হামে মৃত্যু ১১০৮, ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ১২২১
ফাইল ছবি
দেশে হামের সংক্রমণ ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনায় পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপ নেওয়ার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত এসব মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। নতুন চার মৃত্যু নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ১০১ এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ৭-এ দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ নিশ্চিত হাম ও হামের উপসর্গ দুই হিসাব মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ১০৮।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ স্বাস্থ্য সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হামে মারা গেছেন ১০১ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৭ জনের। একই সময়ে দেশজুড়ে নতুন করে ১ হাজার ২১২১ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন এবং নতুন করে নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হিসেবে ১২৮ জন রোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। এর ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশজুড়ে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯১ হাজার ৭৩১ জনে এবং মোট নিশ্চিত হাম আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে ২১ হাজার ৫২০ জনে।
সাম্প্রতিক ২৪ ঘণ্টার পরিসংখ্যানে দেখা যায়, হামের উপসর্গ ও সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি আঘাত হেনেছে ঘনবসতিপূর্ণ ঢাকা বিভাগে। গত ২৪ ঘণ্টায় কেবল ঢাকা বিভাগেই নতুন করে ৪৬৬ জনের শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে।
আরও পড়ুন: হামের উপসর্গে আরও ৫ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১১০৪
এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিন ও বিভিন্ন বিভাগীয় হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় প্রতিদিন শত শত নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকা এবং পার্শ্ববর্তী জনবহুল শহরগুলোতে স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাব এবং টিকাদানের ঘাটতির কারণে ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
রোগীর অস্বাভাবিক চাপের কারণে দেশের শিশু হাসপাতাল ও সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালগুলো সামর্থ্যের অতিরিক্ত রোগীর চাপে জর্জরিত হয়ে পড়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮০০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ৬২ হাজার ৮৭৩ জন।
চিকিৎসকরা বলছেন, আক্রান্তদের সিংহভাগই শিশু, যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় জটিলতা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
দেশজুড়ে হামের এই নজিরবিহীন প্রাদুর্ভাবের পেছনে অতীতের টিকাদানের ক্ষেত্রে ঘাটতি, প্রশাসনিক স্থবিরতা ও টিকার সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়াকে মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বিশিষ্ট জনস্বাস্থ্যবিদ ও গবেষকরা। অতীতে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশ হাম প্রায় নির্মূলের কাছাকাছি চলে গেলেও, পরবর্তী সময়ে টিকার কভারেজে ছেদ পড়ার কারণে এই মারাত্মক সংকট তৈরি হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ (ডব্লিউএইচও) আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থাও বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে মূল্যায়ন করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বাস্থ্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে হটস্পটগুলোতে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








