নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৬:০৪, ১৮ আগস্ট ২০২৬

কম হোক, বেশি হোক শিক্ষকদের সঙ্গে কারও তুলনা চলে না: শিক্ষামন্ত্রী

কম হোক, বেশি হোক শিক্ষকদের সঙ্গে কারও তুলনা চলে না: শিক্ষামন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

জাতি গঠনে শিক্ষকদের অনন্য ভূমিকা ও অবদান মূল্যায়ন করে তাদের জন্য একটি স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো বা পে-স্কেল প্রণয়নের বিষয়টি সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। 

তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, শিক্ষকদের বেতন-ভাতা অন্য কোনো পেশার সঙ্গে তুলনা করে নির্ধারণ করা উচিত নয়। শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা এবং জীবনমান উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে তথ্যপুস্তক পর্যালোচনা বিষয়ক খেলায় খেলায় শিখি শীর্ষক জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। 

জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) এবং সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন নেপের মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, সেভ দ্য চিলড্রেনের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমন সেনগুপ্ত এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী।

শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়ে বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের পক্ষ থেকে নানা ধরনের প্রস্তাব আসায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা চলছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলন। 

তিনি বলেন, শিক্ষকদের জন্য একটি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র পে-স্কেল বা বেতন কাঠামো তৈরি করা যেতে পারে, যা অন্য কোনো পেশার কাঠামোর সঙ্গে তুলনীয় হবে না।

এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষকদের পে-স্কেল অন্যদের সঙ্গে তুলনা না করে সম্পূর্ণ আলাদা হওয়া উচিত। বেতন কম হোক কিংবা বেশি, জাতি গড়তে শিক্ষকদের আত্মত্যাগের সঙ্গে অন্য কারও তুলনা চলে না। 

আরও পড়ুন: মন খুলে গান গাওয়া যায়, কিন্তু নম্বর দেওয়া যায় না

জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের কোনো কোনো সদস্য কর্তৃক শিক্ষকদের বেতন নিয়ে তুলনামূলক আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এ ধরনের তুলনা শিক্ষকদের সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। শিক্ষকদের কেবল আর্থিক সচ্ছলতা নয়, বরং তাদের সামাজিক মর্যাদা ও পেশাগত উৎকর্ষ নিশ্চিত করার ওপরও বিশেষ জোর দিতে হবে।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে বিদ্যমান শিক্ষক ঘাটতির বিষয়টি তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য রয়েছে। মূলত ২০১৭ সাল থেকে বিভিন্ন আইনি জটিলতা, রিট মামলা এবং প্রশাসনিক নানা বাধার কারণে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার এই স্থবিরতা ভেঙে দ্রুততম সময়ের মধ্যে শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। পাশাপাশি, দেশের বিশাল যুবশক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর ওপরও বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষ প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ মুখস্থনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, শিশুদের মধ্যে সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা (ক্রিটিক্যাল থিংকিং) ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়াতে খেলাধুলা ও আনন্দের মাধ্যমে শিখন পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকর। 

জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) ও সহযোগী সংস্থাগুলোর গবেষণার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, শিশুদের পাঠদান আরও আকর্ষণীয় করতে ইতোমধ্যে স্থানীয় সংস্কৃতির ৪১২টি খেলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া আরও ৭০০টির বেশি লোকজ খেলাকে সুনির্দিষ্ট নিয়মের আওতায় এনে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার কাজ চলমান রয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলনও এ সময় শিশুদের জন্য স্কুলগুলোতে খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত জায়গা ফিরিয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন, যা তাদের মানসিক বিকাশ ও সৃজনশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়