স্টাফ রিপোর্টার || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৪:৫৮, ২৯ আগস্ট ২০২৬

এআই ব্যবহার করে মামলার রায় লেখা অনৈতিক: প্রধান বিচারপতি

এআই ব্যবহার করে মামলার রায় লেখা অনৈতিক: প্রধান বিচারপতি

প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী বলেছেন, আদালতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে মামলার রায় লেখা বেআইনি না হলেও অনৈতিক।

শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে রাজধানীর এশিয়াটিক সোসাইটি বাংলাদেশ মিলনায়তনে দেশের প্রথম এআই গভর্নেন্স সামার স্কুল উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে প্রধান বিচারপতি বলেন, এআই দিয়ে আপনি যাই করেন আর নাই করেন রায় লিখতে পারবেন না। এটা অনুচিত। হয়তো বেআইনি নয়, কিন্তু নিশ্চিতভাবেই যথাযথ নয় এবং অনৈতিক।

কারণ হিসেবে তিনি বলেন, রায় লিখতে হয় তিনটি জিনিস দিয়ে- ফ্যাক্ট, আইন ও বিবেক বা নৈতিকতা। এই বিবেক কিন্তু আপনি এআই দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না। এটা আপনার চিন্তাশক্তি। মানুষ যখন চিন্তাশক্তি হারিয়ে ফেলবে, আমি মনে করি তখন সে অনেক ছোট হয়ে যাবে।

প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, আমি কীভাবে এআই ব্যবহার করব তা জানতে হবে। জাজমেন্ট লিখতে হবে নিজের বুদ্ধি-বিবেক, আইন ব্যবহার করে।

এআইয়ের দেওয়া তথ্য যাচাই করার ব্যাপারে সজাগ থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

প্রধান বিচারপতি মনে করেন, এআই কোথায় কতটা ব্যবহার করা যাবে সে ব্যাপারে আইন থাকা উচিৎ।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নেতিবাচক দিক বোঝাতে বিদেশি একটি মামলার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এআই ব্যবহার করে উপস্থাপন করা কেস রেফারেন্স আমলে নিয়ে বিচারপতি পক্ষে রায় দিলেন এবং এই রায়টা তিন-চারটা কোর্ট অনুসরণ করল। কিছু দিন পরে গবেষণা করে দেখা গেল, এই ধরনের কোনো মামলার অস্তিত্ব নেই। বিচারপতিরা খুব বিব্রত বোধ করলেন, কিন্তু রায় তো দেওয়া হয়ে গেছে! এআইয়ের ঝুঁকি হচ্ছে, তথ্য যাচাই না করে ব্যবহার করা খুব কঠিন।

তিনি বলেন, ভুলে গেলে চলবে না দেশ বা সমাজ, রাষ্ট্র বা সংবিধান কার জন্য- মানুষের জন্য।

প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, এআইয়ের অবশ্যই ইতিবাচক দিক আছে এবং আমাদের সেটাকে স্বাগত জানাতে হবে। আমাদের ধারণ করতে, অভ্যস্ত হতে হবে। এটাও খেয়াল রাখতে হবে, মানুষের বেঁচে থাকার অধিকারের বিনিময়ে নয়; বেঁচে থাকার অধিকারের সঙ্গে রয়েছে রাইট টু লাইফ, রাইট টু ওয়ার্ক, রাইট টু প্রপার্টি। সবগুলো কিন্তু আমাদের সংবিধানে মৌলিক অধিকার। আমি এআই (ব্যবহার) এমনভাবে করব না, যেন এআই (ব্যবহার) করতে গেলে মানুষের মৌলিক অধিকার খর্ব হয়ে যায়, তাহলে কিন্তু এটা অসাংবিধানিক হয়ে যাবে।

আরও পড়ুন: সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে নিয়োগ পেলেন বিচারপতি হাবিবুল গনি

তিনি আরও বলেন, আমরা এআই নিয়ে খুবই আশান্বিত, উৎসাহিত, হয়তো উদ্বেলিত হতে পারি কিন্তু একইসঙ্গে খেয়াল রাখতে হবে এর নেতিবাচক দিকটা কী?

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়