নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলায় সাবেক মেজর জেনারেল গ্রেফতার
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার দক্ষিণ মানিকদী এলাকায় ইসিবি চত্বর সংলগ্ন নিউগিনি প্রপার্টিজ আবাসন প্রকল্প এবং আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও গোলাগুলির চাঞ্চল্যকর ঘটনায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে ৩টার দিকে রমনা থানার সেগুনবাগিচা এলাকার একটি বাসা থেকে ডিবির গুলশান বিভাগের একটি দল তাকে গ্রেফতার করে।
মামলার নথিপত্র এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে প্রায় পাঁচটি পিকআপ ভ্যানে করে আসা একদল সশস্ত্র ও মুখোশধারী সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দক্ষিণ মানিকদী ইসিবি চত্বর সংলগ্ন নিউ ডিওএইচএস প্রপার্টিজ ও নিউগিনি প্রপার্টিজে প্রবেশ করে। হামলাকারীরা নির্বিচারে গুলি ছুড়তে ছুড়তে হাউজিংয়ের ভেতরে প্রবেশ করে ত্রাসের সৃষ্টি করে এবং সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করে।
এ সময় হামলাকারীরা সাইট প্রকৌশলী মো. পারভেজ (২৮) ও বেশ কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মীকে মারধর করে। পরবর্তীতে তারা প্রপার্টিজের বিভিন্ন কক্ষ, কার্যালয় ও আশপাশের ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে নগদ অর্থ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি), ল্যাপটপ, কম্পিউটার মনিটর, ভিডিও ধারণ ও সংরক্ষণ যন্ত্র, মোটরসাইকেল এবং বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী ও ক্যাবল লুট করে নিয়ে যায়। এই হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রপার্টিজ ভবনে অবস্থিত জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওটি। হামলাকারীরা স্টুডিওর ভেতরে ঢুকে সমস্ত আসবাবপত্র, বাদ্যযন্ত্র ও দামি যন্ত্রাংশ সম্পূর্ণ তছনছ ও ধ্বংস করে দেয়। ঘটনার পরপরই সালমান মুক্তাদির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ ভিডিও প্রকাশ করে তার স্টুডিও ধ্বংস হয়ে যাওয়ার বিষয়টি দেশবাসীকে জানান। এছাড়া হাউজিংয়ের অফিস থেকে প্রায় এক কোটি টাকা লুটেরও অভিযোগ করেছে কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন: ভাঙচুর-লুটপাটে ক্ষতিগ্রস্ত সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও
এ ঘটনায় নিউগিনি প্রপার্টিজ লিমিটেডের পরিচালক সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া বাদী হয়ে গত ২৭ সেপ্টেম্বর ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৪৭, ১৪৮, ১৪৯, ৪৪৭, ৪৪৮, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ৩৭৯, ৩৮০, ৪২৭, ১১৪ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। ইতোমধ্যে আদালতের নির্দেশে এই মামলার কয়েকজন আসামিকে তিনদিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিউগিনি প্রপার্টিজে এই হামলার মূল কারণ জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তার। প্রপার্টিজের পাশের জমির মালিকানা এবং যাতায়াতের পথ বা প্রবেশপথ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছে। গ্রেফতার হওয়া অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী এই মামলার চার নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, তার মালিকানাধীন জমি নিউগিনি প্রপার্টিজের পাশেই অবস্থিত এবং ওই জমিতে যাতায়াতের জন্য নিউগিনি প্রপার্টিজের রাস্তা ও ফটক ব্যবহার করতে হয়, যা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়।
এই চাঞ্চল্যকর হামলার ঘটনায় ডিবি ও থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে এখন পর্যন্ত মূল পরিকল্পনাকারীসহ মোট সাতজনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মিজানুর রহমান, শাহরিয়ার মাহমুদ, শাহ আলম অনিক (যিনি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত মুখ), এবং ভাষানটেক বস্তি ও এর আশপাশের এলাকা থেকে আটক মামুন, আসলাম ও মুন্না।
পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলাকারীদের ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার এবং এই ঘটনার পেছনে আরও কারা জড়িত রয়েছে, তা উদ্ঘাটনে অভিযান ও জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের প্রকাশ্য সশস্ত্র হামলা ও মব সংস্কৃতির ঘটনায় জনমনে তীব্র অসন্তোষ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








