জেলা সংবাদদাতা || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৩:১০, ৮ জুলাই ২০২৬

৬ হাজার ড্রাগন গাছে বদলে গেছে মাদ্রাসা শিক্ষকের জীবন

৬ হাজার ড্রাগন গাছে বদলে গেছে মাদ্রাসা শিক্ষকের জীবন

ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষকতার পাশাপাশি অবসর সময়কে কাজে লাগিয়ে অনাবাদি জমিতে গড়ে তুলেছেন বাণিজ্যিক ফলের বাগান। আর সেই উদ্যোগই বদলে দিয়েছে লক্ষ্মীপুরের তরুণ শিক্ষক মাজহারুল ইসলাম নাঈমের জীবন। বর্তমানে তার বাগানে রয়েছে প্রায় ৬ হাজার ড্রাগন গাছ। পাশাপাশি পেঁপে, পেয়ারা ও অন্যান্য ফলের পাশাপাশি অর্ধশতাধিক ছাগলও পালন করছেন তিনি।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মধ্য চররমনী মোহন গ্রামের বাসিন্দা নাঈম একটি মাদ্রাসার আইসিটি শিক্ষক। ২০২১ সালে ৩২০ শতাংশ জমি ইজারা নিয়ে তিনি খান এগ্রো পার্ক নামে বাণিজ্যিক ফলের বাগান গড়ে তোলেন।

শুরুর দিকে বাবা নজরুল ইসলাম খানের সহযোগিতায় প্রায় ২৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন তিনি। কৃষিতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও ইউটিউব ও অনলাইন থেকে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিতভাবে ড্রাগন, পেয়ারা ও পেঁপের চাষ শুরু করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাগানের পরিধি ও উৎপাদন দুটোই বেড়েছে। বর্তমানে এ প্রকল্পে মোট বিনিয়োগ অর্ধকোটি টাকায় পৌঁছেছে।

বাগানজুড়ে সারিবদ্ধ ড্রাগন গাছে এখন কাঁচা, আধাপাকা ও পাকা ফলে ভরে উঠেছে। শ্রমিকরা নিয়মিত ফল সংগ্রহ, বাছাই, প্যাকেজিং ও বাজারজাতের কাজ করছেন। সেখান থেকে পাইকাররা সরাসরি ফল সংগ্রহ করেন।

নাঈম জানান, চলতি মৌসুমে শুধু ড্রাগন বিক্রি থেকেই ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা আয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে চাকরির পাশাপাশি তিনি বাগানের তদারকি করেন এবং স্থানীয় কয়েকজন শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় কৃষক আবুল হোসেন ও তোফায়েল আহমদ বলেন, ড্রাগন চাষে রোগবালাই তুলনামূলক কম এবং বাজারমূল্য ভালো হওয়ায় এটি লাভজনক। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পেলে আরও অনেক কৃষক এ চাষে আগ্রহী হবেন।

নাঈম বলেন, করোনা মহামারির সময় ইউটিউব ও অনলাইন থেকে ড্রাগন চাষ সম্পর্কে ধারণা নিয়েছিলাম। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই যাত্রা শুরু করি। এখন বাগানে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে, দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষ দেখতে আসছেন।

নাঈমের বাবা নজরুল ইসলাম খান জানান, তিনি বাগানের তদারকি ও বাজারজাতকরণের দায়িত্ব পালন করেন। শুরুতে বিষয়টি নতুন হলেও এখন অভিজ্ঞতা বেড়েছে এবং ফলনও ভালো হচ্ছে। মৌসুমের শুরুতে প্রতি কেজি ড্রাগন ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে বাজারদর ১৫০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে রয়েছে।

আরও পড়ুন: রাজশাহীতে পেঁয়াজের দরপতন, লোকসানের মুখে কৃষক

লক্ষ্মীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মঞ্জুর হোসেন বলেন, তরুণ উদ্যোক্তা নাঈমের প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ অনাবাদি জমিকে লাভজনক কৃষিখামারে পরিণত করেছে। একই সঙ্গে এটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়