ছয় মাসেই মন্ত্রিসভায় বড় রদবদল
ছবি: নিউজবাংলাদেশ
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্তি এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে।
মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্যের হাতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থাকা, সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং সরকারের ভাবমূর্তি সব মিলিয়ে সীমিত পরিসরে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন ও নতুন মুখ অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি সামনে এসেছে। একই সঙ্গে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী করার পর তাঁর হাতে থাকা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কে পাচ্ছেন, সেটিও সম্ভাব্য রদবদলের কেন্দ্রীয় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। তবে আলোচনায় থাকা কোনো তালিকাই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি; শেষ সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীরই।
সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রীদের ছয় মাসের কর্মদক্ষতা পর্যালোচনার কথা জানিয়েছিলেন। একই সঙ্গে প্রথম ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার নির্ধারিত সময়সীমা ১৬ আগস্ট শেষ হচ্ছে এবং মন্ত্রণালয়গুলো তাদের অগ্রগতি ও অর্জনসংক্রান্ত তথ্যও জমা দিয়েছে। অন্যদিকে ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের হিসাবে ১৭ আগস্ট ছয় মাস পূর্ণ হচ্ছে। ফলে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার মূল্যায়ন এবং ছয় মাস পূর্তির রাজনৈতিক-প্রশাসনিক পর্যালোচনা দুই প্রক্রিয়াই একই সময়ে মন্ত্রিসভার ভবিষ্যৎ কাঠামো নির্ধারণে প্রভাব ফেলছে।
মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থিতা। ১৩ আগস্ট বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেন। প্রার্থিতা ঘোষণার পর সাংবিধানিক ও দলীয় কারণে ফখরুল বিএনপির মহাসচিব এবং জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও নতুন করে বণ্টনের প্রয়োজন তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই, ১৮ আগস্ট প্রত্যাহারের শেষ সময় এবং প্রয়োজন হলে ২০ আগস্ট ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।
ফখরুলের বিদায়ের পর সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় ঘিরে। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার একটি সম্ভাব্য সমীকরণ নিয়ে আলোচনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানীকে আনার কথাও বিভিন্ন সূত্রে এসেছে।
আবার ভিন্ন সূত্রের দাবি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে পরিবর্তনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী এখনই ঝুঁকি নিতে নাও পারেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন কিংবা আবদুল মঈন খানকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা রয়েছে। ফলে এই মন্ত্রণালয়কে ঘিরে একাধিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো একটি নাম নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
মন্ত্রিসভা পুনর্বিন্যাসের আলোচনায় সবচেয়ে বড় কাঠামোগত বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব এক ব্যক্তির হাতে থাকা। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের সূত্রের বরাতে জানা যাচ্ছে, বর্তমানে একাধিক মন্ত্রীকে দুই বা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় একসঙ্গে সামলাতে হচ্ছে। শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, বাণিজ্য-শিল্প-বস্ত্র ও পাট, সড়ক পরিবহন-রেলপথ-নৌপরিবহন, কৃষি-মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, অর্থ-পরিকল্পনা, ডাক-টেলিযোগাযোগ-তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, শ্রম ও কর্মসংস্থান-প্রবাসী কল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক-সমাজকল্যাণের মতো একাধিক ভারী দায়িত্ব বিভিন্ন মন্ত্রীকে একসঙ্গে পালন করতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, প্রশাসনিক তদারকি ও মাঠপর্যায়ের কাজের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে মন্ত্রিসভার আকার খুব বেশি না বাড়িয়েও অতিরিক্ত দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়ার মাধ্যমে কাজের গতি বাড়ানোর একটি পথ খোঁজা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে ৪ নতুন মুখ
সরকারের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে শুধু মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প বা কর্মসূচির অগ্রগতি নয়, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের ব্যক্তিগত কর্মদক্ষতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা, প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়, জনঅভিযোগ নিষ্পত্তি, সংসদে উপস্থিতি ও জবাবদিহি এবং রাজনৈতিক ভূমিকার বিষয়গুলোও বিবেচনায় আসছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। পাশাপাশি সরকারের ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এমন বিতর্ক বা বক্তব্যের বিষয়েও নজর দেওয়া হচ্ছে। কোনো মন্ত্রী প্রত্যাশিত ফল দিতে না পারলেও তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ না থাকলে সরাসরি বাদ না দিয়ে দায়িত্ব পরিবর্তন বা সতর্ক করে আরও সময় দেওয়ার পথও বিবেচনায় থাকতে পারে। অর্থাৎ সম্ভাব্য পুনর্গঠনের অর্থ শুধু মন্ত্রিসভা থেকে কাউকে বাদ দেওয়া নয়; বরং দায়িত্ব পুনর্বণ্টন ও দক্ষতা অনুযায়ী নতুন সমন্বয় করাও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।
