আদাবরে দখলচেষ্টা: পুলিশের গুলিতে আহত ২, গ্রেফতার ১০
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর আদাবর ও মোহাম্মদপুর এলাকায় সংঘটিত বাড়ি ও জমি দখলের চেষ্টা, হামলা, ভাঙচুর এবং চাঁদাবাজির ঘটনায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের ধরতে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এর মধ্যে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে আদাবরের নবোদয় হাউজিং এলাকায় আসামিদের ধরতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে দুষ্কৃতকারীদের সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে মামলার দুই প্রধান অভিযুক্ত পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর এবং তেজগাঁও জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. জুয়েল রানার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে যে আদাবরের নবোদয় হাউজিং কাঁচাবাজারসংলগ্ন মেলার মাঠের পেছনের খালপাড়ের ফাঁকা জায়গায় শ্যামলী হাউজিংয়ের বাড়ি দখলের চেষ্টা মামলার পলাতক আসামিরা অবস্থান করছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে আদাবর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত সেখানে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ৭ থেকে ৮ জনের একটি সশস্ত্র দল ধারালো অস্ত্র নিয়ে অতর্কিতভাবে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার চেষ্টা চালায়। এ সময় নিজেদের আত্মরক্ষা ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শটগান থেকে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে। পুলিশের গুলিতে ঘটনাস্থলে দুই দুষ্কৃতকারী আহত হন এবং পরে চারজনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়, যদিও অন্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ স্টিলের ধারালো চাপাতি, সামুরাই এবং কিরিস উদ্ধার করে।
পুলিশের এই অভিযানে গ্রেপ্তার চারজনের মধ্যে রয়েছেন রাজিব হাওলাদার (৩০), যিনি মোহাম্মদপুরের আলোচিত বাবু হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ১ নম্বর আসামি এবং তার পায়ে গুলি লেগেছে। এছাড়া গ্রেফতার সাগর ওরফে ছোট বিগারের (২৪) বিরুদ্ধে আদাবর ও মোহাম্মদপুর থানায় মোট আটটি মামলা রয়েছে এবং তিনিও পুলিশের গুলিতে পায়ে আহত হয়েছেন। এ ছাড়া শাকিব (২৩) ও রাশেদ (২৪) নামের অপর দুই আসামির বিরুদ্ধেও বিভিন্ন থানায় পাঁচটি করে মামলা রয়েছে। গুলিবিদ্ধ রাজিব ও সাগরকে তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসার জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর (শনিবার) সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে আদাবরের শেখেরটেকের শ্যামলী হাউজিংয়ের প্রথম প্রকল্পের ৬ নম্বর সড়কের একটি আটতলা ভবনে এই হামলার সূত্রপাত হয়েছিল।
আরও পড়ুন: পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠ থেকে ২০ ককটেল ও পেট্রোল বোমা উদ্ধার
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খুরশিদ আলম খানের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি মুখোশধারী দল দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ভবনটিতে জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা চালায়। হামলাকারীরা মূল ফটক খুলে বাসিন্দাদের বের হয়ে যাওয়ার হুমকি দেয় এবং চাঁদা দাবি করে। এ সময় তারা চাপাতি দিয়ে প্রধান ফটক ও জানালায় উপর্যুপরি কোপায় এবং নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য স্থাপন করা সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। এছাড়া ইটের টুকরা ছুড়ে দ্বিতীয় তলার একাধিক জানালার কাচ ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়।
ভবন মালিকের স্বজনদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর স্থানীয় খোরশেদ আলমপক্ষ জোরপূর্বক ভবনটি দখল করে নিয়েছিল। পরবর্তীতে দীর্ঘ আইনি লড়াই, থানা ও আদালতের প্রক্রিয়া শেষে গত ১২ মার্চ প্রকৃত মালিকরা আইনিভাবে ভবনের দখল বুঝে পান। এর মাত্র কয়েক মাসের মাথায় আবারও একই চক্রের লোকজন ভবনটি দখলের উদ্দেশ্যে এই সশস্ত্র তাণ্ডব চালায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার আদাবর থানায় একটি লিখিত মামলা দায়ের করে।
এদিকে একই সময়ে মোহাম্মদপুর থানাধীন এলাকার চাঁদ উদ্যান হাউজিংয়েও জমি দখলের আরেকটি বড় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গত শনিবার সকালে মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধের পশ্চিম পাশে চাঁদ উদ্যান হাউজিংয়ের রোজ ভিলা-সংলগ্ন প্রায় ৩৫ কাঠা জমি দখলের চেষ্টা চালায় একটি পক্ষ।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এই জমিটির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। ঘটনার দিন জনি ও রেজাউলের নেতৃত্বে ১৫০ থেকে ২০০ জনের একটি দল জোরপূর্বক জমিতে প্রবেশ করে সেখানকার অফিস ভাঙচুর, নগদ অর্থ ও মালামাল লুট করে এবং নতুন করে টিনের বেড়া দিয়ে দখলের চেষ্টা চালায়। এই ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় পৃথক মামলা দায়ের করা হয় এবং পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আটজনকে গ্রেফতার করে। জমি নিয়ে মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধ আদালতের মাধ্যমে মীমাংসা করার জন্য উভয় পক্ষকে আইনি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আদাবরে বাড়ি হামলা এবং মোহাম্মদপুরে জমি দখলের পৃথক দুটি ঘটনায় জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অপরাধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোট ১৩ জনকে আইনের আওতায় এনেছে এবং রাজধানীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








