বাংলা কিউআরে ৪০ দিনে দেড় হাজার কোটি টাকা লেনদেন
ছবি: সংগৃহীত
দেশে নগদ টাকার ব্যবহার কমিয়ে ডিজিটাল লেনদেনের দিকে ঝুঁকছেন গ্রাহক ও ব্যবসায়ীরা। এরই মধ্যে গত ১ জুলাই থেকে ৪০ দিনে বাংলা কিউআর (কুইক রেসপন্স) ব্যবস্থায় প্রায় ৫৬ লাখ লেনদেন হয়েছে। এসব লেনদেনের আর্থিক পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, গত ১ জুলাই থেকে সারা দেশে একক ও সর্বজনীন বাংলা কিউআর ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করার পর এ মাধ্যমে লেনদেনে উল্লেখযোগ্য গতি এসেছে।
তিনি জানান, শুধু ২ থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত এক সপ্তাহে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে প্রায় ১৭ লাখ লেনদেন হয়েছে। এর আর্থিক মূল্য প্রায় ৪৮৭ কোটি টাকা। এ হিসাবে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার লেনদেন হয়েছে। প্রতিটি লেনদেনের গড় মূল্য ছিল প্রায় ২ হাজার ৮৬৫ টাকা।
দীর্ঘদিন ধরে নগদনির্ভরতা কমিয়ে দৈনন্দিন কেনাকাটা ও অন্যান্য লেনদেনে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবহারে উৎসাহ দিয়ে আসছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেই প্রেক্ষাপটে বাংলা কিউআরে লেনদেন বৃদ্ধির এ প্রবণতাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কী এই বাংলা কিউআর
বাংলা কিউআর হলো একটি একক কিউআর কোড, যা অংশগ্রহণকারী ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাপ দিয়ে স্ক্যান করে গ্রাহকেরা অর্থ পরিশোধ করতে পারেন। ফলে একটি দোকান বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন পেমেন্ট সেবাদাতার জন্য আলাদা আলাদা কিউআর কোড রাখার প্রয়োজন হয় না।
এতে গ্রাহক ও ব্যবসায়ী উভয়ের জন্যই ডিজিটাল পেমেন্ট সহজ ও দ্রুত হয়েছে।
সম্প্রতি বাংলা কিউআরের ব্যবহার আরও বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেছেন, নিরাপদ ও কম নগদনির্ভর অর্থনীতির দিকে দেশের অগ্রযাত্রায় ডিজিটাল পেমেন্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
গত ৭ ও ৮ আগস্ট চট্টগ্রামে সরকারি সফরে গিয়ে বাংলা কিউআর প্রচারাভিযানে অংশ নেন গভর্নর। এ সময় তিনি ব্যবসায়ী ও গ্রাহকদের ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানান।
চট্টগ্রামে বাংলা কিউআরবিষয়ক এক কর্মশালায় গভর্নর বলেন, এর ব্যবহার বাড়িয়ে নিরাপদ, সহজ, কম খরচের এবং সবার জন্য সহজলভ্য নগদহীন লেনদেনব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
আরও পড়ুন: চার আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর ঘোষণা, রেজল্যুশন কার্যক্রম শুরু
তিনি বলেন, ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবহার বাড়লে চাঁদাবাজি কমানো, জাল টাকার ঝুঁকি হ্রাস এবং আর্থিক লেনদেন আরও স্বচ্ছ করা সম্ভব। একই সঙ্গে মুদ্রা ছাপানো ও নগদ টাকা ব্যবস্থাপনায় সরকারের ব্যয়ও কমানো যাবে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি








