মালয়েশিয়ার পর সিঙ্গাপুরের কাছেও হার বাংলাদেশের
ছবি: সংগৃহীত
ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে ফিফা আসিয়ান কাপের ডিভিশন ওয়ানের এ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করা লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা এই ম্যাচে তুলনামূলক গোছানো ও লড়াকু ফুটবল উপহার দিলেও শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি। এই হারের ফলে টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের পরের রাউন্ডে বা ফাইনালে যাওয়ার সমীকরণ বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই বল পজিশন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে খেলার চেষ্টা করে দুই দল। চার পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামা বাংলাদেশ ম্যাচের প্রথম ১৫ মিনিটে বলের দখল ও আক্রমণে কিছুটা এগিয়ে ছিল। খেলার দ্বিতীয় মিনিটে জামালের নেওয়া কর্নার থেকে সুযোগ তৈরি হলেও বক্সে থাকা বাংলাদেশের কোনো খেলোয়াড় শেষ পর্যন্ত বলের নাগাল পাননি। ষষ্ঠ মিনিটে সিঙ্গাপুরের জুলকিফলিকে পেছন থেকে জার্সি টেনে ধরে ফাউল করায় হলুদ কার্ড দেখেন বাংলাদেশি মিডফিল্ডার শমিত সোম।
১৫ মিনিটে রাকিব হোসেন দারুণ গতিতে বল পায়ে নিয়ে সিঙ্গাপুরের পেনাল্টি বক্সে ঢুকে পড়লেও তাকে সহযোগিতা করার মতো পর্যাপ্ত সতীর্থ বক্সে না থাকায় আক্রমণটি ভেস্তে যায়। ম্যাচের ষোলো মিনিটে প্রথম ভালো আক্রমণ চালায় সিঙ্গাপুর; এ সময় ইলহান ফান্দির একটি শট বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে কর্নারের বিনিময়ে চমৎকারভাবে সেভ করেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ। প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত বাংলাদেশ ভালো প্রতিরোধ গড়লেও ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় সিঙ্গাপুরের হাতে।
৩৩ মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে ডান দিকে বিপজ্জনক জায়গা থেকে সিঙ্গাপুর ফ্রি-কিক পেলে, সেখান থেকে নেওয়া দুর্দান্ত শটও ঝাঁপিয়ে পড়ে রুখে দেন গোলরক্ষক শ্রাবণ। তবে এর ঠিক দুই মিনিট পরেই আর নিজেদের জাল অক্ষত রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। ৩৫ মিনিটে ডান দিক থেকে সতীর্থ নুর অ্যাডাম আব্দুল্লাহ ও রায়ান স্টুয়ার্টদের আক্রমণ শাণানোর একপর্যায়ে ক্রস থেকে হেডে বল জালে পাঠান হারহিস (রায়ান) স্টুয়ার্ট। গোলরক্ষক শ্রাবণ ও ডিফেন্ডারদের চোখের পলকে করা এই হেডে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সিঙ্গাপুর। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে সিঙ্গাপুরের আরেকটি জোরালো শট ক্রসবারে লেগে ফিরে এলে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়া থেকে রক্ষা পায় বাংলাদেশ।
আরও পড়ুন: আসিয়ান কাপে মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু বাংলাদেশের
বিরতির পর সমতা ফেরাতে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে থমাস ডুলির শিষ্যরা। ৪৭ মিনিটে সিঙ্গাপুরের একটি বুলেট শট লাফিয়ে বারের ওপর দিয়ে পাঠিয়ে আবারও দলকে বিপদমুক্ত করেন শ্রাবণ। ম্যাচের ৫৯ মিনিটে শেখ মোরছালিনকে তুলে নিয়ে ফরোয়ার্ড মিনহাজুল করিমকে মাঠে নামান কোচ, যার মধ্য দিয়ে ২৪ বছর বয়সী এই তরুণের জাতীয় দলের জার্সিতে অভিষেক ঘটে।
৬৪ মিনিটে বাংলাদেশকে সমতায় ফেরানোর সবচেয়ে সুবর্ণ সুযোগটি পান শমিত সোম। ডান প্রান্ত থেকে সাদ উদ্দিনের নিখুঁত ক্রসে একেবারে ফাঁকায় (আনমার্কড) থেকেও হেডার নেন শমিত, কিন্তু বল ক্রসবারের ওপর দিয়ে বাইরে চলে যাওয়ায় হতাশা বাড়ে। ম্যাচের ৭১ মিনিটে জোড়া পরিবর্তন আনে বাংলাদেশ; শমিতের বদলে সোহেল রানা এবং শুকি ইতোফুসার পরিবর্তে মাঠে নামেন ফাহামিদুল ইসলাম। বদলি নেমেই ফাহামিদুল বাঁ প্রান্তে নিজের গতি দিয়ে সিঙ্গাপুরের রক্ষণে বেশ চাপ সৃষ্টি করেন।
৭৯ মিনিটে ফাহমিদুলের চমৎকার ক্রস থেকে রাকিব হোসেন হেড নিলেও তা লুফে নেন সিঙ্গাপুরের গোলরক্ষক। ৮৫ মিনিটে আরেকটি দারুণ সুযোগ তৈরি করেছিল বাংলাদেশ, কিন্তু বদলি নামা ফাহামিদুল সময়মতো বক্সে থাকা রাকিবের কাছে বল বাড়াতে পারেননি; তার আগেই প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার বিপদ মুক্ত করেন। শেষ দিকে গোলের আশায় রক্ষণ ছেড়ে মাঝমাঠ ছাড়িয়ে ওপরে উঠে আক্রমণভাগে যোগ দেন অধিনায়ক হামজা চৌধুরীও। তবে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের পর অতিরিক্ত ৬ মিনিট খেলা হলেও সিঙ্গাপুরের জমাট রক্ষণ ভাঙতে পারেনি বাংলাদেশ।
সিঙ্গাপুরের কাছে এই ১-০ গোলের হারে টানা দুই ম্যাচে পয়েন্টশূন্য রইল বাংলাদেশ। দুই ম্যাচে কোনো পয়েন্ট না পেয়ে বর্তমানে পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে অবস্থান করছে লাল-সবুজের দল।
অন্যদিকে, গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলে ৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে মালয়েশিয়া; আর সমান ৩ করে পয়েন্ট নিয়ে যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুর। টুর্নামেন্টে নিজেদের শেষ ও তৃতীয় ম্যাচে আগামী ১ অক্টোবর স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার মুখোমুখি হবে হামজা-জামালরা। টুর্নামেন্টে টিকে থাকা এবং তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে নিজেদের সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখতে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








