কঙ্গোর স্কুলে অগ্নিকাণ্ড, নিহত ১৪
ছবি: সংগৃহীত
ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) পূর্বাঞ্চলীয় বুকাভু শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৪ শিশুসহ ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও বহু শিক্ষার্থী ও শিক্ষক আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বুকাভু শহরের বাগিরা এলাকার উজামা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ক্লাস চলার সময় হঠাৎ স্কুল ভবনে আগুনের সূত্রপাত হয়। পুরো ভবনটি কাঠের তৈরি হওয়ায় মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। শ্রেণিকক্ষে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়লে প্রাণ বাঁচাতে শিক্ষার্থীরা ভবনের ওপরের তলা থেকে নিচে লাফ দিতে শুরু করে। অনেকে আবার মূল দরজা দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করে।
স্কুলটির শিক্ষক সাইমন কাসামিরা চিকিৎসাধীন অবস্থায় জানান, ক্লাস চলার সময় হঠাৎ শিক্ষার্থীদের চিৎকার শুনতে পান। কেউ ওপরের তলা থেকে নিচে লাফ দিচ্ছিল, আবার কেউ মূল দরজা দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করছিল। পরে আশপাশের বাসিন্দা ও অভিভাবকেরা সন্তানদের খোঁজে স্কুলে ছুটে আসেন। একপর্যায়ে পুরো কাঠের ভবনটি আগুনে পুড়ে যায়।
অগ্নিকাণ্ডের পর স্কুলের আশপাশে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ও পদদলনের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় নেতা প্যাট্রিস বুদুগে জানান, আগুনের আতঙ্কে শিশুরা হুড়োহুড়ি করে বের হতে গিয়ে একে অপরকে মাড়িয়ে যায়। এতে অনেকে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। আগুনে স্কুলের পাশাপাশি আশপাশের পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়িও পুড়ে গেছে বলে জানান তিনি।
স্থানীয় একটি ক্লিনিকের নার্স ক্রিস্টোফ জিগাশানে জানান, অগ্নিকাণ্ডের পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষককে ক্লিনিকে আনা হয়। তাদের মধ্যে চারজন ঘটনাস্থলে এবং ১০ জন হাসপাতালে আনার পর মারা যায়। নিহত ১৪ শিশুর সবার বয়স ১০ বছরের নিচে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আরও ২৭ জনকে শহরের অন্যান্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বিদ্রোহী গোষ্ঠী এম২৩ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে ১৯ মেয়ে ও পাঁচ ছেলেসহ মোট ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২৯ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে।
বুকাভু পাহাড়ঘেরা ও ঘনবসতিপূর্ণ শহর। শহরটির অধিকাংশ ঘরবাড়ি কাঠের তৈরি হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অপরিকল্পিত বিদ্যুৎ সংযোগ ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে সেখানে প্রায়ই বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন: ইউক্রেনে শপিং মলে রুশ ড্রোন হামলা, নিহত ৫
এর আগে গত অক্টোবরেও শহরটিতে অগ্নিকাণ্ডে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যাদের অধিকাংশই ছিল শিশু।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি








