নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:০৬, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৮ মৃত্যু, আক্রান্ত ২ হাজার ৩৬

ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৮ মৃত্যু, আক্রান্ত ২ হাজার ৩৬

ফাইল ছবি

বাংলাদেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশজুড়ে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ৩৬ জন রোগী। এর মধ্য দিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাল। 

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে প্রকাশিত ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের এই সময়ে ডেঙ্গুর সংক্রমণ সাধারণত চূড়ায় (পিক) পৌঁছায়, যা প্রতিরোধে কার্যকর সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বিত পদক্ষেপ অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিন সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হওয়া দুই হাজার ৩৬ জন রোগীর মধ্যে ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) সবচেয়ে বেশি ৪৩২ জন ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ৩২৩ জন, খুলনা বিভাগে ২৬৭ জন, বরিশাল বিভাগে ২৫৪ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২০৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৯৭ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৬৯ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১১৫ জন, রংপুর বিভাগে ৬২ জন এবং সিলেট বিভাগে ১১ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হিসেবে ভর্তি হয়েছেন। 

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২১৫৮

বিভাগভিত্তিক এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট যে, ডেঙ্গু এখন আর শুধু রাজধানী ঢাকা বা নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় এর বিস্তার প্রকট আকার ধারণ করেছে।

নতুন এই আটজনের মৃত্যুর ফলে চলতি বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩৩ জনে। এর আগে গত বছরগুলোতেও ডেঙ্গুর ভয়াবহ রূপ দেখেছে দেশ। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলো এক লাখ দুই হাজার ৮৬১ জন এবং প্রাণ হারিয়েছিলেন ৪১৩ জন। তার আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং মৃতের সংখ্যা ছিল আরও বেশি ৫৭৫ জন। এছাড়া ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ বছর হিসেবে চিহ্নিত ২০২৩ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন এবং প্রাণ হারিয়েছিলেন রেকর্ড এক হাজার ৭০৫ জন। বর্তমান বছরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিগত বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় চলতি মৌসুমেও ডেঙ্গুর সংক্রমণ অত্যন্ত উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।

রোগীদের হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার চিত্রও নিয়মিত আপডেট হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশ থেকে দুই হাজার ৬৪ জন রোগী সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে এ পর্যন্ত মোট ৭০ হাজার ২৫৮ জন ডেোগীরোগী সফল চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে হাজার হাজার ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যা চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপের সৃষ্টি করছে। 

স্বাস্থ্য বিভাগ ও চিকিৎসকরা বলছেন, সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি, বাসাবাড়ি কিংবা আশপাশের জমে থাকা পরিষ্কার পানি নিয়মিত অপসারণ এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের মাধ্যমেই কেবল এই মহামারী পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়