আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৬:২০, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আপডেট: ১৬:৩৭, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভোট না দিলে ‘নরকে যেতে হবে’: ট্রাম্পের কড়া হুংকার

ভোট না দিলে ‘নরকে যেতে হবে’: ট্রাম্পের কড়া হুংকার

ফাইল ছবি

আসন্ন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে (মিডটার্ম) রিপাবলিকান পার্টির ভোটার ও সমর্থকদের জোরালোভাবে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। টেক্সাসের ডালাসে আয়োজিত রিপাবলিকান পার্টির সম্মেলনের সমাপনী দিনে দেওয়া এক অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও বিস্ফোরক ভাষণে ট্রাম্প এই তাগিদ দেন। 

তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির পরিবেশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, দলীয় সমর্থকদের ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে তিনি এমন কিছু মন্তব্য করেছেন যা ইতোমধ্যে মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আসন্ন নির্বাচনে যদি সমর্থকরা ভোট দিতে না যান, তবে তাদের নরকে যেতে হবে।

ডালাসের কনভেনশন সেন্টারে সমাপনী ভাষণে ট্রাম্প শুধু মুখে বলেই ক্ষান্ত হননি, তিনি সরাসরি উপস্থিত জনতাকে দিয়ে শপথ করান যে, তারা শুধু নিজেরাই ভোটকেন্দ্রে যাবেন না, বরং তাদের বন্ধু, প্রতিবেশী ও স্বজনদেরও সঙ্গে করে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসবেন। 

দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জানেন, যদি ভোট না দেন তাহলে কী হবে? আপনারা নরকে যাবেন। 

একই সঙ্গে নির্বাচনে রিপাবলিকানদের নিরঙ্কুশ বিজয় নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানোর আহ্বান জানান তিনি। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি ঐতিহ্যগতভাবে ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে নির্বাচনে ব্যাপক ভোট কারচুপি ও জালিয়াতির পুরোনো অভিযোগও চাঙ্গা করে তোলেন।

নিজের প্রশাসনের গত ১৯ মাসের শাসনকালকে মার্কিন ইতিহাসের অন্যতম সফল সময় হিসেবে দাবি করে ট্রাম্প বলেন, তার নেতৃত্বাধীন প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রকে একটি অন্ধকার যুগ থেকে টেনে বের করে সোনালি যুগে নিয়ে এসেছে। নিজের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরতে গিয়ে তিনি শেয়ারবাজারের নজিরবিহীন উত্থান, সাধারণ মানুষের জন্য ওষুধের দাম উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমে যাওয়া এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামরিক খাতে ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়গুলোকে প্রধান অর্জন হিসেবে সামনে আনেন। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপগুলোর ফলেই যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বিশ্বের অবিসংবাদিত জ্বালানি ও সামরিক পরাশক্তি হিসেবে বিশ্বমঞ্চে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, মাত্র ১৯ মাসের ব্যবধানে আমি আমার দেওয়া প্রতিটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছি। এই অগ্রগতির প্রমাণ হিসেবে তিনি অবৈধ উপায়ে সীমান্ত পারাপার প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসার কথা উল্লেখ করেন। এছাড়া অর্থনৈতিক মুক্তির বার্তা দিয়ে তিনি ওভারটাইম কাজের আয়, বকশিশ (টিপস) এবং সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধার ওপর নানা ধরনের কর ছাড় দেওয়ার মতো বেশ কিছু যুগান্তকারী সাম্প্রতিক আইনি ও নীতিগত উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন: ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে পুরোপুরি পঙ্গু করার হুমকি রুবিওর

ভাষণের শেষভাগে ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে কড়া হুশিয়ারি উচ্চারণ করে ট্রাম্প বলেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে যদি ডেমোক্র্যাটরা কোনোভাবে জয়লাভ করে, তবে মার্কিন নাগরিকদের ব্যক্তিগত সম্পদ বেআইনিভাবে বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে। এছাড়া জ্বালানি সমৃদ্ধ টেক্সাসের তেল ও গ্যাস শিল্প চরম ক্ষতির মুখে পড়বে এবং কারাবন্দি কিংবা দাগী অপরাধীরা আবারও যুক্তরাষ্ট্রের রাস্তায় নেমে এসে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাবে। রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যে ভীতি ও উদ্দীপনা যুগপৎ তৈরি করতেই তিনি এই আশঙ্কার কথাগুলো বারবার জোরালোভাবে তুলে ধরেন।

ট্রাম্পের ঠিক আগেই সম্মেলনে মূল বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি প্রতিনিধি পরিষদ (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) এবং সিনেটে রিপাবলিকান পার্টির বর্তমান সংখ্যাগরিষ্ঠতা যেকোনো মূল্যে বজায় রাখতে দলের নেতাকর্মীদের সক্রিয় ও বুদ্ধিদীপ্ত অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। 

ডেমোক্র্যাটদের তীব্র সমালোচনা করে ভ্যান্স বলেন, কোনো একটি নির্দিষ্ট নীতিগত বিষয়ে আমাদের সঙ্গে সামান্য মতপার্থক্য থাকলেই আস্থার জায়গা থেকে সরে এসে দেশের এই বিশাল দায়িত্ব একদল উন্মাদের হাতে তুলে দেওয়া কিছুতেই বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। বর্তমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের পূর্বসূরি ও অভিভাবকদের কাছ থেকে পাওয়া এক অমূল্য উত্তরাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি ভোটারদের আবেগ ও জাতীয়তাবাদী চেতনাকে নাড়া দেওয়ার চেষ্টা করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডালাসের এই সম্মেলনটি কেবল আসন্ন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের বৈতরণী পার হওয়ার জন্য রিপাবলিকান তৃণমূল ভোটারদের উজ্জীবিত ও সংগঠিত করার একটি কৌশল ছিল না; বরং এর নেপথ্যে রয়েছে সুদূরপ্রসারী ভূরাজনৈতিক ও দলীয় হিসাব-নিকাশ। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে ২০২৮ সালের পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির সম্ভাব্য এবং অন্যতম প্রধান মুখ বা প্রার্থী হিসেবে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও সুসংহত ও দৃশ্যমান করা হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের কট্টর জনতুষ্টিবাদী নীতি এবং জেডি ভ্যান্সের রক্ষণশীল বুদ্ধিবৃত্তিক যুক্তির মিশ্রণ আসন্ন মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকানদের মূল প্রচারণার রূপরেখা তৈরি করে দিয়েছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়