একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুতির নির্দেশ সেনাপ্রধান
ছবি: সংগৃহীত
আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একবিংশ শতাব্দীর যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার্স (ইএমই) কোরের সকল সদস্যকে সর্বদা প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) নীলফামারীর সৈয়দপুর সেনানিবাসে অবস্থিত ইএমই সেন্টার অ্যান্ড স্কুলে (ইএমইসিঅ্যান্ডএস) আয়োজিত বাৎসরিক অধিনায়ক সম্মেলন-২০২৬ এবং ষষ্ঠ কোর পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সেনাবাহিনী প্রধান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী ইএমই কোরের বীর সেনানীসহ সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাকে স্মরণ করেন। তিনি যুদ্ধকালীন ও শান্তিকালীন সময়ে সেনাবাহিনীর অস্ত্র, যানবাহন এবং বিভিন্ন জটিল যন্ত্রপাতির মেরামত, ওভারহোলিং ও রক্ষণাবেক্ষণে এই কোরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কারিগরি অবদানের কথা সবিস্তারে তুলে ধরেন। দেশের যেকোনো ক্রান্তিলগ্নে প্রযুক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক উৎকর্ষ সাধনে ইএমই কোরের ভূমিকা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুন: কোন সাংবাদিক সাইবার আইনের শিকার হোক চাই না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সম্মেলন উপলক্ষে ইএমই কোরের বিভিন্ন ইউনিটের অধিনায়ক ও উপস্থিত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন সেনাপ্রধান। এ সময় কোরের কার্যক্রমের অগ্রগতি, ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং আধুনিক সামরিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের পথ ধরে একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক যুদ্ধের বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রতিটি সদস্যকে মানসিকভাবে ও পেশাগতভাবে প্রস্তুত থাকার তাগিদ দেন তিনি।
দুই দিনব্যাপী (২৭ ও ২৮ সেপ্টেম্বর) এ আয়োজনের অংশ হিসেবে ইএমই সেন্টার অ্যান্ড স্কুলের প্যারেড গ্রাউন্ডে ষষ্ঠ কোর পুনর্মিলনী উপলক্ষে এক মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে সেনাপ্রধান প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন।
পরে কোরের বর্তমান ও সাবেক সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, এ ধরনের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান সদস্যদের পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ববোধ, ঐক্য এবং পেশাগত মমত্ববোধ সুদৃঢ় করতে অনন্য ভূমিকা পালন করে। ভবিষ্যতেও অখণ্ড দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের মানসিকতা নিয়ে দেশ ও জাতির সার্বিক সেবায় নিবেদিত থাকার জন্য তিনি ইএমই কোরের সকল সদস্যকে আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শীর্ষস্থানীয় সামরিক কর্তাব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন— ইএমই কোরের কর্নেল কমান্ড্যান্ট ও বাংলাদেশ রুরাল ইলেক্ট্রিফিকেশন বোর্ডের (বিআরইবি) চেয়ারম্যান, সেনাবাহিনীর মাস্টার জেনারেল অব দ্য অর্ডন্যান্স (এমজিও), আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের (আর্টডক) ভারপ্রাপ্ত জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি), অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল (এজি), এবং ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও রংপুর এরিয়া কমান্ডার। এছাড়া সেনাসদর ও রংপুর এরিয়ার ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, ইএমই কোরের বিভিন্ন ইউনিটের অধিনায়ক এবং কোরের কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং সেনাসদস্যরা এই বর্ণিল আয়োজনে অংশ নেন।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








