দ্বিপক্ষীয় সফর ও ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ ভারতের
ফাইল ছবি
বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নয়াদিল্লিতে দ্বিপক্ষীয় সফর এবং আসন্ন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে গত সোমবার ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।
ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়ে আসছে নয়াদিল্লি। এর পাশাপাশি আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে যোগ দেওয়ার জন্যও আরেকটি পৃথক আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে।
ব্রিকসের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, বিভিন্ন আঞ্চলিক জোটের প্রধানদের এই বিশেষ অধিবেশনে আমন্ত্রণ জানানো হয়। বাংলাদেশ বর্তমানে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের আঞ্চলিক জোট বিমসটেকের (BIMSTEC) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করায় এবং বিমসটেক সচিবালয় ঢাকায় অবস্থিত হওয়ায় মূলত সেই সুবাদেই এই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: দিল্লিতে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে সরকারের ভূমিকা নেই: ভারত
ব্রিকসের আমন্ত্রণ ও দ্বিপক্ষীয় সফর প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, ভারত থেকে দুটি পৃথক আমন্ত্রণ পাওয়া গেলেও ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী অংশ নেবেন কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত বা নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়নি ঢাকা।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন যে, ব্রিকসের আমন্ত্রণটি প্রধানমন্ত্রীকে ব্যক্তিগতভাবে বা শুধু বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে নয়, বরং বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারপারসন হিসেবে প্রদান করা হয়েছে। তাই দুটি আমন্ত্রণকে এক করে দেখার কোনো সুযোগ নেই।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিবর্তে সরকারের অন্য কোনো উচ্চপর্যায়ীয় প্রতিনিধি অংশ নিতে পারেন, তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফরের সুনির্দিষ্ট দিনতারিখ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী রসিকতাপূর্ণ ভঙ্গিতে জানান যে তিনি কোনো জ্যোতিষী নন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের কাছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বা প্রত্যর্পণের বিষয়েও প্রশ্ন করা হয়।
জবাবে রণধীর জয়সোয়াল জানান যে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া ও প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে নতুন কোনো অগ্রগতি বা তথ্য থাকলে তা যথাসময়ে জানানো হবে। এছাড়া আলোচিত ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে মুখপাত্র বলেন যে এটি সম্পূর্ণ একটি আইনি বিষয় এবং বর্তমানে এই ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
উল্লেখ্য, এই হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত কয়েকজন ব্যক্তি পালিয়ে ভারতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে এবং তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ঢাকাল থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








