আসন্ন দুর্গাপূজা ঘিরে কড়া নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে পুলিশের জিরো টলা
ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার রোধে মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের কঠোর সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং কিশোর অপরাধীদের দমনে কোনো ধরনের দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে অনুষ্ঠিত আগস্ট ২০২৬ মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাগুলো প্রদান করা হয়। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. সায়েদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন দেশের সব মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার পুলিশ সুপাররা।
আসন্ন দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সভায় আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা যাতে সম্পূর্ণ নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়, সেজন্য প্রতিটি এলাকায় নিচ্ছিদ্র ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। পূজাকে কেন্দ্র করে একটি কুচক্রী মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা চালাতে পারে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সজাগ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। সভাপতির বক্তব্যে অতিরিক্ত আইজি মো. সায়েদুর রহমান প্রতিটি পুলিশ ইউনিটকে নিজ নিজ এলাকার বাস্তবভিত্তিক সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়নের তাগিদ দেন। পাশাপাশি সাইবার মনিটরিং জোরদার করা এবং মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশ সদস্যদের যথাযথভাবে বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর বার্তা দিয়ে আইজিপি বলেন, অপরাধী যেই হোক না কেন, তার ক্ষেত্রে কোনো দলীয় পরিচয় বিবেচনার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই। অপরাধীর একমাত্র পরিচয় সে একজন অপরাধী। সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূল করতে পুলিশকে আরও বেশি প্রোগ্রেসিভ ও পেশাদার ভূমিকা পালন করতে হবে।
আরও পড়ুন: দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিনের ছুটি
মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের পূর্বঘোষিত জিরো টলারেন্স নীতি পুনর্ব্যক্ত করে পুলিশ প্রধান বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও এর সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেট ভাঙতে কঠোর আইনি পদক্ষেপ অব্যাহত রাখতে হবে। মাদকের ভয়াল গ্রাস থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে কেবল পুলিশি অভিযান নয়, বরং কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমে সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা ও জনসচেতনতা আরও বাড়ানোর ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন।
সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলা কিশোর অপরাধ ও কিশোর গ্যাং সংস্কৃতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সভায় সভাপতিত্বের বক্তব্যে অতিরিক্ত আইজি মো. সায়েদুর রহমান বলেন, কিশোর গ্যাংগুলোর তৎপরতা কঠোর হাতে দমন করতে হবে। এদের সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে মাঠপর্যায়ে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করতে হবে। বিশেষ করে এসব কিশোর অপরাধীদের নেপথ্যে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা রাজনৈতিক মদদদাতা রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখে আইনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিশোর অপরাধের সামাজিক ও পারিবারিক কারণগুলো বিশ্লেষণ করে স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় আগস্ট ২০২৬ মাসের সার্বিক অপরাধ পরিস্থিতি ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ডাকাতি, দস্যুতা, খুন, ধর্ষণ এবং অপহরণ সংক্রান্ত মামলাগুলোর তদন্তের বর্তমান অগ্রগতি, পুলিশি কার্যক্রমে পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার তাগিদ, মুলতবি থাকা গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল এবং মামলার বিচারিক কার্যক্রমে গতি আনার নির্দেশনা। একই সঙ্গে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কমিউনিটি পুলিশিং এবং বিট পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও ফলপ্রসূ ও জনমুখী করার আহ্বান জানানো হয়।
পুলিশ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এই সভায় অন্যান্যদের মধ্যে ডিআইজি ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট মোহাম্মদ আবু সুফিয়ানসহ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মনে করছে, আসন্ন দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের এই কঠোর নির্দেশনাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








