অজিদের ৯ উইকেটে হারিয়ে ঐতিহাসিক জয় বাংলাদেশের
ছবি: সংগৃহীত
লাল-সবুজের ক্রিকেট ইতিহাসে এর চেয়ে রোমাঞ্চকর, শিহরণ জাগানিয়া এবং গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় সম্ভবত আর আসেনি। অস্ট্রেলিয়ার রুক্ষ মাটি ও বাউন্সি উইকেট উপমহাদেশের যেকোনো দলের জন্যই বরাবরই এক অলঙ্ঘনীয় প্রাচীর হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। সেই দুর্গম কেল্লাতেই চার দিন ধরে বুক চিতিয়ে রাজত্ব করেছে টাইগাররা। ডারউইনের টিআইও স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম টেস্টে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে উড়িয়ে দিয়ে নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছে বাংলাদেশ। এ জয়ের ফলে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল সফরকারীরা।
টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। তবে পেস সহায়ক উইকেটে শুরু থেকেই অজি ব্যাটসম্যানদের ওপর চড়াও হন বাংলাদেশের পেসাররা। পেসার হাসান মাহমুদের বিধ্বংসী বোলিং তোপে মাত্র ১৯৫ রানেই গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস, যা টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে অজিদের সর্বনিম্ন ইনিংসের লজ্জার রেকর্ড। একাই ৬টি উইকেট শিকার করেন হাসান মাহমুদ। অজিদের হয়ে একমাত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন স্টিভ স্মিথ, যিনি করেন ৭১ রান।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে পাহাড়সম সংগ্রহ দাঁড় করায় বাংলাদেশ। ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে অজি বোলিং লাইনআপকে খাদে ফেলে দেন। তার ১৯৭ বলের ঐতিহাসিক ১০১ রানের মহাকাব্যিক ইনিংসের পাশাপাশি নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪ এবং মেহেদী হাসান মিরাজের দায়িত্বশীল ৬৫ রানের সুবাদে বাংলাদেশ সব উইকেট হারিয়ে ৪২৬ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২২৮ রানের বিশাল ও স্বস্তিদায়ক লিড পায় টাইগাররা।
আরও পড়ুন: মিরাজের ঘূর্ণির পরও লিড নিয়ে ঘুরে দাঁড়াল অস্ট্রেলিয়া
বিপুল রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামা অস্ট্রেলিয়া শুরু থেকেই বাংলাদেশের বোলিং তোপের মুখে পড়ে। অজি শিবিরে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন ক্যামেরন গ্রিন। দীর্ঘ লড়াই করে তিনি ২০১ বলে ১০৪ রানের দুর্দান্ত একটি সেঞ্চুরি তুলে নেন। তবে তাকে বোল্ড করে অস্ট্রেলিয়ার শেষ আশাটুকুও নিভিয়ে দেন সেই হাসান মাহমুদ।
অন্যদিকে স্পিন জাদুঘর খুলে বসেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ২০১৯ সালে ভারতীয় স্পিনার কুলদীপ যাদবের পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোনো সফরকারী স্পিনার হিসেবে ৫ উইকেট নেওয়ার বিরল কীর্তি গড়েন মিরাজ। দ্বিতীয় ইনিংসে মিরাজ নেন ৫ উইকেট এবং হাসান মাহমুদ শিকার করেন ৩ উইকেট। শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮৪ রানে অলআউট হলে বাংলাদেশের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রান।
জয়ের জন্য অতি সহজ এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইনিংসের একদম শুরুতে জোশ হ্যাজলউডের বলে কোনো রান না করে ফেরেন প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা তানজিদ হাসান তামিম। তবে সেই প্রাথমিক ধাক্কাকে শক্তিতে রূপান্তর করেন অভিজ্ঞ মুমিনুল হক ও ওপেনার সাদমান ইসলাম। অজি পেসার মিচেল স্টার্ক বা স্পিনার নাথান লায়নের কোনো আক্রমণই তাদের বিন্দুমাত্র টলাতে পারেনি।
শেষ পর্যন্ত মুমিনুল হক ৩০* এবং সাদমান ইসলাম ২৫* রানে অপরাজিত থেকে ১৪.২ ওভারেই দলের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন। মুমিনুলের ব্যাট থেকে আসা বাউন্ডারিয়েই পূর্ণতা পায় বাংলাদেশের এই মহাকাব্যিক জয়।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