এ অবস্থায় স্থানীয় সরকার ও স্বরাষ্ট্রের পাশাপাশি স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পররাষ্ট্র, কৃষি, মহিলা ও শিশুবিষয়ক, নৌপরিবহনসহ কয়েকটি মন্ত্রণালয় নিয়েও আলোচনা রয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে পরিবর্তন আসতে পারে এমন আলোচনা যেমন আছে, তেমনি বর্তমান প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিতকে পূর্ণ মন্ত্রী করার সম্ভাবনার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে নতুন মুখ আসার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা রয়েছে। তবে স্বাস্থ্য, শিক্ষা কিংবা অন্য কোনো মন্ত্রণালয়ে কে আসছেন বা কে দায়িত্ব হারাচ্ছেন এ বিষয়ে সরকার বা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।
মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ আনার আলোচনায় বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ ও দীর্ঘদিনের মাঠের নেতার পাশাপাশি শরিক ও সমমনা রাজনৈতিক দলের নেতাদের নামও রয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকন, দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ কয়েকজনকে সম্ভাব্য নতুন মুখ হিসেবে বিভিন্ন মহলে আলোচনা করা হচ্ছে। স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং আবদুল মঈন খানের নামও বিভিন্ন সমীকরণে এসেছে। তবে এসব নামের কোনোটি নিয়েই এখনো সরকারি বা দলীয়ভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি।
শরিকদের মধ্যেও বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ। তিনি ভোলা-১ আসন থেকে ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোট ও বিজেপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে মন্ত্রিসভায় শরিক দলের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হলে তার নাম গুরুত্ব পেতে পারে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এবং নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার নামও টেকনোক্র্যাট বা রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে আলোচনায় রয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। এ ছাড়া বিএনপির কয়েকজন নেতাকেও টেকনোক্র্যাট কোটায় অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছে।
মন্ত্রিসভায় নতুন মুখের পাশাপাশি বর্তমান প্রতিমন্ত্রীদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে।
সরকারের একাধিক সূত্রের মতে, ছয় মাসের মূল্যায়নে যেসব প্রতিমন্ত্রী তুলনামূলক ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন, তাদের মধ্যে কয়েকজনকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। এতে একই সঙ্গে অভিজ্ঞ মন্ত্রীদের ওপর থাকা অতিরিক্ত দায়িত্ব কমানো এবং কার্যকর প্রতিমন্ত্রীদের পদোন্নতি দুই লক্ষ্যই অর্জন করা সম্ভব হবে। আবার মন্ত্রিসভার আকার অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো না করে বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যেই দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
অন্যদিকে বিএনপির ভেতরেও মন্ত্রিসভায় জায়গা না পাওয়া বা দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগের পরও মূল্যায়ন না হওয়া নেতাদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলসহ কয়েকজনকে নিয়ে দলীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে। তবে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও তাদের প্রত্যেকের নাম মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য তালিকায় আছে এমন কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই।
মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থিতা শুধু মন্ত্রিসভা নয়, বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোকেও দ্রুত পুনর্বিন্যাসের মুখে ফেলেছে। ফখরুল মহাসচিবের পদ ছাড়ার পর দলের এই গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদটি কার্যত শূন্য হয়ে যায়। এর মধ্যেই জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে একসঙ্গে চারজনকে যুক্ত করা হয়েছে। তাঁরা হলেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ফরহাদ হালিম এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। দল জানিয়েছে, সাংগঠনিক গতিশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই তাঁদের স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
