আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:৩১, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দূষণ বাড়ার শঙ্কায় দিল্লিতে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’

দূষণ বাড়ার শঙ্কায় দিল্লিতে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’

ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর বিদায় লগ্নে ভারতের রাজধানী দিল্লি ও সংলগ্ন জাতীয় রাজধানী অঞ্চল তথা এনসিআরে আসন্ন শীতকালীন বায়ুদূষণের মারাত্মক ঝুঁকি মোকাবিলায় একটি স্থায়ী ও প্রাতিষ্ঠানিক কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। 

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই কৌশলগত রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়। 

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা, পরিবেশমন্ত্রী মণিন্দর সিরসা এবং বায়ুমান ব্যবস্থাপনা কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই বৈঠকে পরিবহন, শিল্পকারখানা, নির্মাণকাজ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো খাতগুলো নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট ও সময়ভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শহরের বায়ুদূষণের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে চিহ্নিত যানবাহনের ধোঁয়া রোধে বিশেষ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। আগামী ১ নভেম্বর থেকে দিল্লির বাইরে নিবন্ধিত যেসব বাণিজ্যিক ও সাধারণ গাড়ি বিএস-সিক্স নির্গমন মানদণ্ড পূরণ করবে না, সেগুলোর রাজধানীতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। তবে সিএনজি, বৈদ্যুতিক যান এবং জরুরি সেবার গাড়ি এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে। দিল্লির ৫০০টি স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ প্রযুক্তিযুক্ত জ্বালানি স্টেশনে কঠোরভাবে পিইউসিসি ছাড়া জ্বালানি নয় নীতি কার্যকর করা হবে। বৈধ দূষণ নিয়ন্ত্রণ সনদ না থাকলে কিংবা পেট্রলচালিত ১৫ বছর এবং ডিজেলচালিত ১০ বছরের নির্ধারিত আয়ুষ্কাল পার হয়ে যাওয়া গাড়িতে কোনো ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি দেওয়া হবে না। শীতকালীন দূষণ মৌসুমে অনুমোদিত এলাকার পার্কিং ফি দ্বিগুণ করা হবে, তবে দিল্লি মেট্রোরেল কর্পোরেশনের নিজস্ব মালিকানা ও ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত পার্কিংগুলোর ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।

আরও পড়ুন: ভারতে ভারী বর্ষণে বন্যা ও ভূমিধসে, নিহত ৫৬

দূষণ ও তীব্র ট্রাফিক জ্যাম কমাতে কর্মক্ষেত্র ও যাতায়াতের ধরনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের অফিসের ৫০ শতাংশ কর্মীকে বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পিক-আওয়ারের চাপ কমাতে বিভিন্ন দপ্তরের সময়সূচিতে ভিন্নতা আনা হয়েছে; যেমন দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের অফিসগুলো সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এবং দিল্লি সরকারের অফিসসমূহ সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত পরিচালিত হবে। বায়ুর মান রক্ষার্থে নির্মাণ খাতের ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণে কঠোর সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আগামী ১০ ডিসেম্বর থেকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত সব ধরনের নির্মাণ ও ভাঙার কাজের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে এবং ধুলা ছড়ায় এমন সাধারণ নির্মাণ ও বাইরের ভাঙার কাজ ১ নভেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হবে।

ধুলাবালি রোধে ২০২৬ সালে মোট ৩,০৬৫ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কারের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে গত ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১,১৯৩ কিলোমিটারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং অবশিষ্ট ১,৮৭২ কিলোমিটার রাস্তার সিমেন্ট-কংক্রিটের কাজ ৩১ অক্টোবরের মধ্যে এবং বিটুমিনের কাজ ১৫ নভেম্বরের মধ্যে শেষ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। যান্ত্রিক উপায়ে সড়ক পরিষ্কারের কাজে নিয়োজিত বিশেষ গাড়ির সংখ্যা ৭৬ থেকে বাড়িয়ে ৯৮টিতে উন্নীত করা হয়েছে। দিল্লিতে প্রতিদিন প্রায় ১৩, ৫০০ টন কঠিন বর্জ্য উৎপাদিত হয়, যার বিপরীতে নতুন বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে দৈনিক অতিরিক্ত ৫,৯০০ টন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা অর্জন করা হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিসম্পন্ন কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারের মাধ্যমে শিল্পকারখানাগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং জরিপ চালিয়ে দূষণ আইন অমান্যকারী ২,২৮৩টি কারখানা ইতিমধ্যে সিলগালা বা বন্ধ করা হয়েছে। বায়ুর মান পর্যবেক্ষণের জন্য নির্ধারিত স্টেশনের সংখ্যা ৪৭ থেকে বাড়িয়ে ৬০টিতে উন্নীত করা হয়েছে এবং ৩৩৪টি বিশেষ প্রয়োগকারী দল মাঠে সক্রিয় রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কেবল দিল্লিভিত্তিক পদক্ষেপে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়; বরং পুরো এনসিআর অঞ্চলকে একীভূত করে 'এয়ারশেড' বা বায়ু অঞ্চলভিত্তিক পদ্ধতিতে যৌথ উদ্যোগ নিতে হবে। বায়ুর মান উন্নয়নে স্থানীয় হটস্পটগুলোতে সাপ্তাহিক পরিদর্শন, নাগরিকদের অভিযোগ ও পরামর্শ গ্রহণের জন্য নতুন পোর্টাল চালু এবং প্রতিদিন সন্ধ্যায় একিউআই বুলেটিন প্রকাশের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। 

পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, নির্দিষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোর টার্গেটেড ব্যবস্থাপনা, আইন প্রয়োগে কড়াকড়ি এবং নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণই পারে দিল্লির আকাশকে অনেকটাই নির্মল করে তুলতে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়