২০২৭ থেকে নতুন শিক্ষা, ২০২৮-এ বড় সংস্কার
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের অনার্স প্রথম বর্ষের স্থগিত হওয়া একটি পরীক্ষার পরিবর্তিত সময়সূচি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি চক্র বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। বিষয়টি সম্পূর্ণ ভুয়া ও ভিত্তিহীন বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে, দেশের পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে মেধা, নৈতিকতা ও আধুনিক প্রযুক্তির সাথে সমন্বয় করে পুনর্গঠনের সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের শিক্ষা অগ্রাধিকার নীতির আওতায় শিক্ষাক্রম সংস্কার এবং বেকারত্ব দূরীকরণে একাধিক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হাতে নেওয়া হয়েছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নতুন সিলেবাসের পত্রকোড ২১২১০৯ (ইন্ট্রোডাকশন টু সোশ্যাল ওয়ার্ক বা সমাজকর্ম পরিচিতি) বিষয়ক স্থগিত পরীক্ষার তারিখ নিয়ে ফেসবুকে বা অন্য কোনো সামাজিক মাধ্যমে যে সময়সূচি প্রচার করা হচ্ছে, তার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। অনিবার্য কারণে কেবল ওই একটিমাত্র বিষয়ের পরীক্ষাই স্থগিত করা হয়েছিল। তবে এর পরিবর্তিত তারিখ এখনো চূড়ান্ত বা ঘোষণা করা হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্থগিত পরীক্ষার নতুন তারিখ নির্ধারিত হলে তা কেবল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে (www.nu.ac.bd) প্রকাশ করা হবে। তাই ভিত্তিহীন কোনো রুটিন বা সময়সূচি দেখে শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট কলেজগুলোকে বিভ্রান্ত না হওয়ার এবং কেবল অফিসিয়াল মাধ্যম অনুসরণের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষাকে যুগোপযোগী ও কর্মমুখী করতে দেশজুড়ে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানিয়েছেন, মেধা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুন রূপ দিতে কাজ শুরু হয়েছে। সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে দেশের পুরো শিক্ষাক্রম বা কারিকুলামে ব্যাপক ও দৃশ্যমান সংস্কার আনা হবে।
আরও পড়ুন: গোল্ডকাপ ঘিরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারের ৭ নির্দেশনা
তবে এর অন্তর্বর্তীকালীন ধাপ হিসেবে আগামী শিক্ষাবর্ষ (২০২৭) থেকেই পাঠ্যপুস্তকে প্রয়োজনীয় পরিমার্জন, সংযোজন ও বিয়োজন করা হচ্ছে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং রোবটিক্সের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাথে শিক্ষার্থীদের পরিচিত করতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে নতুন কিছু বিষয় ও বই অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা ও সংস্কৃতিভিত্তিক স্পোর্টস অ্যান্ড কালচার এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস ও টেকনিক্যাল এডুকেশন বা কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
পূর্বের ফ্যাসিবাদী আমলের ত্রুটিপূর্ণ মূল্যায়ন ও কৃত্রিমভাবে জিপিএ-৫ বাড়িয়ে দেখানোর আত্মঘাতী সংস্কৃতি থেকে সরে এসেছে বর্তমান প্রশাসন। শিক্ষা উপদেষ্টা স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো ধরনের গ্রেস নম্বর না দিয়ে শিক্ষার্থীদের শতভাগ নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বাস্তবসম্মত মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে। সদ্য প্রকাশিত এসএসসিতে অকৃতকার্য বা ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ পুনর্বাসন নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। এদেরকে টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) এবং স্বল্পমেয়াদি ভোকেশনাল কোর্সের মাধ্যমে কর্মসংমুখী করে তোলার পাশাপাশি উদ্যোক্তা হতে আর্থিক সহায়তার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
দেশের শিক্ষিত যুবসমাজের বেকারত্ব দূর করতে বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীরা নিজেদের দক্ষতার নিবন্ধন করতে পারবেন এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপন সহজ হবে। এছাড়া শিক্ষকদের ডিজিটাল সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে তুলতে পর্যায়ক্রমে ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব কর্মসূচির আওতায় দেশের সব স্তরের শিক্ষকদের হাতে ট্যাবলেট পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার বাজেট ও সুযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় শিল্পের নানামুখী সমস্যা সমাধানে যৌথ গবেষণার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশি গবেষকদের দেশে ফিরিয়ে এনে ব্রেন ড্রেন-কে ব্রেন সার্কুলেশনে রূপান্তর করার রূপরেখাও প্রস্তুত করা হয়েছে।
সরকারের মূল লক্ষ্য কেবল সনদসর্বস্ব শিক্ষা প্রদান নয়; বরং দক্ষ, কর্মক্ষম, নীতিবান ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন একটি আধুনিক প্রজন্ম তৈরি করার মাধ্যমে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








