নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:৫৩, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাড্ডা ভাঙচুর-জবরদখল সরকারের জন্য অশনিসংকেত: টিআইবি

রাড্ডা ভাঙচুর-জবরদখল সরকারের জন্য অশনিসংকেত: টিআইবি

ফাইল ছবি

রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মধ্যরাতে পুলিশের উপস্থিতিতে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের হামলা, ভাঙচুর ও জবরদখল এবং একজন কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনাকে সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের জন্য অশনিসংকেত বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান জানান, এসব ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়, বরং সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের জন্য অশনিসংকেত। এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সারাদেশে দলীয় আত্মশুদ্ধি অভিযান পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতি আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।

সংস্থাটির মতে, ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে বাস টার্মিনাল, ফুটপাত, বাজার, জলমহাল, বালুমহাল, হাটবাজার, ক্যাবল ও ইন্টারনেট সংযোগ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবসাসহ নানা খাতে বিএনপির এক শ্রেণীর নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে জবরদখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে।

আরও পড়ুন: সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর, মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেফতার ৪

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও দখলের ঘটনাকে সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক প্রশ্ন তোলেন, 'জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের একজন নারী এমপির পৃষ্ঠপোষকতায় এবং পুলিশের উপস্থিতিতে অর্ধশত বছর ধরে দরিদ্র মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে ক্ষমতাসীন দল কী বার্তা দিতে চাইছে?'

তিনি বলেন, 'রক্তক্ষয়ী জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে কর্তৃত্বপরায়ণ চোরতন্ত্রের পতনের পর জনগণের রায়ে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত দলের নেতাকর্মীদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশবাসীর কাছে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। বিগত সরকারের স্বেচ্ছাচারী আচরণ জনগণের মানসপটে এখনো সতেজ। এ অবস্থায় দলীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশের চলমান দখলবাজি ও চাঁদাবাজির ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে বিএনপির নীতিনির্ধারকরা ভাবছেন কি না, সে প্রশ্ন থেকে যায়।'

ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, 'আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরপরই ঢাকার সায়েদাবাদ, মহাখালী, গাবতলীসহ চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনাসহ সারাদেশের বাস টার্মিনাল, হাটবাজার ও স্থানীয় ব্যবসা দখলের হাতবদল শুরু হয়। অনেক ক্ষেত্রে আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে নিজেদের মধ্যকার অসুস্থ প্রতিযোগিতা সশস্ত্র সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে।'

একইসঙ্গে সরকারের এক মন্ত্রীর 'চাঁদাবাজি দুর্নীতি নয়, সমঝোতার লেনদেন' সংক্রান্ত বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, 'এ জাতীয় বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় চাঁদাবাজি ও দখলবাজি আরও স্বাভাবিকতা লাভ করেছে, যা সরকারের জন্য অশনিসংকেত।'

কিশোরগঞ্জের জলমহাল দখল ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনা প্রসঙ্গে টিআইবির প্রধান বলেন, 'এগুলো ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে চলে আসা ঘটনাগুলোরই ধারাবাহিকতা মাত্র। এটি সরকারের ভালো উদ্যোগগুলোকে জনগণের সামনে ম্লান করে দিচ্ছে। নির্বাচনী দুর্নীতিবিরোধী অঙ্গীকার রক্ষায় এখনই আত্মশুদ্ধিমূলক পদক্ষেপ না নিলে অদূর ভবিষ্যতে দল বা সরকার চাইলেও এসব দখলবাজি ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না।'

টিআইবি উল্লেখ করে, অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে দলটি থেকে সাময়িক বা স্থায়ী বহিষ্কারের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হলেও কঠোর প্রতিরোধমূলক কাঠামোর ঘাটতি রয়েছে। অন্যদিকে অভিযুক্তদের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও কার্যকর আইনি পদক্ষেপ নিতে পারছে না।

এ অবস্থায় বিচারহীনতার সংস্কৃতি পুনঃপ্রতিষ্ঠার বহুমুখী দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে উল্লেখ করে সাম্প্রতিক প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে টিআইবি।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এনডি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়