মুন্সীগঞ্জে পাট চাষে বাড়ছে আগ্রহ, আবাদ ছাড়াল ৩ হাজার ৩৬৪ হেক্টর
ছবি: সংগৃহীত
চলতি মৌসুমে মুন্সীগঞ্জ জেলায় পাট চাষে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে। জেলায় এবার ৩ হাজার ৩৬৪ হেক্টর জমিতে পাট আবাদ হয়েছে, যা গত মৌসুমের তুলনায় ৫১ হেক্টর বেশি।
মুন্সীগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩ হাজার ৩১৩ হেক্টর জমি। বাজারে পাটের ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় এবার লক্ষ্য ছাড়িয়ে ৩ হাজার ৩৬৪ হেক্টর জমিতে পাট আবাদ হয়েছে। গত মৌসুমে এ আবাদ ছিল ৩ হাজার ৩১৩ হেক্টর।
জেলায় এবার মুন্সীগঞ্জ সদরে ৫৬১ হেক্টর, টংগিবাড়ীতে ৭৭৪ হেক্টর, শ্রীনগরে ২৩০ হেক্টর, সিরাজদিখানে ১ হাজার ১২৭ হেক্টর, লৌহজংয়ে ৫২০ হেক্টর এবং গজারিয়ায় ১৫২ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। এ মৌসুমে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ৩০৫ বেল।
বাংলাবাজার এলাকার পাটচাষি আলম মোল্লা বলেন, ১০ গন্ডা জমিতে পাট চাষ করেছি। বাজারে চাহিদা ও দাম ভালো থাকায় পাট চাষ লাভজনক হয়েছে। তবে পাট জাগ দেওয়ার সময় পানির সংকটে কুচুরি পানা দিয়ে ঢেকে রাখতে হয়, এতে খরচ বেড়ে যায়।
আরেক চাষি কামাল ব্যাপারী বলেন, আগে পাট কাটার জন্য শ্রমিক পাওয়া যেত না। এখন পাটখড়ির চাহিদাও বেড়েছে। গত বছর পাটের দাম ছিল মণপ্রতি প্রায় ৩ হাজার টাকা। আগে বাজারে তেমন চাহিদা ছিল না।
মুন্সীগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ ড. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, পাটের বাজার মূল্য ভালো থাকায় কৃষকরা পাট চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। উন্নত জাতের পাট ‘জেআরও ৫২৪’ চাষে কৃষকদের উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন: রংপুরে তামাক কোম্পানির প্রতারণার ফাঁদ, ঘুরে দাঁড়াচ্ছে চাষিরা
তিনি আরও বলেন, এই জাতের পাটে শাখা-প্রশাখা কম হওয়ায় আঁশের মান উন্নত হয় এবং পচানোর পর আঁশ সহজে ও ক্ষতিহীনভাবে ছাড়ানো যায়। কৃষকদের প্রণোদনা হিসেবে ৬০০ জন চাষিকে ১ কেজি বীজ এবং ৫ কেজি করে এমওপি ও ডিএপি সার দেওয়া হয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি








