নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৮:৫৯, ১০ আগস্ট ২০২৬

ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে চালু হলো কমিউটার ট্রেন ‘অভিযাত্রী’

ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে চালু হলো কমিউটার ট্রেন ‘অভিযাত্রী’

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার অবসান ঘটিয়ে পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা-গোপালগঞ্জ-ঢাকা রুটে যাত্রীসেবা শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ের নতুন এক জোড়া কমিউটার ট্রেন অভিযাত্রী কমিউটার। রাজধানীর সঙ্গে গোপালগঞ্জের সরাসরি রেল যোগাযোগ আরও সহজ, সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য করার পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি আনার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে এই ট্রেনকে ঘিরে। 

সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টায় ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন (কমলাপুর) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রেনটির উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি। 

উদ্বোধনী যাত্রায় গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিমুজ্জামান মোল্যা, গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর এবং গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানীসহ সংশ্লিষ্টরা ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জের উদ্দেশ্যে ট্রেনে যাত্রা করেন। 

অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপি, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেনসহ মন্ত্রণালয় ও রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ রেলওয়ের ১৩৫ ও ১৩৬ নম্বর ট্রেন হিসেবে অভিযাত্রী কমিউটার সপ্তাহে ছয় দিন চলবে; প্রতি শনিবার থাকবে সাপ্তাহিক বন্ধ। নিয়মিত সূচি অনুযায়ী ১৩৫ নম্বর ট্রেনটি ঢাকা থেকে বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে গোপালগঞ্জে পৌঁছাবে। প্রায় ৩০ মিনিট বিরতির পর ১৩৬ নম্বর ট্রেনটি গোপালগঞ্জ থেকে সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে রাত ১০টা ২৫ মিনিটে রাজধানীতে পৌঁছাবে। অর্থাৎ ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জ যেতে সময় লাগবে প্রায় ৩ ঘণ্টা ১৫ মিনিট এবং ফিরতি যাত্রাতেও প্রায় একই সময়ের প্রয়োজন হবে। জুলাইয়ে ট্রেন চালুর ঘোষণা দেওয়ার সময় রেলওয়ের প্রাথমিক আদেশে ঢাকা ছাড়ার সময় দুপুর ২টা ৩০ মিনিট এবং গোপালগঞ্জ ছাড়ার সময় সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিট বলা হয়েছিল; পরবর্তী নির্ধারিত সূচিতে তা পরিবর্তন হয়ে যথাক্রমে বিকেল সাড়ে ৩টা ও সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিট করা হয়।

পদ্মা সেতু হয়ে চলা এই ট্রেনের রুটটি রাজধানী থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ একটি করিডোর তৈরি করেছে। ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জের পথে কেরানীগঞ্জ, শ্রীনগর, মাওয়া, ভাঙ্গা জংশন, নগরকান্দা, মহেশপুর ও কাশিয়ানী জংশনে যাত্রাবিরতি রাখা হয়েছে। বিভিন্ন পর্যায়ের রেলওয়ে তথ্য ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে শিবচর ও শিকারপুরসহ কয়েকটি স্টেশনের নামও এসেছে; তবে উদ্বোধনী পর্যায়ে ব্যবহৃত নির্ধারিত স্টপেজের তালিকায় সাতটি স্টেশনকে প্রধান যাত্রাবিরতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। 

রুটের দূরত্ব নিয়েও প্রাথমিক নথি ও সংবাদ প্রতিবেদনে ভিন্নতা পাওয়া গেছে কোথাও ১৪৫ কিলোমিটার, কোথাও ১৮৮ কিলোমিটার বলা হয়েছে; উদ্বোধনী বক্তব্যে ব্যবহৃত তথ্য অনুযায়ী ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটের দৈর্ঘ্য ১৪৮ কিলোমিটার। ফলে দূরত্বের ক্ষেত্রে রেলওয়ের সর্বশেষ কার্যকর অপারেশনাল তথ্যই চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচ্য হবে।

