নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মডেলের অনাকাঙ্ক্ষিত সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঘটনা এবং কোডিং প্ল্যাটফর্ম হাগিং ফেইসে ঘটে যাওয়া সাইবার হামলার প্রেক্ষিতে বিশ্বজুড়ে বড় কোম্পানিগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মেটা ঘোষণা দিয়েছে যে, মডেল প্রকাশের আগে নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুমোদনের ক্ষমতা কোম্পানির স্বাধীন পরিচালকদের হাতে ন্যস্ত করা হবে।

পাশাপাশি, এআই অবকাঠামো নির্মাণে বিশাল বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে মেটা। চলতি বছর শুধুমাত্র এআই অবকাঠামো তৈরিতে মেটার ব্যয় সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। তবে ডেটা সেন্টার বা তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের ফলে স্থানীয় জনগোষ্ঠী যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য ১০০ কোটি ডলারের একটি বিশেষ তহবিল গঠনেরও ঘোষণা দিয়েছেন মার্ক জাকারবার্গ।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়