নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৬:১৯, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নভেম্বরের মাঝামাঝিতে ইউপি নির্বাচন শুরু করছে ইসি

নভেম্বরের মাঝামাঝিতে ইউপি নির্বাচন শুরু করছে ইসি

ছবি: সংগৃহীত

নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার প্রস্তুতি নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রথম পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আয়োজন করে পরবর্তী ধাপে সিটি করপোরেশন, পৌরসভাসহ অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন করার পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের। তবে ঠিক কোন তারিখে ভোটগ্রহণ শুরু হবে এবং প্রথম ধাপে কতগুলো ইউনিয়নে নির্বাচন হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি ইসি। 

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে এবং ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন ধাপে ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। 

তিনি আরও জানান, এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট আইন পরিবর্তন না হলে বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা করবে কমিশন।

ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে গত রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) থেকে কমিশনের ধারাবাহিক বৈঠক শুরু হয়েছে। সোমবারও নির্বাচন ভবনে এ বৈঠক চলছিল। বৈঠকের বিরতিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আব্দুর রহমানেল মাছউদ নভেম্বরের মাঝামাঝি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনার কথা জানান। বৈঠক শেষে ইসি সচিব আখতার আহমেদের বিস্তারিত ব্রিফ করার কথা রয়েছে। অর্থাৎ নির্বাচন কমিশনের ভেতরে এখন মূলত ভোটের ধাপ, সময়সূচি, প্রস্তুতি ও বাস্তবায়ন কৌশল চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।

তফসিল ঘোষণার সময় নিয়ে কমিশনের সর্বশেষ বক্তব্যে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছিলেন, চলতি সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। 

তখন তিনি জানিয়েছিলেন, নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য আচরণবিধি চূড়ান্ত করেছে এবং ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও ভোটকেন্দ্র নির্ধারণের কাজও শেষ হয়েছে। একই সঙ্গে প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের প্যানেল তৈরির কাজ চলছিল।

তবে ১৪ সেপ্টেম্বর আব্দুর রহমানেল মাছউদ তফসিল ঘোষণার নির্দিষ্ট সময়সীমা না জানিয়ে বলেন, শিগগিরই তফসিল ঘোষণা করা হবে। সেপ্টেম্বর না অক্টোবর কোন সময়ে তফসিল আসবে, এমন প্রশ্নের সরাসরি সময়সীমা না দিয়ে তিনি নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর বিষয়টিই নিশ্চিত করেন। ফলে ৬ সেপ্টেম্বরের সেপ্টেম্বরের মধ্যেই তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনার তুলনায় ১৪ সেপ্টেম্বরের বক্তব্যে তফসিলের নির্দিষ্ট সময় নিয়ে অবস্থান অপেক্ষাকৃত সতর্ক হয়েছে। তবে ভোট শুরুর লক্ষ্য হিসেবে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় এখনো কমিশনের পরিকল্পনায় রয়েছে।

ইসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের সব ইউনিয়নে একসঙ্গে ভোট না নিয়ে ধাপে ধাপে নির্বাচন আয়োজন করা হবে। এর আগে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছিলেন, ইউপি নির্বাচন একটি পর্যায়ে এগিয়ে গেলে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আয়োজন করা হবে। ব্যয় সংকোচন এবং প্রশাসনিক ও নির্বাচনী সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে পর্যায়ক্রমে ভোট আয়োজনের এই কৌশল নেওয়া হচ্ছে বলে ইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: ইউপি নির্বাচনের তফসিল এ মাসেই, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা অংশ নিতে পারবেন না

ভোটের সময় নির্ধারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করছে কমিশন। নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বার্ষিক পরীক্ষা, বৃত্তি পরীক্ষা, টেস্ট ও প্রি-টেস্টসহ বিভিন্ন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। আবার অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেই ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয় এবং শিক্ষকরা প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ কারণে পরীক্ষার সময়ের সঙ্গে ভোটের সময়সূচির সংঘাত এড়াতে পরীক্ষা শুরুর আগে অথবা শেষ হওয়ার পর ভোটের তারিখ নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করছে ইসি।

নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতির বড় অংশজুড়ে রয়েছে নিরাপত্তা ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা। কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ৬ সেপ্টেম্বর জানিয়েছিলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সব ভোটকেন্দ্রকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্রুত পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বডি-ওর্ন ক্যামেরার সংখ্যা বাড়ানো এবং ড্রোন ব্যবহারের কথাও জানান তিনি। ড্রোনের মাধ্যমে কোনো এলাকায় দ্রুত পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চলাচল ও প্রতিক্রিয়া আরও কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচন ঘিরে ভুল তথ্য বা মিসইনফরমেশন মোকাবিলায়ও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে কমিশন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধিতেও কিছু নতুন কড়াকড়ি রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় যেসব বিধান যুক্ত করা হয়েছিল, তার কিছু স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। সরকারি সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে ভিআইপিদের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়া ঠেকানোর বিধানসহ প্রচার-প্রচারণায় কিছু বিধিনিষেধ রাখা হয়েছে। পচনশীল নয় এমন দ্রব্য বা পোস্টার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন ইসি আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। সংশোধিত আচরণবিধির গেজেটও প্রকাশের প্রক্রিয়ায় রয়েছে বলে সে সময় জানানো হয়।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টিও কমিশনের বিবেচনায় রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষণ হলো, কোনো শিক্ষক প্রার্থী হলে তার সহকর্মীদের একটি অংশ তার পক্ষে কাজ করতে পারেন, যা ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষকদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা ও শিক্ষকদের পেশাগত নিরপেক্ষতা বজায় রাখার বিষয়টি বিবেচনা করে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে কমিশনের পর্যবেক্ষণ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

ইউপি নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের যাত্রা শুরুর এই পরিকল্পনার পেছনে কমিশনের প্রস্তুতিও বেশ কিছুটা এগিয়ে রয়েছে। 

৬ সেপ্টেম্বর ইসি আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছিলেন, ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও ভোটকেন্দ্র নির্ধারণের কাজ শেষ হয়েছে। প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের প্যানেল তৈরির কাজও এগিয়ে চলছিল। একই সময় তিনি জানিয়েছিলেন, ইউপি নির্বাচন নিয়ে কমিশনের কর্মপরিকল্পনা দ্রুতগতিতে প্রণয়ন করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, নির্বাচন কমিশনের বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার পর্যায়ের ভোট শুরু হতে যাচ্ছে। প্রথম ধাপে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের পর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এখন কমিশনের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে তফসিলের সময় নির্ধারণ, কোন কোন এলাকায় প্রথম ধাপে ভোট হবে তা চূড়ান্ত করা, পরীক্ষার সময়সূচির সঙ্গে সমন্বয়, আচরণবিধির সংশোধিত বিধান কার্যকর করা এবং নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি সম্পন্ন করা। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনসংক্রান্ত আইন এর মধ্যে পরিবর্তিত হলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে; আর আইন অপরিবর্তিত থাকলে বিদ্যমান আইনেই নির্বাচন সম্পন্ন করার অবস্থান স্পষ্ট করেছে কমিশন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়