আট কোচের এই ট্রেনে মোট ৬৩০টি আসন রয়েছে বলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়েছে। এর আগে রেলওয়ের প্রস্তাবিত রেক-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী আট কোচের জয়দেবপুর কমিউটারের রেক ব্যবহার করে অভিযাত্রী কমিউটার পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং প্রতিটি কোচে আসনসংখ্যা কোচভেদে ভিন্ন হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। রেকের বেইজ, ওয়াটারিং ও ক্লিনিংয়ের কাজ ঢাকায় সম্পন্ন করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। 

রেলওয়ের প্রাথমিক পরিকল্পনায় আট কোচের ট্রেনটির মোট আসনসংখ্যা ৬০৯ বলা হয়েছিল, যা পরবর্তী উদ্বোধনী তথ্যের ৬৩০ আসনের সঙ্গে ভিন্ন। এ ধরনের পার্থক্য মূলত কোচ কম্পোজিশন বা চূড়ান্ত রেক বিন্যাস পরিবর্তনের কারণে হয়ে থাকতে পারে।

ভাড়ার দিক থেকেও নতুন ট্রেনটি সড়কপথের তুলনায় বড় ধরনের স্বস্তি দিতে পারে। বাংলাদেশ রেলওয়ের নির্ধারিত ভাড়া তালিকা অনুযায়ী ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জ পর্যন্ত কমিউটার শ্রেণির ভাড়া ১৪৫ টাকা নির্ধারণের তথ্য আগে থেকেই প্রকাশিত হয়েছে। 

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, একই পথে বাসে যাতায়াতে সাধারণত কয়েক গুণ বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়। ফলে প্রতিদিন রাজধানীতে যাতায়াতকারী চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, রোগী ও তাদের স্বজন এবং নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য রেল যোগাযোগটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। রেলওয়ের নতুন এই সেবা চালুর সিদ্ধান্ত স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রয়োজন বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল বলে জুলাইয়ে প্রকাশিত রেলওয়ের তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আরও পড়ুন: চার সদস্যের দল নিয়ে ঢাকায় র প্রধান

নতুন কমিউটার সেবার সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে দৈনিক কর্মজীবী যাত্রীদের ক্ষেত্রে। রাজধানীতে স্থায়ীভাবে বসবাস না করেও আশপাশের জেলা থেকে প্রতিদিন ঢাকায় এসে কাজ করে আবার নিজ এলাকায় ফিরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হলে ঢাকাকেন্দ্রিক আবাসননির্ভরতা কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমও ঢাকার ওপর জনসংখ্যা ও কর্মসংস্থানের চাপ কমাতে রাজধানীর আশপাশের অঞ্চলগুলোকে দ্রুত কমিউটার রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা জানান। 

তার বক্তব্য অনুযায়ী, এমন যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য হচ্ছে ঢাকার বাইরে থাকা মানুষকে প্রায় দুই থেকে আড়াই ঘণ্টার মধ্যে রাজধানীতে এনে দিনের কাজ শেষে নিজ গন্তব্যে ফেরার সুযোগ তৈরি করা। 

তার মতে, কমিউটার রেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ হলে ঢাকামুখী স্থায়ী আবাসনের প্রবণতা কমার পাশাপাশি রাজধানীর আবাসন, সড়ক, যানজট ও নগরসেবার ওপর চাপও কমতে পারে।

