নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৬:১৮, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাষ্ট্রপতির স্ত্রীও পাবেন ফ্যামিলি কার্ড: শাহে আলম

রাষ্ট্রপতির স্ত্রীও পাবেন ফ্যামিলি কার্ড: শাহে আলম

ছবি: সংগৃহীত

আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের চার কোটি পরিবারের প্রত্যেক নারীপ্রধানকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। 

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রংপুরের পীরগঞ্জে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান। 

সরকারের সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা, ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড বিতরণ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ভাতা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক সমালোচনার জবাব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী অত্যন্ত স্পষ্ট ও বিস্তারিত দিকনির্দেশনা তুলে ধরেছেন।

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ প্রক্রিয়ার সার্বিক ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, পর্যায়ক্রমে হতদরিদ্র, নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে উচ্চবিত্ত সব শ্রেণির পরিবারই এই সুবিধার অন্তর্ভুক্ত হবে। 

উদাহরণস্বরূপ তিনি বলেন, ইউনিভার্সাল বা সর্বজনীন মানে সবার জন্য। একটি পরিবারও এই সুবিধা থেকে বাদ যাবে না। এমনকি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্ত্রীও এই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসবেন। ফ্যামিলি কার্ডের সার্বিক এই সিদ্ধান্তটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং এর জন্য সাধারণ মানুষকে কোনো ধরনের তদবির বা হয়রানির শিকার হতে হবে না।

ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি দেশের কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালুর প্রক্রিয়াও দ্রুত এগিয়ে চলছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। প্রথম পর্যায়ে আগামী চার বছরের মধ্যে দুই কোটি ১০ লাখ কৃষককে এই কার্ডের আওতাভুক্ত করা হবে। ভূমিহীন, প্রান্তিক, মধ্যম ও উচ্চ এই চার স্তরের ক্রমবিন্যাস অনুযায়ী কৃষকদের মাঝে কার্ড বিতরণ করা হবে। এমনকি যাদের ৫০ বা ১০০ বিঘা জমি রয়েছে, তারাও এই কৃষক কার্ডের সুবিধা পাবেন। এই কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রেও কোনো তদবির বা দুর্নীতির সুযোগ রাখা হবে না।

আরও পড়ুন: চলতি বছরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হচ্ছে না: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা ও ধর্মীয় জনকল্যাণমূলক পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের সাড়ে তিন লাখ মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম এবং মন্দির-প্যাগোডাসহ অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ধর্মগুরুদের আগামী চার বছরের মধ্যে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়ে সম্মানী ভাতা প্রদান করা হবে। ইতিমধ্যে কিছু এলাকায় পাইলট প্রকল্পের আওতায় এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহে নির্দিষ্ট ভাতার টাকা সরাসরি তাদের মোবাইল অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে। এ সময় একটি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ইতিপূর্বে ওই দলগুলো ককখনো ইমাম-মুয়াজ্জিনদের অধিকার বা সম্মানী ভাতার কথা তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে রাখেনি বা কোনো দাবিও তোলেনি।

গ্রামীণ জনপদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে এক লাখ স্বাস্থ্য আপা নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এই স্বাস্থ্য আপারা গ্রামে গ্রামে ঘুরে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেবেন, প্রয়োজনীয় প্রাথমিক ওষুধ ও চিকিৎসা সেবা দেবেন। এছাড়া যুবসমাজ ও শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তুলতে শিক্ষার মান উন্নয়নে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি স্কিল ডেভেলপমেন্টের মাধ্যমে বেকার তরুণ-তরুণীদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে বিদেশে পাঠানোর বৃহৎ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের অংশ হিসেবে স্কুলের পাঠ্যবইয়ে খেলাধুলাকে যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।

অনুষ্ঠানে সাম্প্রতিক সময়ে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি ও লংমার্চের কঠোর সমালোচনা করেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী। 

তিনি মন্তব্য করেন, বাইরের দেশের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য অহেতুক এমন কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। দেশে যদি সত্যিকারের তেলের সংকট থাকত, তবে ১১ দল কীভাবে লংমার্চ করেছে? 

তিনি আরও যোগ করেন যে, কেবল লংমার্চ করে যদি সমস্যার সমাধান হতো, তবে বিএনপি টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত লংমার্চের আয়োজন করত।

রংপুরের পীরগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার পৈতৃক বাড়ি, শহীদ আবু সাঈদ ফাউন্ডেশন এবং কবরস্থানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য এক কোটি টাকা বরাদ্দের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এ সময় তিনি তাৎক্ষণিকভাবে রংপুর জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদকে এই বরাদ্দ দ্রুত ও যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য রেজেকা সুলতানা ফেন্সী, জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক ইসরাত সুলতানাসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়