নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৮:৫৮, ১১ আগস্ট ২০২৬

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস খাটো করার চক্রান্ত চলছে: রিজভী

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস খাটো করার চক্রান্ত চলছে: রিজভী

ছবি: সংগৃহীত

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাসকে খাটো ও বিতর্কিত করার যেকোনো চক্রান্ত প্রতিহত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। 

তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা বাংলাদেশের মূল ভিত্তি এবং এই গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে কোনোভাবেই আন্ডারএস্টিমেট বা লঘু করার সুযোগ নেই। একাত্তরের চেতনার ধারাবাহিকতাতেই চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে এবং এই দুই ঐতিহাসিক অর্জনকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর অপচেষ্টা কোনোদিন সফল হবে না।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী জামায়াতে ইসলামীর ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম এই কর্মসূচি যৌথভাবে আয়োজন করে। 

সংবাদ সম্মেলন শেষে ডিআরইউ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয় এবং সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন, আমাদের মূল পরিচয় আমরা বাংলাদেশি, আর এটি একাত্তরের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের সুমহান অর্জন। আমরা সেই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের উত্তরসূরি, যারা দেশের সীমান্ত অঞ্চলে অস্ত্র হাতে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন। কিন্তু যারা একাত্তরে সরাসরি স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থান পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কাছে পাইয়ে দিয়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে সহায়তা করেছিল, তাদের কোনো বীরত্বের ইতিহাস নেই; তাদের একমাত্র ইতিহাস হলো দালালির ইতিহাস।

আরও পড়ুন: মহাসচিব পদে ফখরুলের সম্ভাব্য বিদায়ে আলোচনায় রিজভী

জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক ভূমিকা ও অতীত আচরণের কঠোর সমালোচনা করে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল ও কৃপা পাওয়ার জন্য দলটি বিভিন্ন সময়ে নানা দল বা মহলের সঙ্গে গোপন আঁতাত করেছে। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে পাতানো পরিস্থিতিতে বিএনপিকে নির্বাচনে অংশ নিতে বাধ্য করার পেছনেও তাদের ভূমিকা ছিল। বর্তমান সময়ে জামায়াতের বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে বিনষ্ট করার চক্রান্তের অংশ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, জামায়াত জোরেশোরে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ার কথা বলছে। অথচ যে দেশটিতে প্রতিনিয়ত মুসলমানদের ওপর নিপীড়ন চালানো হয়, যেখানকার উগ্র রাজনৈতিক নেতৃত্ব বারবার বাংলাদেশের মানুষকে নিয়ে অবমাননাকর ও আক্রমণাত্মক মন্তব্য করে এবং যারা মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলকে নিজেদের পিতৃভূমি বলে মনে করে জামায়াত মূলত তাদের সাথেই গোপন আঁতাত করতে চাইছে। দেশের জনগণ এই দ্বিচারিতা ও ভূরাজনীতির কূটচাল খুব ভালোভাবেই বুঝতে পারে।

জামায়াতের শীর্ষ নেতার বাসভবনে সম্প্রতি আয়োজিত এক চিত্র প্রদর্শনীর তীব্র সমালোচনা করে রিজভী বলেন, সেখানে বাংলাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতার অবিসংবাদিত ঐতিহাসিক চরিত্রগুলোর কোনো ছবি রাখা হয়নি, যা অত্যন্ত উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত। এছাড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে জামায়াতের ছাত্রসংগঠনের পক্ষ থেকে ক্যাম্পাসে বিতর্কিত প্রতীক ও নানা কায়দায় একাত্তরকে হালকা করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এসবের মাধ্যমে সুদূরপ্রসারী এজেন্ডার আওতায় মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনাকে মুছে ফেলার বা বিকৃত করার পাঁয়তারা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, একাত্তরের অবিনাশী চেতনা এ দেশের মানুষের রক্তে এবং বুকের গভীরে প্রথিত রয়েছে বলেই ফ্যাসিবাদের চরম দুঃশাসনে যখন মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও বাকস্বাধীনতা পুরোপুরি কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, তখন নতুন প্রজন্ম রাজপথে বুক পেতে দিয়ে শেখ হাসিনার মতো ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটিয়েছে। ৭১-এর পথ ধরেই ৯০-এর গণঅভ্যুত্থান এবং পরবর্তীতে জুলাইয়ের ঐতিহাসিক গণঅভুত্থান সংঘটিত হয়েছে। সুতরাং, ১৯৭১ ও জুলাইয়ের আন্দোলনকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে কোনটা বড় বা কোনটা ছোট তা যাচাই করার ক্ষুদ্র মানসিকতা দিয়ে কোনো লাভ হবে না। এ দেশের মুক্তিকামী ও সচেতন জনগণ নিজেদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সিনিয়র সহসভাপতি নজরুল ইসলাম, সহসভাপতি জাহেদুল হক শামীম, এবং সহসভাপতি ড. কে এম আই মন্টিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। বক্তারা অবিলম্বে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করার অপচেষ্টা বন্ধ এবং দেশবিরোধী যেকোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়