নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৬:৪৭, ১০ আগস্ট ২০২৬
আপডেট: ১৬:৫০, ১০ আগস্ট ২০২৬

‘ভারত শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ইতিবাচক দিকে এগোবে বলে আশা করি’

‘ভারত শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ইতিবাচক দিকে এগোবে বলে আশা করি’

ছবি: সংগৃহীত

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত ও ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবিলম্বে দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ ওসমান হাদির সন্দেহভাজন হত্যাকারীদের প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে নয়াদিল্লির প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।  

সোমবার (১০ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সৌজন্য সাক্ষাতে এ দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়। বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের সামনে বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর গত দেড় মাসের মধ্যে এই প্রথম ভারতীয় হাইকমিশনার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে একটি সহায়ক ও আস্থার পরিবেশ তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। এ সময় শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত আগের অনুরোধের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বাংলাদেশ আশা প্রকাশ করে যে, ভারত সরকার আইনি প্রক্রিয়া ও বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় বিষয়টিতে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে।  

ওসমান হাদি হত্যা প্রসঙ্গে ড. খলিলুর রহমান বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি বর্তমান সরকারের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজন আসামিরা ভারতে আটক রয়েছে। তাদের ফেরত আনার জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষ যেসব নথিপত্র বা তথ্য চেয়েছিল, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে তার সবকিছু সরবরাহ করেছে। তাই যত দ্রুত সম্ভব ওই হত্যাকারীদের বাংলাদেশের কাছে প্রত্যর্পণ করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।  

আরও পড়ুন: শেখ হাসিনা ও হাদি হত্যাকারী প্রত্যর্পণের আহ্বান জানাল বাংলাদেশ

গত ৫ আগস্টের ঘটনা এবং ভারতের মাটিতে বসে শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে বাংলাদেশের তীব্র অসন্তুষ্টির বিষয়টি বৈঠকে জোরালোভাবে উত্থাপন করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট এবং তা ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে অতীতেও চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে। ভারতীয় পক্ষও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে অনুধাবন করতে পেরেছে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।  

তিনি আরও বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নির্বাহী বিভাগ, আইন প্রণয়ন বিভাগ ও বিচার বিভাগ এই তিনটি প্রধান স্তম্ভ থাকে। বাংলাদেশের একটি আদালত বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দণ্ড প্রদান করেছে। দণ্ডপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি দেশটিতে অবস্থান করলে তাকে আইনের আওতায় হেফাজতে নেওয়া এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ থাকলে তা আদালতে উপস্থাপন করার নিয়ম। কিন্তু ৫ আগস্টে শেখ হাসিনা যেভাবে রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোর অপচেষ্টা চালিয়েছেন এবং ভারত সরকার তাকে সেই সুযোগ করে দিয়েছে, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বাংলাদেশ আশা করে, বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্র হিসেবে ভারত ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর কোনো স্তম্ভকে খাটো বা দুর্বল করার মতো কোনো কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি হতে দেবে না।  

সীমান্ত হত্যা এবং পুশ-ইন সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়গুলো বৈঠকে সংক্ষেপে আলোচিত হয়েছে, তবে এগুলো মূলত প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের বিস্তারিত আলোচনার বিষয় নয়। এর আগে গত রবিবার ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে তার নিজস্ব বৈঠকে এ বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়েছে বলে জানান তিনি।  
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কবে নাগাদ স্বাভাবিক হতে পারে এমন এক প্রশ্নের জবাবে রসিকতার সুরে খলিলুর রহমান বলেন, তিনি কোনো জ্যোতিষী নন, তাই নির্দিষ্ট করে কোনো দিন-তারিখ বলতে পারছেন না। তবে সাম্প্রতিক আলোচনা ও ভারতীয় পক্ষের প্রতিক্রিয়ায় তিনি কিছুটা আশাবাদী যে, পারস্পরিক সার্বভৌমত্ব ও শ্রদ্ধাবোধের মধ্য দিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বরফ গলবে। 

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়