নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১২:২৩, ২৬ আগস্ট ২০২৬

গোল্ডকাপ ঘিরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারের ৭ নির্দেশনা

গোল্ডকাপ ঘিরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারের ৭ নির্দেশনা

ফাইল ছবি

দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনা এবং তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান ফুটবলার খুঁজে বের করার সুদূরপ্রসারি লক্ষ্য নিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০২৬। এই মেগা টুর্নামেন্টকে সফল ও দেশব্যাপী উৎসবমুখর করে তুলতে দেশের সকল স্কুল, কলেজ, মাদরাসা এবং মাঠপর্যায়ের শিক্ষা অফিসগুলোর জন্য সাত দফা কঠোর ও ব্যাপক প্রচারমূলক নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। 

সম্প্রতি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক গুরুত্বপূর্ণ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত ২৪ আগস্ট মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) শারীরিক শিক্ষা বিভাগ এবং ২৫ আগস্ট বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নির্দেশনাগুলো মাঠপর্যায়ে পাঠানো হয়েছে।

আয়োজনের প্রচার কার্যক্রমকে গণমুখী করতে মাঠপর্যায়ের শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট সব অফিস এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অফিস ও প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ও দর্শনীয় স্থানে প্রতিযোগিতার লোগো, মাসকট, ড্রপডাউন-গেট ব্যানার এবং ফেস্টুন প্রদর্শন। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল প্রবেশদ্বার বা প্রধান ফটকে আবশ্যিকভাবে ব্যানার টানাতে হবে এবং ভেতরের দর্শনীয় স্থানেও ড্রপডাউন ব্যানার ঝুলিয়ে রাখতে হবে। এছাড়া ক্লাস চলাকালীন প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে নোটিশ পাঠ করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের এই টুর্নামেন্ট সম্পর্কে অবহিত করতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক প্রচারের অংশ হিসেবে মূল নোটিশ বোর্ডে তথ্য প্রদর্শনের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং সোশ্যাল মিডিয়া পেজ বা গ্রুপেও নিয়মিত ব্যানার ও তথ্য প্রচারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রচারের সুবিধার জন্য লোগো, মাসকট ও ব্যানারযুক্ত নির্দিষ্ট গুগল ড্রাইভের লিংক সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তির সঙ্গেই সরবরাহ করা হয়েছে।

প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে এই টুর্নামেন্টটি আয়োজনের বিশাল কর্মযজ্ঞ হাতে নেওয়া হয়েছে। সংশোধিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ৯ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মাঠের লড়াই শুরু হবে। টুর্নামেন্টটি মূলত মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক এই দুই স্তরে বিভক্ত এবং এতে মোট চারটি বিভাগে খেলা অনুষ্ঠিত হবে। বিভাগগুলো হলো মাধ্যমিক পর্যায় (বালক), মাধ্যমিক পর্যায় (বালিকা-ঐচ্ছিক), উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় (বালক) এবং উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় (বালিকা-ঐচ্ছিক)।

প্রতিযোগিতাটি মোট চার ধাপে উপজেলা বা থানা, জেলা, শিক্ষা অঞ্চল এবং জাতীয় পর্যায়ে নকআউট পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও যাতায়াত সহজ করার জন্য উপজেলা পর্যায়ের খেলাগুলো চার থেকে পাঁচটি ভিন্ন ভেন্যুতে আয়োজনের নির্দেশনা রয়েছে।

আরও পড়ুন: মাউশিতে শিক্ষকদের সোশ্যাল মিডিয়া নজরদারি

মাধ্যমিক স্তরে উপজেলা বা থানার খেলা ৯ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর, জেলা পর্যায়ে খেলা ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর, শিক্ষা অঞ্চল পর্যায়ে ২২ থেকে ২৫ অক্টোবর এবং জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত খেলা ২৭ থেকে ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে, উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে উপজেলা বা থানা স্তরের খেলা ১ থেকে ১০ অক্টোবর, জেলা স্তরের খেলা ১৩ থেকে ২০ অক্টোবর, এবং শিক্ষা অঞ্চল ও জাতীয় পর্যায়ের খেলা যথাক্রমে ২২ থেকে ২৫ ও ২৭ থেকে ৩০ অক্টোবরের মধ্যে সম্পন্ন হবে। আঞ্চলিক বিন্যাসের ক্ষেত্রে ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ এই সাত শিক্ষা অঞ্চলের সঙ্গে কুমিল্লা ও সিলেট অঞ্চলের যৌথ বাছাই থেকে একটি দল যুক্ত হয়ে জাতীয় পর্যায়ে মোট আটটি আঞ্চলিক দল একে অপরের মুখোমুখি হবে। জাতীয় পর্যায়ে দুই স্তরে বালক ও বালিকা মিলিয়ে মোট ৩২টি দল (প্রতি স্তরে ১৬টি করে) চূড়ান্ত লড়াইয়ে অংশ নেবে।

অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের বয়স ও যোগ্যতার বিষয়টি কঠোরভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের হিসেবে মাধ্যমিক পর্যায়ের খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ বয়স ১৭ বছর এবং উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের খেলোয়াড়দের বয়স সর্বোচ্চ ১৯ বছর হতে হবে। খেলোয়াড়দের অবশ্যই নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়মিত শিক্ষার্থী হতে হবে, তবে চলমান এসএসসি বা এইচএসসি পরীক্ষার্থীরাও নিজ প্রতিষ্ঠানের হয়ে এই টুর্নামেন্টে খেলতে পারবেন। প্রতিটি দল ১৬ জন খেলোয়াড় এবং ২ জন কর্মকর্তা (কোচ ও টিম ম্যানেজার) নিয়ে গঠিত হবে। বিশেষ করে বালিকা দলের ক্ষেত্রে ডাগআউটে বা দলের সঙ্গে অন্তত একজন নারী শিক্ষিকা থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রতিটি ম্যাচের নির্ধারিত সময় ৯০ মিনিট এবং খেলা অমীমাংসিত থাকলে টাইব্রেকারের মাধ্যমে বিজয়ী নির্ধারিত হবে। এছাড়া ম্যাচে কৌশলগত কারণে সর্বোচ্চ পাঁচজন খেলোয়াড় বদলি করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

টুর্নামেন্টের পবিত্রতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ। প্রতিযোগিতায় কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অবৈধ, বয়স জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া বা অপেশাদার খেলোয়াড় নামালে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী, শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক এবং প্রতিষ্ঠানপ্রধানের বিরুদ্ধে জোরালো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া কোনো দল পাতানো খেলায় অংশ নিলে বা ইচ্ছাকৃতভাবে মাঠ ছেড়ে চলে গেলে শৃঙ্খলা উপকমিটির সুপারিশে সংশ্লিষ্ট দলকে টুর্নামেন্ট থেকে সর্বোচ্চ দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হতে পারে। এমনকি রেফারি, প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় বা সংশ্লিষ্ট কাউকে লাঞ্ছিত করার মতো অপ্রীতিকর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দল ও খেলোয়াড়কে তাৎক্ষণিকভাবে বহিষ্কারের বিধান রাখা হয়েছে।

তৃণমূল থেকে দেশের ফুটবলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার এই মহাযজ্ঞে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলগুলোকে ট্রফি, মেডেল ও আকর্ষণীয় প্রাইজমানি বা নগদ অর্থ প্রদান করা হবে। পাশাপাশি প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ধাপে সেরা খেলোয়াড়, সেরা গোলরক্ষক এবং সর্বোচ্চ গোলদাতাদের জন্যও বিশেষ পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়