শুধু গোপালগঞ্জের যাত্রী নয়, পদ্মা সেতু ও সংশ্লিষ্ট রেলপথের সঙ্গে সংযুক্ত মধ্যবর্তী এলাকার মানুষও এই সেবার সুবিধা পাবেন। কেরানীগঞ্জ, শ্রীনগর, মাওয়া, ভাঙ্গা, নগরকান্দা, মহেশপুর ও কাশিয়ানীসহ বিভিন্ন এলাকার যাত্রীরা রাজধানী ও গোপালগঞ্জের সঙ্গে তুলনামূলক কম খরচে রেল যোগাযোগের সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে পার্শ্ববর্তী পিরোজপুর, বাগেরহাট ও নড়াইলের মানুষও সংযোগ পরিবহনের মাধ্যমে এর সুবিধা নিতে পারবেন বলে স্থানীয়দের প্রত্যাশা। দীর্ঘদিন ধরে গোপালগঞ্জবাসীর সরাসরি ঢাকা রেল যোগাযোগের দাবি থাকলেও রুটভিত্তিক সীমাবদ্ধতার কারণে প্রত্যাশিত সেবা পাওয়া যাচ্ছিল না। নতুন কমিউটার চালুর ফলে সেই ঘাটতি অনেকটাই পূরণ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই রেল যোগাযোগের প্রভাব শুধু যাত্রী পরিবহনে সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা নেই; স্থানীয় কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও এর প্রভাব পড়তে পারে। গোপালগঞ্জ ও আশপাশের অঞ্চল কৃষিপ্রধান হওয়ায় শাকসবজি, মাছ, কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন স্থানীয় উৎপাদন দ্রুত ঢাকার বড় বাজারে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। 

গোপালগঞ্জের রেলযান পরীক্ষক পল্লব কান্তি বিশ্বাসের মতে, ভবিষ্যতে ট্রেনটিতে অতিরিক্ত লাগেজ ভ্যান যুক্ত করা হলে কৃষকেরা তুলনামূলক কম খরচে কৃষিপণ্য ঢাকার বাজারে পাঠাতে পারবেন। এতে পরিবহন ব্যয় কমার পাশাপাশি উৎপাদক পর্যায়ে ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগ বাড়তে পারে এবং ঢাকার ভোক্তারাও তুলনামূলক দ্রুত তাজা পণ্য পাওয়ার সুবিধা পেতে পারেন। রেলপথের মাধ্যমে পণ্য পরিবহনের পরিধি বাড়ানো গেলে স্থানীয় উৎপাদন ও বৃহৎ বাজারের মধ্যে সরাসরি সংযোগও শক্তিশালী হবে।

গোপালগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের অপেক্ষার আরেকটি কারণ ছিল রাজধানীর সঙ্গে সরাসরি রেল যোগাযোগের অভাব। 

স্থানীয় বাসিন্দা ওসিকুর রহমান খান বলেন, স্বল্প খরচে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াতের পাশাপাশি এই রেল যোগাযোগ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে গতি আনতে পারে। 

কাশিয়ানী রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার অনিক বিশ্বাসের ভাষ্য, আগে রাজশাহী রুটে ট্রেন চলাচল থাকলেও ঢাকার সঙ্গে সরাসরি ট্রেন ছিল না; নতুন সেবা চালুর ফলে সড়কপথের যানজট ও তুলনামূলক বেশি ভাড়ার ভোগান্তি কমার পাশাপাশি যাত্রীসংখ্যা বাড়লে রেলওয়ের রাজস্বও বাড়তে পারে।

তবে নতুন ট্রেন চালুর সঙ্গে সঙ্গে সময়সূচি ও স্টপেজ নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। জুলাইয়ে রেলওয়ের প্রাথমিক সময়সূচি প্রকাশের পর কয়েকটি প্রতিবেদনে মুকসুদপুরে যাত্রাবিরতি না থাকায় স্থানীয়দের হতাশার কথা উঠে আসে। একইভাবে প্রাথমিক পর্যায়ের বিভিন্ন নথি ও সংবাদ প্রতিবেদনে শিবচর, শিকারপুর, মহেশপুর ও কাশিয়ানী জংশনসহ স্টপেজের তালিকায় কিছু পার্থক্য দেখা যায়। ফলে বাস্তবে যাত্রী চাহিদা, স্টেশনভিত্তিক যাত্রী ওঠানামা ও পরিচালনাগত সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতে স্টপেজ বা সময়সূচি পুনর্বিন্যাসের দাবি উঠতে পারে।

