আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:৫০, ১৫ আগস্ট ২০২৬

আবার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়ায়

আবার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়ায়

ছবি: সংগৃহীত

একই দিনে শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে ইন্দোনেশিয়া। শনিবার (১৫ আগস্ট) ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে ইন্দোনেশিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা। 

এদিন ভোরে দেশটির পূর্বাঞ্চলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর সন্ধ্যায় উত্তর সুমাত্রা প্রদেশে ৬ দশমিক ৪ মাত্রার আরেকটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এই জোড়া ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৮ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেকে আটকা পড়ে থাকায় এবং উদ্ধারকাজ ব্যাহত হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও উদ্ধারকর্মীরা।

শনিবার ভোরে ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের ফ্লোরেস দ্বীপের উপকূলীয় এলাকায়। ভোরের এই শক্তিশালী কম্পনের পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, মুহূর্তের মধ্যে বহু ঘরবাড়ি ও ভবন ধসে পড়ছে। ভূমিকম্পের পরপরই ওই অঞ্চলে সাময়িকভাবে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছিল এবং উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নেন। 

ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিদ্যা সংস্থা (বিএমকেজি) পরবর্তী সময়ে জানায়, উপকূলের কিছু স্থানে এক মিটারের কম উচ্চতার সুনামি ঢেউ রেকর্ড করা হয়েছে, তবে পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সুনামি সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়েছে।

ফ্লোরেস দ্বীপের পরিস্থিতি তুলে ধরে উদ্ধার কর্মকর্তা ফাথুর রহমান জানিয়েছেন, দ্বীপের চারটি শহরে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে এবং প্রতিবেশী মাংগারাই অঞ্চলেও অনেকে আটকা পড়েছেন। মাংগারাইকে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের সিক্কা শহরের বাসিন্দা ইয়োহান্না এমবু এএফপিকে জানান, চোখের সামনে বন্দর এলাকার ভবন ভেঙে পড়তে দেখা এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা ছিল। 

আরও পড়ুন: ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ৩৮

প্রদেশটির গভর্নর ইমানুয়েল মেলকিয়েদেস লাকা লেনা এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ধসে পড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে ঘুমের মধ্যেই অনেকের মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিক সরকারি হিসাবে ৫৪টি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি পাঁচটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, তিনটি উপাসনালয়, ছয়টি সরকারি ভবন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও একটি গুদাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূমিধসের কারণে দুর্গম এলাকাগুলোর অনেক সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।

ভোরের ধ্বংসযজ্ঞের রেশ কাটতে না কাটতেই স্থানীয় সময় বিকাল ৫টা ৫৪ মিনিটে উত্তর সুমাত্রা প্রদেশে ৬ দশমিক ৪ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। 

ভূকম্পন ও আগ্নেয়গিরি বিষয়ক ওয়েবসাইট ভলকানো ডিসকভারি এবং বিএমকেজি জানিয়েছে, ভূমিকম্পটি ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৬৩ থেকে ১৬৮ কিলোমিটার গভীরে সংঘটিত হয় এবং এর উৎপত্তিস্থল ছিল সিমালুংগুন এলাকার দক্ষিণ-পূর্বে। পেমাতাংসিয়ান্তার শহরের নিকটবর্তী এই ভূমিকম্পটি তেবিং তিঙ্গি, কাবানজাহে ও লিমাপুলু এলাকার বাসিন্দারা বেশ জোরালোভাবে অনুভব করেছেন। 

তবে সৌভাগ্যবশত, সন্ধ্যার এই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। বিএমকেজি স্পষ্ট করেছে যে, দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি থেকে সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই।

প্রসঙ্গত, ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের সবচেয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা প্যাসিফিক রিং অব ফায়ার-এর ওপর অবস্থিত হওয়ায় সেখানে প্রায়ই বড় মাত্রার ভূমিকম্প ঘটে। 

ইতিহাসের ভয়াবহতা স্মরণ করিয়ে দিয়ে স্থানীয়রা জানান, ১৯৯২ সালে এই ফ্লোরেস দ্বীপে এক শক্তিশালী ভূমিকম্প ও সুনামিতে প্রায় আড়াই হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। এছাড়া ২০০৪ সালে ভারত মহাসাগরে সৃষ্ট বিধ্বংসী সুনামিতে ইন্দোনেশিয়ায় প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে কাউকে প্রবেশ না করার নির্দেশ দিয়েছে এবং আফটারশকের বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলেছে। পুরো অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ এখন শোক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন, আর উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিতদের খোঁজে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়