নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৭:৫২, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হামের উপসর্গে আরও ৫ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১১০৪

হামের উপসর্গে আরও ৫ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১১০৪

ফাইল ছবি

দেশে চলমান ভয়াবহ হাম পরিস্থিতির মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩ জনে। একই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে কারও মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে নিশ্চিত হাম ও হামের উপসর্গ দুই হিসাব মিলিয়ে দেশে এ রোগসংক্রান্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১০৪ জনে। 

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত নজরদারির হিসাব অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে; তাদের মধ্যে তিনজন ঢাকায়, একজন চট্টগ্রামে এবং একজন সিলেট বিভাগে মারা গেছেন। এর আগে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা ছিল ৯৯৮ জন এবং নিশ্চিত হামে মৃতের সংখ্যা ছিল ১০১ জন। ফলে এক দিনের ব্যবধানে উপসর্গজনিত মৃত্যুর সংখ্যা আরও পাঁচজন বেড়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, একই ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ১ হাজার ২৫৫ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এতে ১৫ মার্চ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হামের উপসর্গযুক্ত রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার ৫১০ জনে। পাশাপাশি ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নতুন করে ৮৪ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। ফলে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৩৯২ জনে। তবে হাসপাতালভিত্তিক নজরদারি ও পরীক্ষার সীমাবদ্ধতার কারণে হামের উপসর্গ থাকা প্রত্যেক রোগীর ল্যাবরেটরি পরীক্ষা হয় না; ফলে নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা প্রকৃত সংক্রমণের পূর্ণ চিত্র নয় এ বিষয়টি আগের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরভিত্তিক প্রতিবেদিতেও উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: হামে একদিনে আরও ৩ মৃত্যু, প্রাণহানি ১,০৯৯

রোগীর চাপের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা নেওয়া মানুষের সংখ্যাও। ২৯ সেপ্টেম্বরের হালনাগাদ হিসাবে ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৬৮ হাজার ৬৫৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ১ লাখ ৬১ হাজার ৭৯৮ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। অর্থাৎ বিপুলসংখ্যক রোগীকে সামাল দিতে দেশের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর দীর্ঘদিন ধরে বাড়তি চাপ রয়েছে। এর আগের দিন ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ লাখ ৬৭ হাজার ৪৬৯ জন সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি এবং ১ লাখ ৬০ হাজার ৭০৫ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবেও ঢাকায় হামের উপসর্গজনিত মৃত্যুর চাপ সবচেয়ে বেশি। সর্বশেষ তথ্যে ঢাকা বিভাগে এ ধরনের মৃত্যু হয়েছে ৪৫১ জনের। এরপর সিলেট বিভাগে ১৭৭ জন, রাজশাহীতে ৯৩, চট্টগ্রামে ৮৪, ময়মনসিংহে ৭৯, বরিশালে ৬০, খুলনায় ৪৪ এবং রংপুরে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ৩ মৃত্যুর মধ্যে প্রায় অর্ধেকই ঢাকা বিভাগে হয়েছে। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেও ঢাকায় উপসর্গজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ৪০০-এর কিছু বেশি ছিল; ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে এ সংখ্যা ছিল ৪০৩ এবং সিলেটে ১৫৬। পরবর্তী সময়ে দুই বিভাগেই মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

দেশে চলমান এই প্রাদুর্ভাবের ব্যাপ্তিও স্পষ্ট হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি পরিসংখ্যানে। ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৫৫ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছিল এবং নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২১ হাজার ৩০৮। এক দিনের ব্যবধানে উপসর্গের সংখ্যা আরও ১ হাজার ২৫৫ এবং নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা আরও ৮৪ জন বেড়েছে। গত কয়েক সপ্তাহেও প্রতিদিন শত শত থেকে হাজারের বেশি সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে, ২২ সেপ্টেম্বরের ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ২৫৭ জন নতুন সন্দেহজনক রোগী এবং ৯২ জন নিশ্চিত রোগী শনাক্ত হয়েছিল; তখন উপসর্গজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৯৬৪ এবং নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু ১০১ জন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়