আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১০:৪২, ১৮ আগস্ট ২০২৬

সমঝোতার মেয়াদ শেষ, ইরানকে আত্মসমর্পণের আহ্বান ট্রাম্পের

সমঝোতার মেয়াদ শেষ, ইরানকে আত্মসমর্পণের আহ্বান ট্রাম্পের

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে করা সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) মেয়াদ শেষ হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। 

সোমবার (১৭ আগস্ট) সমঝোতার ৬০ দিনের মেয়াদ শেষ হয়েছে। তবে এর মেয়াদ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী নয় বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বরং তিনি ইরানকে সাদা পতাকা তুলে আত্মসমর্পণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেছেন ট্রাম্প।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত জুনে ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এর আওতায় বৃহত্তর একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে দুই দেশের জন্য ৬০ দিনের আলোচনার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। সোমবার সেই সময়সীমা শেষ হয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের গুরুতর লঙ্ঘনের কারণে নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমার এখন আর কোনো কার্যকারিতা নেই। ইরানের ওপর হামলা হলে জবাব দিতে দেশটির বাহিনী প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে ইরানের সঙ্গে করা কাঠামোগত সমঝোতার মেয়াদ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী নয়। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওই সমঝোতা হয়েছিল।

সমঝোতার মেয়াদ বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে কি না বলে এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি বলেন, না।

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, ৬০ দিনের আলোচনার সময়সীমা শেষ হলেও দুই দেশ এখনো কোনো পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি। চূড়ান্ত চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছানো নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, ইরান আলোচনা করতে চায়। তবে যুক্তরাষ্ট্র যে ধরনের চুক্তি চায়, তেহরান তাতে রাজি নয় বলে দাবি করেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ইরান চুক্তি করতে চায়, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র যে ধরনের চুক্তিকে প্রয়োজনীয় মনে করে, তারা তাতে রাজি হবে না। তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকা যাবে না।

ট্রাম্প বলেন, আমরা সেখানে একটি কারণেই আছি ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। তার দাবি, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না।

এদিকে হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার বিষয়ে আগের বক্তব্যের পক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন ট্রাম্প। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, তার কাছে এটি দারুণ একটি ধারণা।

ট্রাম্প দাবি করেন, নৌ অবরোধের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সেখানে অবরোধ রয়েছে এবং এর মাধ্যমে প্রণালিটি নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

তার দাবি, হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তবে ইরান কিছুটা সমস্যা তৈরি করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মার্কিন নৌ অবরোধ অত্যন্ত কার্যকর হয়েছে বলেও দাবি করেন ট্রাম্প।

আরও পড়ুন; হরমুজ ইস্যুতে ওমানকে বোমা হামলার হুমকি ট্রাম্পের

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের কারণে প্রতি সপ্তাহে ওই অঞ্চল দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে। তার মতে, হরমুজ প্রণালি খোলা থাকলে তেলের দাম আরও কমতে পারে। তবে পরিস্থিতি পরিবর্তন হলে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

একই সঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ইরান বড় সমস্যার মধ্যে রয়েছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়