হামে একদিনে আরও ৩ মৃত্যু, প্রাণহানি ১,০৯৯
ফাইল ছবি
দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৩১০ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এতে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৯ জনে। অর্থাৎ সরকারি হিসাবে হাম-সংশ্লিষ্ট মৃত্যুর সংখ্যা এখন ১ হাজার ১০০-এর দ্বারপ্রান্তে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া তিনজনের মধ্যে দুজন চট্টগ্রাম বিভাগের এবং একজন সিলেট বিভাগের। তাদের মৃত্যু হামের উপসর্গজনিত সন্দেহভাজন মৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ১০১ জনের এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৯৯৮ জন। সব মিলিয়ে নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন হাম-সংশ্লিষ্ট মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ৯৯ জনে পৌঁছেছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে নতুন কোনো মৃত্যুর তথ্য না থাকায় নিশ্চিত হামে মৃত্যুর সংখ্যা ১০১-এই রয়েছে।
হাম-সংক্রান্ত পরিস্থিতির ভয়াবহতা বোঝা যায় আক্রান্ত ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর পরিসংখ্যানেও। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৫৫ জনের শরীরে। একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ২১ হাজার ৩০৮ জনের। অর্থাৎ সরকারি নজরদারিতে থাকা সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত রোগীর সম্মিলিত সংখ্যা দুই লাখ ১০ হাজারেরও বেশি। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই পরিসংখ্যান মূলত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় রিপোর্ট হওয়া রোগীর ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় বাস্তবে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে এমন সীমাবদ্ধতার কথাও সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু
হামের কারণে হাসপাতালগুলোর ওপরও দীর্ঘদিন ধরে বাড়তি চাপ রয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৬৭ হাজার ৪৬৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৬০ হাজার ৭০৫ জন। ফলে বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসা পেলেও প্রতিদিন নতুন করে রোগী শনাক্ত ও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ অব্যাহত রয়েছে।
সাম্প্রতিক কয়েক দিনের পরিসংখ্যানেও সংক্রমণের ধারাবাহিকতা স্পষ্ট। ২৭ সেপ্টেম্বরের আগের ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও নয়জনের মৃত্যু এবং ১ হাজার ২২৮ জনের নতুন সন্দেহভাজন আক্রান্তের তথ্য জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ওই সময় নিশ্চিত হামে নতুন ১১৩ জন শনাক্ত হওয়ায় ১৫ মার্চ থেকে নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা ২১ হাজার ২১২ জনে এবং মোট নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ৯৬ জনে পৌঁছেছিল। একদিন পর আরও তিনজনের মৃত্যুর তথ্য যুক্ত হওয়ায় মোট মৃত্যু ১ হাজার ৯৯ জনে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্তও পরিস্থিতির উন্নতির স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায়নি। ওই সময় এক দিনে আরও পাঁচজনের মৃত্যুর পর সম্মিলিত মৃত্যু ১ হাজার ৮১ জনে পৌঁছেছিল। তখন হামের উপসর্গযুক্ত রোগীর মোট সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৮৪ হাজার ৬৩২ এবং নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা ২০ হাজার ৯৫১। একই সময়ে ১ লাখ ৬৩ হাজার ১৫৩ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন এবং ১ লাখ ৫৬ হাজার ৭৪৪ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছিলেন।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








