নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:৩১, ১২ আগস্ট ২০২৬

সাভারে বোমা আতঙ্ক, ১২ দিনে উদ্ধার ১৭ শক্তিশালী বিস্ফোরক

সাভারে বোমা আতঙ্ক, ১২ দিনে উদ্ধার ১৭ শক্তিশালী বিস্ফোরক

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার সাভার ও আশুলিয়ায় গত ১২ দিনে পৃথক তিনটি এলাকা থেকে ১৭টি শক্তিশালী বোমা উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এসব ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা বোমাগুলোর সঙ্গে জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)–এর লিফলেট পাওয়ার কথাও জানিয়েছে পুলিশ। তবে বোমাগুলোর উৎস, কারা এগুলো তৈরি করেছে এবং কী উদ্দেশ্যে বিভিন্ন স্থানে রাখা হয়েছিল তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সর্বশেষ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টার দিকে সাভারের বনগাঁও ইউনিয়নের লালটেক গোপের বাড়ি এলাকার জামিআ ইলমুল ইলাহ্ সোসাইটি মাদ্রাসা ও জামে মসজিদের সামনের জঙ্গল থেকে স্কচটেপে মোড়ানো প্রেসার কুকারসদৃশ একটি শক্তিশালী বোমা উদ্ধার করা হয়। 

স্থানীয়দের ভাষ্য, রাতের অন্ধকারে ব্যাটারিচালিত একটি হ্যালো বাইকে করে তিন ব্যক্তি সেখানে এসে জঙ্গলের মধ্যে একটি ড্রাম রেখে দ্রুত চলে যান। ড্রাম রাখার শব্দ শুনে স্থানীয় কয়েকজন বিষয়টি দেখতে বের হলে ওই ব্যক্তিদের সেখান থেকে চলে যেতে দেখা যায়।

মাদ্রাসার পাশের বাসিন্দা ও চায়ের দোকানি আজিম উদ্দিন জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় ওই সময় এলাকাটি কিছুটা অন্ধকার ছিল। রাত ১টার দিকে তিন ব্যক্তি হ্যালো বাইকে করে এসে জঙ্গলের মধ্যে একটি ড্রাম রেখে যান। তাদের দেখে সন্দেহ হওয়ায় বিষয়টি স্থানীয়দের জানানো হয়। পরে কয়েকজন মিলে ড্রামটি মাদরাসা ও মসজিদের মূল ফটকের সামনে নিয়ে রাখেন এবং মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিষয়টি জানান।

মাদ্রাসার কিতাবখানার দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল রাফির দাবি, ড্রামের ঢাকনা খোলার পর ভেতরে কোরআন শরিফ, কিছু তার, জামাকাপড়, একটি ডায়েরি, বাকরখানি এবং স্কচটেপে মোড়ানো প্রেসার কুকারসদৃশ একটি বোমা পাওয়া যায়। 

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ড্রামের ভেতরে একটি রিমোট কন্ট্রোলও ছিল। রিমোট কন্ট্রোল ও বোমাটির গায়ে R1 লেখা ছিল বলেও জানান তিনি। তবে R1 লেখাটির অর্থ কী, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মাদ্রাসার পাশের মানিকগঞ্জ ভ্যারাইটিজ স্টোরের মালিক রফিকুল ইসলাম বলেন, ড্রাম থেকে বোমাটি বের করে মাদরাসার প্রধান ফটক থেকে কিছুটা দূরে মাঠের একটি খোলা জায়গায় রাখা হয়। ড্রাম ও রিমোট কন্ট্রোল তখনও মাদরাসার প্রধান ফটকের সামনে ছিল। তার ধারণা, বোমাটির ওজন অন্তত ১৫ কেজি হতে পারে। 

আরও পড়ুন: সাভারে শক্তিশালী প্রেশারকুকার বোমা নিষ্ক্রিয়, বিকট শব্দে আতঙ্ক

রফিকুলের ভাষ্য, ভোর ৬টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি ব্যাটারিচালিত হ্যালো বাইকে এসে রিমোট কন্ট্রোলসহ ড্রামটি নিয়ে দ্রুত চলে যান। বিষয়টি পরে ভবানীপুর পুলিশ ফাঁড়িতে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। ড্রাম ও রিমোট কন্ট্রোল কীভাবে এবং কারা নিয়ে গেল, তা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বোমাটির চারপাশে নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করে এবং পুলিশের পাহারায় সেটি নিরাপদ স্থানে রাখে। পরে সাভার থানা-পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ ও র‍্যাবের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পুরো এলাকা ঘিরে রাখেন। 

সাভার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ জানান, বোমা উদ্ধারের পর ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলকে খবর দেওয়া হয়। পরে দলটি ঘটনাস্থলে এসে বোমাটি খোলা মাঠে নিয়ে নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়ায় নিষ্ক্রিয় করে। এ সময় বিকট শব্দ হলে আশপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে।

একই রাতে সাভারের তেঁতুলঝরা ইউনিয়নের শ্যামপুর ও হেমায়েতপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ১৪টি পাইপ বোমা এবং বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় হেমায়েতপুর এলাকা থেকে আরিফ হোসেন (২৮) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

পুলিশের দাবি, গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে পাঁচটি পাইপ বোমা পাওয়া যায়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি বাড়ি থেকে আরও নয়টি পাইপ বোমা উদ্ধার করা হয়।

এর আগে গত ৩০ জুলাই মধ্যরাতে আশুলিয়ার চারাবাগ এলাকায় জয়ী জেনারেল স্টোর-এর সামনে একটি ট্রাভেল ব্যাগ থেকে স্কচটেপে মোড়ানো প্রেসার কুকারসদৃশ আরও একটি শক্তিশালী বোমা উদ্ধার করা হয়েছিল। পরে ডিএমপির বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা সেটি একটি খোলা মাঠে নিয়ে নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়ায় নিষ্ক্রিয় করেন।

অল্প সময়ের ব্যবধানে বসতবাড়ি, মাদ্রাসা ও জনবহুল এলাকার কাছাকাছি একের পর এক বোমা উদ্ধারের ঘটনায় সাভার ও আশুলিয়ার বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সর্বশেষ মাদ্রাসা ও মসজিদের সামনের জঙ্গল থেকে বোমা উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।

সাভার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বলেন, উদ্ধার করা বোমাগুলোর উৎস, এগুলো কারা তৈরি করেছে এবং কোথায় ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছিল এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া জেএমবির লিফলেটের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়