স্বর্ণের দামে আবার উত্তাপ
ফাইল ছবি
দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে নতুন এই দর কার্যকর হয়েছে এবং রবিবার (১৬ আগস্ট) দেশের বাজারে এই নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী স্বর্ণ বিক্রি অব্যাহত রয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই মূল্য কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে বাজুস।
সর্বশেষ সমন্বয় অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ২৬ হাজার ১৬৫ টাকায়, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৪ হাজার ২০৬ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এই নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম স্বর্ণের মূল দাম দাঁড়ায় আনুমানিক ২০ হাজার ৩৩৬ টাকা। তবে জুয়েলারিগুলো থেকে অলংকার কেনার সময় ডিজাইনের ওপর ভিত্তি করে বাজুস নির্ধারিত মজুরি এবং পাথরের মূল্য আলাদাভাবে যুক্ত হবে।
বাজুসের স্পষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী, বিক্রয়মূল্যের সঙ্গেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না।
আরও পড়ুন: দেশের বাজারে আবারও বাড়লো সোনার দাম
স্বর্ণের বাজারের এই অস্থিরতা নতুন নয়। মাত্র একদিন আগেই, গত ১৪ আগস্ট সকালে বাজুস প্রতি ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম ফের ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় আগের সেই কমানো দাম মাত্র কয়েক ঘণ্টা কার্যকর ছিল। সর্বশেষ সমন্বয়ে ঠিক আগের কমানো অংকের সমপরিমাণ অর্থাৎ ২ হাজার ১৫৮ টাকা বাড়িয়ে আগের অবস্থানে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
চলতি ২০২৬ সালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয়ের ঘটনা এখন পর্যন্ত রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। বছরের এই সময় পর্যন্ত বাজুস মোট ১০৪ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে। এর মধ্যে ৫২ দফায় দাম বাড়ানো হয়েছে, ৫১ দফায় কমানো হয়েছে এবং একবার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। এর আগের বছর ২০২৫ সালেও স্বর্ণের বাজারের এই অস্থিতিশীলতা লক্ষ্য করা গিয়েছিল; সে বছর মোট ৯৩ বার দাম সমন্বয় করা হয়, যার মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল।
অন্যদিকে, স্বর্ণের দামের এই ঘন ঘন পরিবর্তন ও বৃদ্ধি চললেও রুপার দামে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। বর্তমানে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ৭৪ টাকায়, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৮৪১ টাকায়, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ১৯৯ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ১৪৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চলমান বছরে রুপার দামও ৬২ দফা সমন্বয় করেছে বাজুস।
অর্থনীতিবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে এবং স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য বজায় রাখতে বাজুস নিয়মিত বিরতিতে এই সমন্বয় করে থাকে। তবে স্বর্ণের এমন অস্বাভাবিক ও ঘন ঘন দাম পরিবর্তনের ফলে মধ্যবিত্ত ও সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে অলংকার কেনার ক্ষেত্রে এক ধরনের ধোঁয়াশা ও সতর্কতা কাজ করছে।
স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণ সরাসরি আন্তর্জাতিক বাজারের প্রবণতার ওপর নির্ভরশীল, যা বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। বাজুসের এই সর্বশেষ সিদ্ধান্তের ফলে দেশের জুয়েলারি খাতের ব্যবসায়ীরাও পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছ।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








