নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৬:০৬, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ক্ষেপণাস্ত্র আতঙ্কে জেদ্দায় প্রাণ গেল বাংলাদেশি যুবকের

ক্ষেপণাস্ত্র আতঙ্কে জেদ্দায় প্রাণ গেল বাংলাদেশি যুবকের

সৌদি আরবের জেদ্দায় ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের সাইরেন ও আকস্মিক আতঙ্কে তাড়াহুড়ো করে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার সময় মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে নরসিংদীর রায়পুরার এক তরুণ প্রবাসীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। 

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভোরের দিকে জেদ্দার একটি আবাসিক ভবনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত প্রবাসী যুবকের নাম সৌরভ ইসলাম (২৫)। তিনি নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের মুছাপুর গ্রামের আমির ইসলাম (বা আমিরুল ইসলাম) ও রেনু বেগম দম্পতির একমাত্র সন্তান। পরিবারের একমাত্র অবলম্বনকে হারিয়ে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পারিবারিক ও প্রবাসী সূত্রে জানা যায়, সৌরভ গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে সৌদির আলসাইম নামক একটি প্রতিষ্ঠানের অধীনে জেদ্দার একটি ব্যাংকে অফিস সহকারী বা টি-বয় হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর মধ্যে দীর্ঘ প্রবাস জীবনের পর গত এক বছর আগে তিনি নিজ দেশ থেকে ছুটি কাটিয়ে পুনরায় কর্মস্থলে ফিরে যান। কর্মজীবনে তিনি অত্যন্ত নম্র, ভদ্র ও শান্ত প্রকৃতির তরুণ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

ঘটনার দিন গত মঙ্গলবার ভোরের দিকে নিজ আবাসনের ছাদে অবস্থান করছিলেন সৌরভ। ঠিক সেই মুহূর্তে ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি মিসাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র জেদ্দার আকাশসীমার দিকে ধেয়ে আসার সতর্কবার্তা ও সাইরেন তার মোবাইল ফোনে বেজে ওঠে। দূরপাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অ্যালার্ট ও সম্ভাব্য বিপদের আশঙ্কায় তিনি চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। জীবন বাঁচাতে তাৎক্ষণিকভাবে ছাদ থেকে দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার চেষ্টা করেন তিনি।

আরও পড়ুন: কাতারে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচ বাংলাদেশির মৃত্যু

সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার সময় তাড়াহুড়োয় পায়ে বৈদ্যুতিক তার কিংবা কোনো রশি পেঁচিয়ে তিনি হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে সিঁড়িতে সজোরে পড়ে যান। এতে তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও চিকিৎসকদের নাগালের বাইরে থাকায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে সঙ্গে থাকা অন্যান্য প্রবাসী সহকর্মীরা তাকে রক্তাক্ত ও নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় সৌদি পুলিশকে খবর দেন। পরবর্তীতে পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করে।

মঙ্গলবার বিকালের দিকে সৌদি আরব থেকে সৌরভের সঙ্গে থাকা এক সহকর্মী ফোনে তার স্বজনদের মৃত্যুর খবরটি জানান। এই সংবাদ নরসিংদীর মুছাপুর গ্রামে পৌঁছানোর পর থেকেই নিহতের বাড়িতে শোকের মাতম শুরু হয়। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন মা রেনু বেগম।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে মা রেনু বেগম বলেন, সৌরভ আমার একমাত্র ছেলে ছিল। সে সবসময় ফোনে আমার খোঁজখবর নিত। এখন আমার দেখাশোনা করার কেউ রইল না। আমি সরকারের কাছে বিনীত আবেদন জানাই, দ্রুত যেন আমার কলিজার টুকরার মরদেহটি দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়। আমি শেষবারের মতো ছেলের মুখটা দেখতে চাই এবং নিজের হাতে তাকে মাটি দিতে চাই।

একই আকুতি জানিয়ে বাবা আমির ইসলাম বলেন, আমার একমাত্র ছেলেকে এভাবে হারাতে হবে তা কোনোভাবেই ভাবতে পারছি না। এখন শুধু চাই সরকারের সহযোগিতায় ছেলের মরদেহ যেন দ্রুত দেশে ফিরে আসে। নিজের হাতে ছেলেকে শেষ বিদায় জানাতে চাই।

এদিকে ঘটনার বিষয়ে রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা জানান, সংবাদটির মাধ্যমে বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। তবে এখন পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ সরাসরি যোগাযোগ করেননি। পরিবার বা স্বজনদের কেউ যোগাযোগ করলেই মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে সৌদি আরবে স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে প্রবাসীরা জানিয়েছেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়