সৌদি প্রবাসীদের জন্য কনস্যুলেটের কড়া সতর্কতা
ফাইল ছবি
সৌদি আরবে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রবাসজীবন নিশ্চিত করতে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত আইনি জটিলতা এড়াতে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক বিজ্ঞপ্তিতে প্রবাসীদের স্থানীয় আইনকানুন কঠোরভাবে মেনে চলার এবং বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সৌদির কঠোর স্থানীয় আইন ও শৃঙ্খলা সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে অনেক সময় প্রবাসীরা বড় ধরনের আইনি বিপদের মুখে পড়েন। দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল রাখতে এবং প্রবাসীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই কড়া দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সৌদি আরবের কঠোর সাইবার অপরাধ আইন ও জননিরাপত্তা বিধিমালার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় আইন, জননিরাপত্তা কিংবা শৃঙ্খলাবিরোধী কোনো বিষয় বা কনটেন্ট ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স (সাবেক টুইটার)-এর মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার, সংরক্ষণ বা আদান-প্রদান করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে। এমনকি এ ধরনের সংবেদনশীল বা নীতিবহির্ভূত কোনো পোস্টে লাইক, কমেন্ট বা শেয়ার করা থেকেও প্রবাসীদের বিরত থাকার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সামান্য ভুলের কারণে বড় ধরনের জেল-জরিমানা বা স্থায়ীভাবে দেশ থেকে বহিষ্কারের মতো শাস্তি হতে পারে।
প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কাগজপত্রে স্বাক্ষর এবং পরিচয়পত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনো কাগজপত্র বা ডকুমেন্টের বিষয়বস্তু পুরোপুরি না বুঝে বা যাচাই না করে তাতে স্বাক্ষর করা কিংবা সাদা কাগজে স্বাক্ষর ও আঙুলের ছাপ বা টিপসই দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
আরও পড়ুন: ক্ষেপণাস্ত্র আতঙ্কে জেদ্দায় প্রাণ গেল বাংলাদেশি যুবকের
এছাড়া, নিজের আকামা (আবাসিক অনুমতিপত্র) ব্যবহার করে অন্য কোনো ব্যক্তি, কফিল কিংবা প্রতিষ্ঠানের নামে মোবাইল সিম, যানবাহন বা অন্য কোনো সম্পদ নিবন্ধন করা যাবে না। অন্যের নামে সিম বা সম্পদ নিবন্ধন করলে পরবর্তী সময়ে সেটির আইনি দায়ভার সংশ্লিষ্ট প্রবাসীর ওপরই বর্তায়, যা অনেক সময় বড় ধরণের আইনি ঝামেলা তৈরি করে।
সৌদি শ্রম আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলার ওপর জোর দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বেশ কিছু দণ্ডনীয় অপরাধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এক অঞ্চল বা এক প্রতিষ্ঠানের আকামা বা কাজের অনুমতি ব্যবহার করে অন্য কোথাও বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে অবৈধভাবে কাজ করা যাবে না। রাস্তার পাশে পড়ে থাকা বিভিন্ন পরিত্যক্ত জিনিসপত্র বা ক্র্যাপ সংগ্রহ ও বিক্রি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এটি দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। উপযুক্ত অনুমতি বা লাইসেন্স ছাড়া রাস্তার পাশে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসা পরিচালনা এবং অবৈধ উপায়ে পানি বিক্রির মতো কর্মকাণ্ড থেকেও দূরে থাকতে হবে।
প্রবাসে নানা ধরনের প্রতারক চক্রের ফাঁদ থেকে বাঁচতে আর্থিক লেনদেন ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কনস্যুলেট। অপরিচিত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অবৈধ আর্থিক লেনদেন কিংবা হুন্ডি বা সন্দেহজনক মাধ্যমে টাকা পাঠানো থেকে বিরত থাকতে হবে। পাশাপাশি, বিভিন্ন আকর্ষণীয় ও মিথ্যা চাকরির প্রলোভনে পড়ে প্রতারণার শিকার হওয়া থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কনস্যুলেট মনে করে, প্রবাসের প্রতিটি নাগরিকের আইনানুগ ও শ্রদ্ধাশীল আচরণ কেবল তাদের ব্যক্তিগত জীবনকেই নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত রাখবে না, বরং মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে বাংলাদেশিদের সম্মানজনক অবস্থান সুদৃঢ় করার পাশাপাশি দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তিও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উজ্জ্বল করবে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








