নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৮:৪২, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিনের ছুটি

দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিনের ছুটি

ফাইল ছবি

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। সাধারণ ছুটির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং চাকরিজীবীদের দীর্ঘ ছুটির সুযোগ করে দিতে ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এর ফলে আগামী ২০ অক্টোবর থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন উপভোগ করা যাবে এই ছুটির আনন্দ। 

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সরকারের এক নির্বাহী আদেশে এই ছুটির অনুমোদন দেওয়া হয় এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই ছুটির ফাইল অনুমোদন করেন বলে নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ড. সালেহ শিবলী।

সরকারি ছুটির নতুন ক্যালেন্ডার ও তথ্যানুযায়ী, মহাষষ্ঠী, মহাসপ্তমী ও মহাষ্টমীর আনুষ্ঠানিকতার পর আগামী ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার) মহানবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে। এরপর ২১ অক্টোবর (বুধবার) বিজয়া দশমী উপলক্ষে নির্ধারিত রয়েছে সাধারণ ছুটি। নতুন ঘোষণার ফলে ঠিক তার পরের দিন অর্থাৎ ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে আরও একদিন ছুটি যুক্ত হলো। এর ঠিক পরেই ২৩ ও ২৪ অক্টোবর যথাক্রমে শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় সরকারি চাকরিজীবীদের আর আলাদা করে কোনো ঐচ্ছিক বা বাড়তি ছুটি নেওয়ার প্রয়োজন পড়ছে না। সব মিলিয়ে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন ছুটির আমেজে কাটবে দেশ। মূল সরকারি ছুটির বাইরে হিন্দু ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য দুই দিনের ঐচ্ছিক ছুটির সুযোগও বহাল রাখা হয়েছে।

চলতি বছর শারদীয় দুর্গাপূজার মহালয়া অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১০ অক্টোবর। এরপর ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে শারদোৎসাবের আনুষ্ঠানিকতা। পরবর্তীতে ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী, ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনব্যাপী এই উৎসব। 

আরও পড়ুন: টানা ৭ দিনের ছুটির সুযোগ

সরকারি ছুটির আওতাভুক্ত বিভিন্ন অফিসের পাশাপাশি ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতেও এই ছুটির নির্দেশিকা কার্যকর হবে। তবে সাধারণ ছুটির মধ্যেও দেশের জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খোলা থাকবে এবং কর্মীরা দায়িত্ব পালন করবেন।

এদিকে শুধু ছুটির পরিধিই নয়, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান এই উৎসবকে আরও জাঁকজমকপূর্ণ করতে মণ্ডপের অনুদানও বাড়িয়েছে সরকার। 

প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার জানান, প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে দুর্গাপূজা উপলক্ষে সারাদেশে পূজামণ্ডপগুলোর জন্য যে বিশেষ বরাদ্দ চার কোটি টাকা দেওয়া হতো, তা বাড়িয়ে এবার পাঁচ কোটি টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী এ খাতে অতিরিক্ত এক কোটি টাকা বরাদ্দ বৃদ্ধি করেছেন।

পাশাপাশি দেশের অন্য একটি প্রধান ধর্মীয় উৎসব বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দান উৎসব উপলক্ষেও অনুদানের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে গত বছর যেখানে দুই কোটি টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছিল, তা বাড়িয়ে এবার তিন কোটি টাকা নির্ধারণ করেছে সরকারপ্রধান। অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু হয়ে আগামী নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলবে প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দাসের নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানমালা। 

সরকারের এমন যুগপৎ সিদ্ধান্ত দেশের সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে উৎসবের আমেজ ও সম্প্রীতি আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়