২৭ আগস্ট বসছে ত্রয়োদশ সংসদের তৃতীয় অধিবেশন
ফাইল ছবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু হচ্ছে আগামী ২৭ আগস্ট। ওই দিন বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হবে। সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এ অধিবেশন আহ্বান করেছেন।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে এ-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে ২৭ আগস্ট বিকেল ৩টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন বসার কথা উল্লেখ করা হয়।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাও (বাসস) জানিয়েছে, এদিন ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দে সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে অধিবেশন শুরু হবে।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ২৭ আগস্ট বিকেল ৩টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন আহ্বান করেছেন।
এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন, অর্থাৎ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম বাজেট অধিবেশন, গত ১৫ জুলাই শেষ হয়। ফলে দ্বিতীয় অধিবেশন শেষ হওয়ার পর ২৭ আগস্ট তৃতীয় অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে। সংবিধান অনুযায়ী, সংসদের এক অধিবেশন শেষ হওয়ার পর পরবর্তী অধিবেশন বসার ক্ষেত্রে ৬০ দিনের বেশি বিরতি রাখার সুযোগ নেই। সেই সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার মধ্যেই নতুন অধিবেশনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংসদ সচিবালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বছরের এ সময়ের অধিবেশন সাধারণত দীর্ঘ হয় না। মূলত সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা পূরণ এবং প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন ও সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এ ধরনের অধিবেশন ডাকা হয়। এবারের অধিবেশনও খুব দীর্ঘ হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে সংসদ-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে ঠিক কত কার্যদিবস অধিবেশন চলবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। অধিবেশন শুরুর আগে জাতীয় সংসদ ভবনে কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
স্পিকারের সভাপতিত্বে ওই বৈঠকেই অধিবেশনের মেয়াদ, প্রতিদিনের বৈঠকের সময় এবং গুরুত্বপূর্ণ কার্যসূচি চূড়ান্ত করা হবে। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে সংসদ সচিবালয়ের সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, বছরের এই সময়ে আহ্বান করা অধিবেশন সাধারণত প্রায় এক সপ্তাহের মতো চললেও এবারও তা কত দিন চলবে, সেটি কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকেই নির্ধারিত হবে।
আরও পড়ুন: সরাসরি সম্প্রচার হবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট
তৃতীয় অধিবেশনকে ঘিরে সংসদীয় কার্যক্রমে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিলও সামনে আসতে পারে। সংসদ-সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এবারের অধিবেশনে বেশ কয়েকটি বিল পাস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কোন কোন বিল চূড়ান্তভাবে কার্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হবে এবং কোনগুলো উত্থাপন ও পাসের জন্য অগ্রাধিকার পাবে, তা কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক এবং সংসদীয় কার্যসূচি চূড়ান্ত হওয়ার পরই স্পষ্ট হবে। ফলে অধিবেশনের মেয়াদ তুলনামূলক সংক্ষিপ্ত হলেও আইন প্রণয়নের দিক থেকে এর গুরুত্ব কমছে না।
এর আগে ৭ জুন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হয়েছিল, যা ছিল ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম বাজেট অধিবেশন। ওই অধিবেশনকে কেন্দ্র করে নতুন সরকারের প্রথম জাতীয় বাজেট উপস্থাপনসহ গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়। দ্বিতীয় অধিবেশন শেষ হওয়ার পর এখন তৃতীয় অধিবেশন আহ্বান করা হয়েছে। ফলে সংসদের নিয়মিত কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় এটি হবে চলতি বছরের তৃতীয় অধিবেশন।
তৃতীয় অধিবেশনের আগে সংসদ ভবনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
সংসদ-সংশ্লিষ্ট সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণের জন্য ওই দিন সংসদের একটি বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে এবং নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এ বৈঠক আহ্বানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। অর্থাৎ ২৭ আগস্ট নিয়মিত তৃতীয় অধিবেশন শুরুর এক সপ্তাহ আগে জাতীয় সংসদ ভবনেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়টি এবারের সংসদীয় কার্যক্রমে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদই ২৭ আগস্টের তৃতীয় অধিবেশন আহ্বান করেছেন। এর আগে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ফলে একই সময়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও রাষ্ট্রপতির দায়িত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক প্রক্রিয়াগুলো নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় পরিচালিত হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ করলে এ পরিস্থিতিরও অবসান ঘটবে।
সংসদের তৃতীয় অধিবেশন আহ্বানের ক্ষেত্রে সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। সংবিধানের ওই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সংসদের অধিবেশন আহ্বান, স্থগিত ও ভেঙে দেওয়ার সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করেন। একই সঙ্গে দুটি অধিবেশনের মধ্যবর্তী সময় ৬০ দিনের বেশি না হওয়ার বিধান সংসদের নিয়মিত কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করে। দ্বিতীয় অধিবেশন ১৫ জুলাই শেষ হওয়ার পর ২৭ আগস্ট তৃতীয় অধিবেশন শুরু হওয়ায় সেই নির্ধারিত সাংবিধানিক সময়সীমার মধ্যেই নতুন অধিবেশন বসছে।
রাজনৈতিক ও সংসদীয় পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতেও তৃতীয় অধিবেশন তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। কারণ এটি বাজেট অধিবেশনের পর নতুন সংসদীয় পর্বের সূচনা করবে এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, সম্ভাব্য আইন প্রণয়ন, সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্নোত্তর ও আলোচনা এবং সংসদীয় কমিটিগুলোর কাজের ধারাবাহিকতার মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। তবে অধিবেশনে কোন বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাবে, তা কার্য উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে। সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত অধিবেশনের পূর্ণাঙ্গ কার্যসূচি প্রকাশ করা হয়নি।
ফলে ২৭ আগস্টের অধিবেশন একদিকে যেমন সংবিধান নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সংসদের নিয়মিত কার্যক্রম সচল রাখার আনুষ্ঠানিকতা, অন্যদিকে তেমনি নতুন সংসদের আইন প্রণয়ন ও সরকারের জবাবদিহির ধারাবাহিকতা এগিয়ে নেওয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব। অধিবেশনের আগে কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে মেয়াদ ও কার্যসূচি চূড়ান্ত হওয়ার পরই স্পষ্ট হবে সংক্ষিপ্ত পরিসরের এই অধিবেশনে কতগুলো বিল উত্থাপন ও পাস হবে এবং সংসদীয় আলোচনায় কোন কোন জাতীয় ইস্যু গুরুত্ব পাবে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