অন্যদিকে, কমিউটার রেল নেটওয়ার্ককে শুধু একটি রুটে সীমাবদ্ধ না রেখে ঢাকার চারপাশে বিস্তৃত করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি জানান, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বর্তমানে আট জোড়া ট্রেন চলছে; অবকাঠামোগত কাজ শেষ হলে সেখানে ১৬ জোড়া ট্রেন চালানোর সুযোগ তৈরি হবে। এরপর ঢাকা-নরসিংদী, ঢাকা-টঙ্গী, জয়দেবপুর ও টাঙ্গাইল পর্যন্ত কমিউটার সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে মানিকগঞ্জকেও এই নেটওয়ার্কের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে অভিযাত্রী কমিউটার চালু শুধু একটি নতুন ট্রেন সংযোজন নয়; এটি রাজধানী ও আশপাশের জেলা নিয়ে বৃহত্তর কমিউটার রেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মন্ত্রী একই সঙ্গে রেলওয়ের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেছেন। 

তার বক্তব্য অনুযায়ী, পর্যাপ্ত যাত্রীবাহী কোচ ও লোকোমোটিভের ঘাটতির কারণে দীর্ঘদিন অনেক রুটে কাঙ্ক্ষিত সেবা চালু করা সম্ভব হয়নি। পুরোনো রেললাইনও ট্রেন পরিচালনার সক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলছে; দেশের কিছু রেললাইন বহু পুরোনো এবং সব লাইনে ইচ্ছেমতো বেশি ট্রেন বা বেশি লোড চালানো সম্ভব নয়। এসব সীমাবদ্ধতা ধাপে ধাপে দূর করতে রেললাইন মেরামত ও প্রতিস্থাপনের পাশাপাশি নতুন কোচ ও লোকোমোটিভ যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাঁর মতে, পর্যাপ্ত রোলিং স্টক পাওয়া গেলে পর্যায়ক্রমে আরও রুটে কমিউটার সেবা বাড়ানো সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে জুলাইয়ে ট্রেন চালুর ঘোষণা দেওয়ার সময় জানিয়েছিল, নতুন সেবাটি নির্বিঘ্নে পরিচালনার জন্য টিকিট বিক্রি, লোকোমোটিভ ও ক্রু সরবরাহ, কোচ রক্ষণাবেক্ষণ, বিদ্যুৎ, নিরাপত্তা এবং স্টেশনগুলোতে মাইকিংয়ের মাধ্যমে সময়সূচি প্রচারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জয়দেবপুর কমিউটারের আট কোচবিশিষ্ট রেক ব্যবহার করে ট্রেন পরিচালনার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছিল। ফলে নতুন এই সেবার কার্যকারিতা নির্ভর করবে শুধু ট্রেন চালুর ওপর নয়; সময়ানুবর্তিতা, পর্যাপ্ত আসন, টিকিট ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা এবং যাত্রীদের প্রকৃত চাহিদার সঙ্গে সময়সূচির সামঞ্জস্য নিশ্চিত করার ওপরও।

সব মিলিয়ে, পদ্মা সেতু হয়ে অভিযাত্রী কমিউটার চালু গোপালগঞ্জ ও মধ্যবর্তী এলাকার মানুষের জন্য রাজধানীর সঙ্গে একটি নতুন দৈনন্দিন যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করেছে। কম ভাড়া, নির্ধারিত সময়সূচি এবং সরাসরি রেল সংযোগের কারণে চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীদের জন্য এটি সড়কপথের বিকল্প হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য পরিবহন, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, শ্রমবাজার ও আঞ্চলিক অর্থনীতিতে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। 

তবে এই সম্ভাবনাকে বাস্তব সুবিধায় রূপ দিতে হলে ট্রেনটির সময়সূচি যাত্রীবান্ধব রাখা, প্রয়োজন অনুযায়ী কোচ বাড়ানো, স্টেশনভিত্তিক চাহিদা মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যতে পণ্য পরিবহনের সুযোগ সম্প্রসারণের দিকে নজর দিতে হবে। রাজধানীর ওপর চাপ কমিয়ে আশপাশের জেলা থেকে দৈনিক যাতায়াতের সুযোগ তৈরি করার যে বৃহত্তর পরিকল্পনা সরকার তুলে ধরেছে, অভিযাত্রী কমিউটার সেই পরিকল্পনার বাস্তব পরীক্ষাও হয়ে উঠতে পারে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়