জুলাই সনদের সব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হবে: চিফ হুইপ
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। ছবি: সংগৃহীত
জুলাই সনদে যেসব বিষয়ে স্বাক্ষর হয়েছে, সেগুলোর সবই বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।
তিনি বলেছেন, কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হলে তা সংশোধন করেই বাস্তবায়ন করা হবে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শেষে সংসদ ভবনে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
চিফ হুইপ বলেন, জুলাই সনদের ব্যাপারে আমাদের অবস্থান একদম পরিষ্কার। স্বাক্ষরিত সব বিষয়ই বাস্তবায়ন করা হবে। এর জন্য সংবিধান সংশোধন করতে হলে সেটিও করা হবে। সংবিধান সংশোধন ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিরোধী দলের সঙ্গে সরকার একযোগে কাজ করতে চায় জানিয়ে তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
চিফ হুইপ জানান, জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন ২৭ আগস্ট শুরু হয়ে ১০ সেপ্টেম্বর শেষ হয়। মোট নয়টি কার্যদিবসে ছয়টি বিল উত্থাপিত ও ছয়টি বিল পাস হয়েছে।
তিনি বলেন, বিধি ৬৮-এর আওতায় দুটি নোটিশের ওপর আলোচনা, বিধি ৭১-এর আওতায় ১৪টি বিষয় নিয়ে আলোচনা এবং দুই মিনিটের বক্তব্যের বিধিতে ১২৪টি নোটিশের ওপর আলোচনা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করার জন্য ১৪৪টি প্রশ্নের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নিজে ১৫টির উত্তর দিয়েছেন। মন্ত্রিসভার সদস্যরা মোট ২ হাজার ৬৭৬টি প্রশ্নের মধ্যে ১ হাজার ৬৭৮টির উত্তর দিয়েছেন।
তৃতীয় অধিবেশনে পাস হওয়া গুরুত্বপূর্ণ আইনগুলোর মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তর এবং সম্পত্তিতে আজীবন ভোগদখলের অধিকারসংক্রান্ত আইন অন্যতম বলে উল্লেখ করেন চিফ হুইপ।
তিনি বলেন, নতুন আইনের মাধ্যমে বাবা-মা সন্তানদের কাছে সম্পত্তি হস্তান্তর করার পরও তাদের জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তি ভোগের অধিকার নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।
বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, আন্দোলন বা লংমার্চ করে তাৎক্ষণিকভাবে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে কমপক্ষে দুই থেকে তিন বছর সময় প্রয়োজন।
আগের সরকারের সময়ে বিদ্যুৎ খাতে বিভিন্ন চুক্তি ও ক্যাপাসিটি চার্জের মাধ্যমে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসব বিষয় বর্তমান সরকার পর্যালোচনা করছে বলেও জানান চিফ হুইপ।
চিফ হুইপ দাবি করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত পাঁচ মাসে আগের সরকারের রেখে যাওয়া প্রায় ২০৫ কোটি ডলার ঋণ পরিশোধ করেছে। সরকারি অর্থ ব্যয়ে অপচয় রোধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুরুত্ব দিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
কৃষি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কৃষকদের সহায়তায় কৃষিঋণ ও কৃষক কার্ডের মতো কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। দেশে বর্তমানে ১৬ লাখ মেট্রিক টন অতিরিক্ত সার মজুদ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বিদেশি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ১০১টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নিয়ে সরকার আলোচনা ও পর্যালোচনা করছে বলে জানান চিফ হুইপ। এসব ক্ষেত্রে আর্থিক দিক বিবেচনার পাশাপাশি বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
চিফ হুইপ জানান, ৩৯টি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির মধ্যে ২২টিতে বিরোধী দলের তিনজন করে সদস্য রাখা হয়েছে। অন্য কমিটিগুলোতে দুজন করে বিরোধী দলের সদস্য রয়েছেন।
সরকারি অর্থ ব্যয়ের ওপর নজরদারি করা পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির সভাপতির দায়িত্ব বিরোধী দলের সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সরকার ও বিরোধী দলের সম্পর্ক প্রসঙ্গে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, দুই দলের মধ্যে মতপার্থক্য বাড়েনি; বরং সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশবাসীর সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
তিনি বলেন, সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় ইচ্ছা করলে আইন পাস করতে পারে। তবে সরকার সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে চায়। প্রধানমন্ত্রী বারবার বলেছেন, তিনি কোনো একটি দলের প্রধানমন্ত্রী নন; তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা, গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি ও জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সরকার বিরোধী দলসহ সবার সহযোগিতা চায় বলেও জানান চিফ হুইপ।
এ সময় হুইপ এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, মো. আখতারুজ্জামান মিয়া এবং এ.বি.এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান) উপস্থিত ছিলেন।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি








