‘যে কাজ করলে মানুষের উপকার হবে, সরকার সে কাজই করবে’
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশকে একটি সম্পূর্ণ জনকল্যাণমুখী ও আধুনিক রাষ্ট্রে রূপান্তর করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রবিবার (১৬ আগস্ট) সকালে কিশোরগঞ্জ জেলা সফরে এসে পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যানবাড়ি ঘাট এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ এবং সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর কিশোরগঞ্জে এটিই তার প্রথম সফর, যা ঘিরে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে সকাল থেকেই ব্যাপক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করার পর সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে এখানে যে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হলো, তা একসময় বড় হয়ে ডিম ছাড়বে এবং বিভিন্ন খাল-বিলে ছড়িয়ে পড়বে। এর সুফল দেশের সাধারণ মানুষই ভোগ করবে; এতে কোনো বিদেশি বা অন্য দেশের মানুষের উপকার হবে না, বরং সরাসরি উপকৃত হবে বাংলাদেশের খেটে খাওয়া ও সাধারণ মানুষ।
বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য দেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটানো উল্লেখ করে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শের এই দল সব সময় জনগণের কল্যাণে কাজ করে এসেছে। জনগণের রায়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে বর্তমান সরকার জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপ বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
কৃষি ও গ্রামীণ জনপদের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন দূরদর্শী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার গঠনের পরপরই সারা দেশে খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন কৃষকরা তাদের জমিতে সেচ সুবিধা পাচ্ছেন, অন্যদিকে খালের আশপাশের এলাকার মানুষ সুপেয় পানি ও অন্যান্য সুবিধা ভোগ করছেন। শুধু খাল খনন করলেই চলবে না, বরং এসব জলাশয়ের পানির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি খাতের প্রসারের পাশাপাশি দেশজুড়ে মাছের উৎপাদন বহুগুণ বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের আমিষ ও খাদ্যের চাহিদা পূরণে এই জলাশয়গুলোকে সুপরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানোর ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি নদী, বড় খাল এবং জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করার সরকারি পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় নারীর অংশগ্রহণ ও অধিকার নিশ্চিত করার ওপর সর্বাধিক জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী। নারী সমাজকে পেছনে ফেলে রেখে কোনোভাবেই কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন অর্জন সম্ভব নয়। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অতীতে দেশ পরিচালনার সময় নারীদের শিক্ষার প্রসারে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন এবং নারীদের দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক ঘোষণা করেছিলেন। বর্তমান সরকার নারীদের আরও এগিয়ে নিতে স্নাতক বা অনার্স পর্যায় পর্যন্ত নারী শিক্ষাকে সম্পূর্ণ অবৈতনিক করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি ভালো ফলাফল অর্জনকারী কৃতি ছাত্রীদের জন্য বিশেষ উপবৃত্তির ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন: আগামী ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে তুলে ধরব
এছাড়া দেশের বিভিন্ন প্রান্তের দরিদ্র ১ লাখ ২০ হাজার শিক্ষার্থীর মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা সামগ্রী বা ব্যাগ বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নারীদের আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত ও দক্ষ করে তোলার মাধ্যমেই রাষ্ট্রের মূল উন্নয়ন কার্যধারার সক্রিয় অংশীদার করে তুলতে হবে।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়ে কঠোর বার্তা দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, বিএনপি যতবারই রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে, একটি কুচক্রীমহল ঠিক ততবারই দেশজুড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়েছে। যারা রাজপথে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করে সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়াতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে। বিগত সময়ের অপরিকল্পিত কর্মকাণ্ড ও দুর্নীতির ফলেই আজ দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটসহ নানা সমস্যা তৈরি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে এর খেসারত দিতে হচ্ছে। ফ্যাসিবাদের পতনের পর এখন সময় এসেছে সব হানাহানি ভুলে একসঙ্গে মিলে দেশ ও রাষ্ট্র মেরামতের কাজে আত্মনিয়োগ করার। দেশের শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং যেকোনো ধরনের উন্নয়নবিরোধী চক্রান্তের বিরুদ্ধে সবাইকে সর্বদা সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
পাকুন্দিয়ায় মাছের পোনা অবমুক্তকরণ ও সুধী সমাবেশ শেষে প্রধানমন্ত্রী কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা এলাকায় কার্প হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন এবং পরবর্তীতে আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশন মাঠে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর বর্ণাঢ্য উদ্বোধন ও মাছের পোনা বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। ঢাকার বাইরে এই প্রথম জাতীয় পর্যায়ে মৎস্য পক্ষ উদযাপিত হচ্ছে। এ সময় মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন ও উৎপাদনে বিশেষ অবদান রাখার জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ১৪ জন সফল উদ্যোক্তাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়। এছাড়া কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার পুরাতন স্টেডিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, দরিদ্রদের মাঝে সহায়তা প্রদান এবং স্থানীয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ইমাম-মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের মাঝে সম্মানী প্রদান করার কর্মসূচি রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই দিনব্যাপী কিশোরগঞ্জ সফরকালে তার সঙ্গে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সরকারের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এদের মধ্যে মৎস্য, কৃষি ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মীর শাহে আলম, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন এবং কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফজলুর রহমানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তারা অংশ নেন। দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করে সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর ঢাকায় ফিরে আসার কথা রয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








