নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৬:২৯, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আপডেট: ১৬:৩৩, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশে আরও এক মাস এলএনজি সরবরাহ স্থগিত রাখবে কাতার

বাংলাদেশে আরও এক মাস এলএনজি সরবরাহ স্থগিত রাখবে কাতার

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে অব্যাহত বিঘ্নের কারণে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহ স্থগিত রাখার মেয়াদ আরও এক মাস বাড়িয়েছে কাতার। 

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জ্বালানি জায়ান্ট কাতারএনার্জি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে জানিয়েছে যে, এলএনজি চালান বাতিলের এই সিদ্ধান্ত আগামী নভেম্বর মাস পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

ইরান সংঘাত শুরুর পর থেকেই কাতারএনার্জি নিয়মিতভাবে এলএনজি ক্রেতাদের জন্য ফোর্স মেজর বা অনিবার্য পরিস্থিতির ঘোষণা দিয়ে আসছে এবং নির্ধারিত চালানগুলো বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছে। এই দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সংকটের জেরে শুধু বাংলাদেশ ও পাকিস্তানই নয়, ভারতের অন্তত একজন প্রধান ক্রেতা এবং ইউরোপের দেশ ইতালির খ্যাতনামা জ্বালানি কোম্পানি এডিসন এসপিএ-কেও সরবরাহ স্থগিত থাকার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। 

এডিসন এসপিএ জানিয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই স্থগিতাদেশ ডিসেম্বরের শুরুর দিক পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি হলো বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনের জলপথ, যেখান দিয়ে গত বছরও বৈশ্বিক এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়েছিল। কিন্তু চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দ্বন্দ্ব এবং এর সুনির্দিষ্ট কোনো শান্তিচুক্তি না থাকায় এই জলপথের নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। 

আরও পড়ুন: এলপিজির বাজারে তীব্র সংকট ও লাগামহীন দাম, ভোক্তার ত্রাহি দশা

সম্প্রতি কাতার আংশিকভাবে ট্যাংকার চলাচল কিছুটা বাড়াতে সক্ষম হলেও, জ্বালানি প্রবাহ যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় এখনো অত্যন্ত সীমিত রয়েছে। তাছাড়া, ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে তারা তাদের শর্ত শিথিল করবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকেও কূটনৈতিক সমাধান নিয়ে পরস্পরবিরোধী ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

কাতারের এই ধারাবাহিক চালান বাতিলের ফলে দক্ষিণ এশিয়ার দুই দেশ বাংলাদেশ ও পাকিস্তান মারাত্মক জ্বালানি সংকটের মুখে পড়েছে। দীর্ঘকাল ধরে চলা এই গ্যাস সংকটের কারণে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন খাত এবং শিল্প কারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নিয়মিত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় পেট্রোবাংলাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বাধ্য হয়ে অত্যন্ত চড়া দামে স্পট মার্কেট বা খোলা বাজার থেকে এলএনজি আমদানি করার চেষ্টা চালাতে হচ্ছে, যা জাতীয় অর্থনীতির ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করছে। একইভাবে, পাকিস্তানেও জরুরি গ্যাস ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হয়েছে। এছাড়া ভারতের মতো দেশগুলোও শিল্প খাতে এলএনজি সরবরাহ সীমিত বা রেশনিং করতে বাধ্য হয়েছে।

এশিয়া ও ইউরোপের বাজারে জ্বালানি সরবরাহের এই টানাপোড়েনের ফলে এলএনজির দাম ২০২২ সালের শেষ দিকের পর থেকে প্রায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে। এর ফলে উত্তর গোলার্ধের আসন্ন শীতকালে সাধারণ ভোক্তাদের ইউটিলিটি বা বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা জোরালো হয়েছে। উল্লেখ্য, গত মার্চ মাসে এক হামলার শিকার হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকেই কাতারের বিশালাকার রাস লাফান এলএনজি রপ্তানি স্থাপনাটি তার পূর্ণ সক্ষমতার চেয়ে অনেক কম উৎপাদনে পরিচালিত হচ্ছে। তবে কাতার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি নিরাপদ ও উন্মুক্ত হওয়ামাত্রই তারা এই স্থাপনা থেকে দ্রুত উৎপাদন ও সরবরাহ স্বাভাবিক করতে প্রস্তুত রয়েছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়