২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত ৭২৬, মোট ছাড়াল ২০ হাজার
ফাইল ছবি
বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির ক্রমাবনতি অব্যাহত রয়েছে। মশাবাহিত এই রোগটি এখন জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে আরও ৭২৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এই সংখ্যা বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২০ হাজার ৭১ জনে পৌঁছেছে। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, আক্রান্তের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে স্বাস্থ্যখাত, যার ফলে রাজধানীসহ বিভিন্ন বিভাগে জনসচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদারের তাগিদ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
সোমবার (১০ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রবিবার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তবে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত এই রোগে মোট ৬১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।
মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৫২ দশমিক ৬ শতাংশ এবং নারী ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ। অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মাসে এ পর্যন্ত মোট ৪,৭৬১ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন ৭ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ১,৪৪৩ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের মধ্যে একটি বড় অংশ রাজধানী ঢাকার বাসিন্দা।
বিভাগভিত্তিক সংক্রমণের চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১০১ জন এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ৮৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া ঢাকার বাইরের বিভাগগুলোর মধ্যে রংপুর বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১৭২ জন, খুলনা বিভাগে ১০৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৮১ জন, বরিশাল বিভাগে ৭৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ৬৫ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৭ জন এবং সিলেট বিভাগে ৫ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। ঢাকা শহরে আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় রাজধানীতে বিশেষ নজরদারি ও মশা নিধন কার্যক্রম বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে এক দিনে ২ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৬৭২
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষ ৬২ শতাংশ এবং নারী ৩৮ শতাংশ। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়েছেন ১৮ হাজার ৫৬৭ জন। সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭২৪ জন। গত কয়েক বছরের ডেঙ্গু পরিস্থিতির পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৩ সালে বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ ছিল ভয়াবহ, সে বছর ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন আক্রান্ত হন এবং ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়।
এরপর ২০২৪ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং মৃত্যু হয় ৫৭৫ জনের। এছাড়া ২০২৫ সালে ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন আক্রান্ত এবং ৪১৩ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। অর্থাৎ গত কয়েক বছরের তুলনায় চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত সংক্রমণের হার এবং মৃত্যু নিয়ন্ত্রণে থাকলেও পরিস্থিতি যেকোনো সময় জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্যবিদরা।
এদিকে দেশের শীর্ষস্থানীয় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও কীটতত্ত্ববিদদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে কেবল সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। বিশেষ করে আবাসিক এলাকায় জমে থাকা পরিষ্কার পানি, নির্মাণাধীন ভবন এবং বাড়ির ছাদে ফুলের টবে এডিস মশার লার্ভা জন্মানোর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। বর্ষাকালীন আবহাওয়ার কারণে মশার বংশবিস্তার দ্রুততর হচ্ছে। এমতাবস্থায় ডেঙ্গু সংক্রমণ রোধে প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ বাসাবাড়ি পরিষ্কার রাখা এবং দিনের বেলায়ও মশারি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষকে মশা নিধন কার্যক্রমে আরও গতিশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে ঢাকা মহানগরে সংক্রমণের চেইন ভেঙে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








