বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠকে ব্রিটিশ হাইকমিশনার
ছবি: সংগৃহীত
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
বিএনপির মিডিয়া সেল সূত্রে জানা গেছে, সাক্ষাৎকালে ব্রিটিশ হাইকমিশনার রিজভীকে শুভেচ্ছা জানান এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা করেন।
সাক্ষাতে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক, সহযোগিতা এবং ভবিষ্যতে সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয় গুরুত্ব পায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে বৈঠকে আলোচিত নির্দিষ্ট বিষয় বা কোনো সিদ্ধান্তের বিস্তারিত তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। বিএনপির পক্ষ থেকেও বৈঠকটিকে সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
সাক্ষাৎকালে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সহকারী কেট ওয়ার্ড উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের একান্ত সচিব (পিএস) কাজী নজরুল ইসলাম এবং সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) জাহেদুল আলমও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিটিশ কূটনীতিকদের সঙ্গে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের ধারাবাহিক যোগাযোগের মধ্যে রিজভীর সঙ্গে সারাহ কুকের এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হলো। এর আগে চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে গুলশানে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছিলেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। ওই বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক যুগ্ম মহাসচিব ও বিএনপি চেয়ারম্যানের ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজরি কাউন্সিলের সদস্য হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্কসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: ধর্ষণ-নারী নির্যাতনসহ সব অপরাধ মুছে দিতে চাই: রিজভী
এরপর ১৮ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আবারও সাক্ষাৎ করেন সারাহ কুক। ওই বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের বিদ্যমান সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ খাতে সহযোগিতা, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশে ব্রিটিশ বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয় আলোচনা হয়। একই বৈঠকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর পর বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতে ব্রিটিশ বিনিয়োগের আগ্রহের কথাও জানান ব্রিটিশ হাইকমিশনার।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পরিধি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, অভিবাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তৃত। চলতি বছরের জুনে ব্রিটিশ হাইকমিশনের পক্ষ থেকেও দুই দেশের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সারাহ কুকের বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি শিক্ষা, অভিবাসন ও সরকারি সেবা প্রদানের ক্ষেত্রেও সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে ব্রিটিশ হাইকমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
এদিকে বিএনপির নেতাদের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের নিয়মিত যোগাযোগের ধারাবাহিকতায় দলটির শীর্ষ পর্যায়ে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সারাহ কুকের বৈঠকের পর দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছিলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করার বিষয়ে বিএনপি আগ্রহী। তিনি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার কথা বলেছিলেন।
রিজভীর সঙ্গে সোমবারের বৈঠকটি সেই ধারাবাহিক কূটনৈতিক যোগাযোগেরই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বৈঠকে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট ইস্যুতে কী আলোচনা হয়েছে এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। বৈঠক শেষে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়টিই প্রকাশ্যে এসেছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








