নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২০:১৮, ১৫ আগস্ট ২০২৬

‘আগামী ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে তুলে ধরব’

‘আগামী ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে তুলে ধরব’

ছবি: সংগৃহীত

দেশজুড়ে চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে দেশবাসীর কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, আগামী ২৭ আগস্ট শুরু হতে যাওয়া সংসদ অধিবেশনে আগামী ১০ বছরে দেশের জ্বালানি ব্যবস্থার টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা জনগণের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হবে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে রাজধানী ঢাকার মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি কলোনি মাঠে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দুস্থ, অসহায় ও অসুস্থ মানুষের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

বিগত সরকারের আমলের ব্যাপক দুর্নীতি এবং জ্বালানি খাতে বিপুল পরিমাণ ঋণের বোঝা দেশকে ফোকলা করে দিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন সরকারপ্রধান।

অনুষ্ঠানে বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে প্রায় তিন লাখ কোটি টাকার বিশাল অঙ্কের দেনা রেখে গেছে। পাশাপাশি সময়মতো জ্বালানি আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো বা এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ না করায় বর্তমান সরকারকে চরম প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এর ওপর সাম্প্রতিক সময়ে একটি এলএনজি সরবরাহকারী জাহাজে সাময়িক দুর্ঘটনা ঘটায় গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে। তবে অভ্যন্তরীণ গ্যাস অনুসন্ধানে ইতিমধ্যে বাপেক্সকে (বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি) জোরালো নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং তৃতীয় এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই গ্যাস সংকটের দৃশ্যমান উন্নতি ঘটবে এবং পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং বা বিদ্যুৎ সংকট কমে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুন: শিক্ষকদের ঘুষ দিতে হলে জাতি হিসেবে দীনতা প্রকাশ পায়: প্রধানমন্ত্রী

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলগুলোর রাজনৈতিক কর্মসূচির কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে যারা ক্ষমতায় থেকে দেশের জ্বালানি খাতকে ধ্বংস করেছে, তারাই আজ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে বা ফ্যানের নিচে থেকে লোক দেখানো হঠকারী আন্দোলন করছে। রাস্তায় বসে অরাজকতা সৃষ্টির দিন শেষ উল্লেখ করে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে গঠনমূলক পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানান।

সমালোচকদের উদ্দেশে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা যদি মনে করেন জনগণের প্রতি প্রকৃত দায়িত্ব রয়েছে, তবে শুধু রাজনৈতিক স্লোগান না দিয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে আসুন। আপনাদের পরিকল্পনা যদি আগামী ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে চলমান জ্বালানি সংকট সমাধান করতে পারে, তবে সরকারের পক্ষ থেকে সেই পরিকল্পনা সাদরে গ্রহণ করা হবে এবং তা বাস্তবায়ন করা হবে। অন্যথায় কেবল রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল বা জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য মিথ্যাচার করলে জাতির কাছে তাদের অবশ্যই ক্ষমা চাইতে হবে।

অনুষ্ঠানে দেশের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান যে, বর্তমান সরকার জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ইতিপূর্বেই ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো যুগান্তকারী কার্যক্রমের সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে শুরু করেছে। এছাড়া কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও জলাবদ্ধতা নিরসনে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি চলমান রয়েছে, যার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ড্রে ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে বলেও তিনি ঘোষণা দেন।

অনুষ্ঠানে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ও দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় তার আপসহীন সংগ্রামের কথা স্মরণ করা হয় এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়