নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২১:০৪, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাজীপুরে লাগেজ ও বস্তা থেকে নারীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার

গাজীপুরে লাগেজ ও বস্তা থেকে নারীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুর এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশের একটি কালভার্টের নিচ থেকে লাগেজ ও পাটের বস্তায় রাখা অজ্ঞাত এক নারীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভবানীপুর ও মেম্বারবাড়ী বাজারের মধ্যবর্তী নির্জন এলাকায় মরদেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, অন্য কোথাও ওই নারীকে হত্যার পর মরদেহ খণ্ডিত করে পৃথকভাবে লাগেজ ও বস্তায় ভরে রাতের কোনো এক সময় কালভার্টের নিচে ফেলে রাখা হয়ে থাকতে পারে। তবে হত্যার স্থান, সময়, কারণ কিংবা ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভবানীপুর এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে হামজা অ্যাপারেলস লিমিটেডের কাছাকাছি একটি সেতু/কালভার্টের নিচের সরু খালের পানিতে শুক্রবার বিকেলে স্থানীয়রা একটি পরিত্যক্ত লাগেজ ভাসতে দেখেন। প্রথমে বিষয়টি সাধারণ কোনো পরিত্যক্ত ব্যাগ বলে মনে হলেও পরে ব্যাগের ভেতর থেকে মানুষের পায়ের অংশ বেরিয়ে থাকতে দেখে তাদের সন্দেহ হয়। স্থানীয়রা দ্রুত জয়দেবপুর থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পানির মধ্য থেকে লাগেজটি উদ্ধার করে। লাগেজ খুলতেই ভেতরে এক নারীর কোমরের নিচের অংশ পাওয়া যায়। মরদেহের অবস্থা ছিল অর্ধগলিত।

লাগেজ থেকে মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলের আশপাশে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে কালভার্টের কাছাকাছি পানিতে আরও একটি পাটের বস্তা ভাসতে দেখা যায়। সেটি উদ্ধার করে খোলার পর নারীর মাথাসহ শরীরের বাকি অংশ পাওয়া যায়। ফলে পুলিশ ধারণা করছে, মরদেহটি একাধিক অংশে বিভক্ত করে পৃথক দুটি পাত্রে ভরে সেখানে ফেলে রাখা হয়েছিল। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে লাগেজটি পানিতে ভাসতে দেখে তারা কাছে যান এবং ভেতরে মানুষের পা দেখতে পান। পরে পুলিশ এসে তল্লাশি চালালে পাশের পানিতে থাকা বস্তাটির সন্ধান মেলে।

মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক উৎসুক মানুষ জড়ো হন। মহাসড়কের পাশের নির্জন ওই স্থানে পুলিশের উপস্থিতির মধ্যেই স্থানীয়দের ভিড় বাড়তে থাকে। পরে পুলিশ মরদেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরিচয় শনাক্তের জন্য মরদেহের অংশগুলো ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: লালবাগে মাটি খুঁড়ে ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার, আটক ১

জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল-মামুন জানান, উদ্ধার হওয়া নারীর বয়স আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ বছর হতে পারে। তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরিচয় শনাক্তের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলছে। একই সঙ্গে কীভাবে ওই নারী হত্যার শিকার হয়েছেন, কোথায় তাকে হত্যা করা হয়েছে এবং কারা মরদেহ খণ্ডিত করে সেখানে ফেলে গেছে এসব বিষয় সামনে রেখে তদন্ত করা হচ্ছে।

ওসি আল-মামুন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অন্য কোনো স্থানে ওই নারীকে হত্যা করার পর তার মরদেহ খণ্ডিত করে লাগেজ ও বস্তায় ভরে রাতের আঁধারে কালভার্টের নিচে ফেলে রাখা হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়। মরদেহের পরিচয় শনাক্ত এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে পুলিশ কাজ করছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলটি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে হলেও মরদেহ ফেলে রাখার নির্দিষ্ট স্থানটি তুলনামূলক নির্জন। এ কারণে দুর্বৃত্তরা সুযোগ বুঝে সেখানে মরদেহ ফেলে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মরদেহ সেখানে কখন আনা হয়েছে কিংবা কোনো যানবাহন ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি পুলিশ। আশপাশের এলাকা, সম্ভাব্য যাতায়াতের পথ এবং ঘটনাস্থলের পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে।

এদিকে নারীর পরিচয় শনাক্ত হওয়াকে তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছে পুলিশ। পরিচয় পাওয়া গেলে তার স্বজন, সাম্প্রতিক চলাফেরা, নিখোঁজ হওয়ার তথ্য এবং সম্ভাব্য বিরোধের সূত্র ধরে হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করা সহজ হবে বলে মনে করছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর ধরন ও শরীরে আঘাতের ধরন সম্পর্কেও আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

বর্তমানে ঘটনাটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। নিহত নারীর পরিচয় ও হত্যার মোটিভ নিশ্চিত না হওয়ায় তদন্তের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধারের ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড কি না এবং হত্যার পর মরদেহ গোপন করার উদ্দেশ্যেই তা সেখানে ফেলা হয়েছিল কি না, সেসব বিষয়ও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

ঘটনার পর জয়দেবপুর থানায় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অজ্ঞাত ওই নারীর পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি মরদেহ ফেলে যাওয়ার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়