আহত ক্যাপ্টেনকে দেখতে সিএমএইচে প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিয়মিত ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলন চলাকালীন ঘটা মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত সেনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন মির্জা মহিউদ্দিনকে দেখতে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ও বিকেলের দিকে সিএমএইচে গিয়ে তিনি চিকিৎসাধীন এই সেনা কর্মকর্তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।
এর আগে গত বুধবার (০৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় আকস্মিক এই দুর্ঘটনা ঘটে।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফায়ারিং অনুশীলনের একপর্যায়ে ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় হঠাৎ যান্ত্রিক ত্রুটি বা অন্য কোনো কারণে বিস্ফোরকজনিত এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুই কৃতি সেনাসদস্য নিহত হন এবং ট্যাংক পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন মির্জা মহিউদ্দিন গুরুতর আহত হন।
নিহত দুই সেনাসদস্য হলেন রাজশাহীর পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের বিন্দারামপুর গ্রামের সৈনিক মো. তাসনিম রিফাত (২৮) এবং নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস (৩০)। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় নিহত সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াসের পরিবার ও স্বজনদের মাঝে শোকের মাতম চলছে, বিশেষ করে তিনি বাবা হওয়ার মাত্র একদিন পরই এই চলে যাওয়ার ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অপর দিকে নিহত তাসনিম রিফাতের গ্রামের বাড়িতেও শোকের আবহ বিরাজ করছে, যেখানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ও গার্ড অব অনার প্রদান শেষে তাঁদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
আরও পড়ুন: ভারতে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী
দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে আহত ক্যাপ্টেন মির্জা মহিউদ্দিনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তার অবস্থার অবনতি হলে বা উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে হেলিকপ্টারযোগে তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করে সিএমএইচে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সিএমএইচের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাঁর নিবিড় চিকিৎসা চলছে।
শুক্রবার দুপুর পৌনে ৩টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিএমএইচে পৌঁছালে সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রধানমন্ত্রী আহত ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিনের বিছানার পাশে কিছুক্ষণ অবস্থান করেন, তার শারীরিক ও চিকিৎসার সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে চিকিৎসকদের সাথে কথা বলেন এবং তাকে সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেন। এ সময় তিনি আহত কর্মকর্তার সহধর্মিণী ও অন্যান্য পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের ধৈর্য ধারণের সাহস জোগান এবং সব ধরনের রাষ্ট্রীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।
এদিকে, দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর নিয়মিত ও কঠোর এই ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলন চলাকালে ঠিক কী কারণে এই আকস্মিক ও মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটল, তার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সামরিক কর্তৃপক্ষ ও আইএসপিআর জানিয়েছে, তদন্তের প্রতিবেদন হাতে আসার পর দুর্ঘটনার নেপথ্যের আসল কারণ স্পষ্টভাবে জানা যাবে। অন্যদিকে, দেশ মাতৃক্ষার টানে প্রশিক্ষণরত অবস্থায় প্রাণ হারানো দুই সেনাসদস্যের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীসহ দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