চারজন নতুন সদস্য যুক্ত হওয়ার পর বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বর্তমান সদস্যসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চেয়ারম্যান, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও মহাসচিবসহ স্থায়ী কমিটির মোট কাঠামো ১৯ সদস্যের। মির্জা ফখরুল পদত্যাগ করায় এবং পুরোনো কয়েকটি পদ বিভিন্ন সময়ে শূন্য থাকায় এবার একসঙ্গে চারজনকে যুক্ত করা হয়েছে। ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিলের পর বিভিন্ন সময়ে মৃত্যু, পদত্যাগ ও অন্যান্য কারণে স্থায়ী কমিটির পদ শূন্য হয়েছিল। এবার একসঙ্গে চারজনের অন্তর্ভুক্তি দলের সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মহাসচিব পদে রুহুল কবির রিজভীর নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় থাকলেও বিএনপি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে নতুন মহাসচিব ঘোষণা করেনি। রিজভীকে স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার পর আগামী কাউন্সিল পর্যন্ত তাকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে এমন আলোচনা দলের ভেতরে রয়েছে। তবে এটিও এখন পর্যন্ত সম্ভাবনার পর্যায়েই রয়েছে।
অন্যদিকে স্থায়ী কমিটিতে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির আগে যাদের নাম আলোচনায় ছিল, তাদের মধ্যে শামসুজ্জামান দুদু, আসাদুজ্জামান রিপন, জহির উদ্দিন স্বপন ও সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের নামও বিভিন্ন পর্যায়ে এসেছে।
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে তার ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসন নিয়েও নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হবে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদে যাওয়ার পর সংসদ সদস্য পদে থাকার সুযোগ না থাকায় আসনটি শূন্য হবে এবং সেখানে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হতে পারে। স্থানীয় পর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ফখরুলের ছোট ভাই ও ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন এবং বড় মেয়ে মির্জা শামারুহের নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনার আরেকটি কারণ হলো সরকার ও বিএনপির মিত্র দলগুলোর সঙ্গে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমন্বয়। গত ২০ জুলাই রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিএনপির মিত্র ও শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সরকারের পুনর্গঠন ও রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন বিষয়ে শরিকদের সহযোগিতা চাওয়ার এই প্রক্রিয়ার পর মন্ত্রিসভায় শরিকদের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে কাদের সরকারে নেওয়া হবে, সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
সব মিলিয়ে সম্ভাব্য রদবদলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তিনটি বিষয় মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থিতার কারণে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে শূন্যতা, প্রথম ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার মূল্যায়ন এবং একাধিক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব ভাগ করে প্রশাসনিক গতি বাড়ানো। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিএনপির সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাস, নতুন মহাসচিব নির্ধারণ এবং শরিক দলগুলোকে সরকারে আরও প্রতিনিধিত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা। ফলে এটি কেবল কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বদলের বিষয় নয়; বরং সরকার পরিচালনার প্রথম ছয় মাসের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ক্ষমতার অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নতুন করে সাজানোর একটি প্রক্রিয়া হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
তবে শেষ পর্যন্ত কোন মন্ত্রণালয়ে কে থাকছেন, কার দায়িত্ব বদলাচ্ছে, কার হাতে অতিরিক্ত দায়িত্ব যাচ্ছে এবং নতুন কারা মন্ত্রিসভায় প্রবেশ করছেন এসব প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সম্ভাব্য রদবদলের যে তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, তার অনেকগুলোতেই পরস্পরবিরোধী তথ্য রয়েছে। এমনকি স্থানীয় সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিয়েও একাধিক সমীকরণ সামনে এসেছে। ফলে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত আলোচনায় থাকা কোনো নামকেই চূড়ান্ত ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের মূল্যায়নের ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি সীমিত রদবদলের সম্ভাবনাই তুলনামূলকভাবে বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্রিসভার পুনর্বিন্যাসের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হতে পারে। এখন পর্যন্ত যে চিত্র পাওয়া যাচ্ছে, তাতে বড় ধরনের গণছাঁটাইয়ের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন, অতিরিক্ত দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া, কর্মদক্ষতা অনুযায়ী কয়েকজনকে পদোন্নতি এবং সীমিতসংখ্যক নতুন মুখ অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনাই বেশি। তবে শেষ মুহূর্তে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিবেচনায় সমীকরণ বদলে যেতে পারে। তাই আগামী কয়েক দিনেই স্পষ্ট হবে ছয় মাসের মূল্যায়ন শেষ পর্যন্ত শুধু দপ্তর বদলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় নতুন পর্যায়ের বড় পুনর্গঠনের সূচনা করে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








